রহস্যজনক নিখোঁজের পরদিন পুকুরে ভেসে উঠল শিশুর মৃতদেহ

আপডেট : ২১ আগস্ট ২০২৬, ০৯:১৬ পিএম

ফেনীর সোনাগাজীতে রহস্যজনক নিখোঁজের ১৬ ঘন্টা পর বাড়ির পুকুরে ভেসে উঠেছে শিশু সিদরাতুল মুনতাহা আয়াতের (৩) মৃতদেহ। এ ঘটনায় থানায় শিশুর দাদা ও মায়ের পাল্টাপাল্টি অভিযোগ দায়েরের পর মৃত্যরহস্য নিয়ে ধুম্রজাল তৈরি হয়েছে। এ ঘটনা ঘটেছে উপজেলার চরচান্দিয়া ইউনিয়নের ঈদগাঁও সংলগ্ন মোজাফফর বাড়িতে।

জানা গেছে, বৃহস্পতিবার (২০ আগস্ট) দুপুরে মুনতাহা নানার বাড়ির থেকে দাদা বাড়িতে গিয়ে নিখোঁজ হয়। পরে শুক্রবার (২১ আগস্ট) ভোরে নিজ বাড়ির পুকুরে তার মৃতদেহ ভাসতে দেখে দাদা শেখ মজিব চিৎকার শুরু করলে তার নানা ও মাসহ অন্যরা এসে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যায়। এ সময় চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষনা করলে পুলিশ ময়না তদন্তের জন্য মৃতদেহ ফেনী আধুনিক সদর হাসপাতালে মর্গে প্রেরণ করে।

মুনতাহা শেখ সাহাব সজীব ও জান্নাতুল ফেরদাউস মনির কন্যা। সজিব ও মনি স্বামী-স্ত্রী ছাড়াও আপন চাচাতো ও জেঠাতো ভাই-বোন।

সংশ্লিষ্ট সুত্রে জানা গেছে, শেখ মুজিবের ছেলে শেখ শাহাব সজিব ও তার ভাই শেখ আলীর কন্যা জান্নাতুল ফেরদাউস মনির সঙ্গে পাঁচ বছর পূর্বে বিয়ে হয়। বিয়ের এক বছরের মাথায় সজিব সৌদি আরব চলে যান। সে সৌদি আরব চলে যাওয়ার কিছুদিন পর তার স্ত্রীর সাথে শ্বশুর শাশুড়ির মধ্যে মনমালিন্য হলে মনি তার মেয়েকে নিয়ে বাবার বাড়িতে চলে যায়।

অভিযোগ রয়েছে, গত কিছু দিন আগে শিশুর দাদা, দাদি, ফুফু ও চাচা মিলে শিশুটিকে এক আত্মীয়ের বাড়িতে লুকিয়ে রাখেন। শিশুর মায়ের অভিযোগের প্রেক্ষিতে স্থানীয় সাবেক চেয়ারম্যান শামছুউদ্দিন খোকনের মধ্যস্থতায় শিশুটিকে তার মায়ের কাছে ফেরত দেন। আগামী মাসে সৌদি আরব থেকে সজিব দেশে আসার কথা রয়েছে।

শিশুর মা জান্নাতুল ফেরদৌস বলেন, দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে মেয়েকে বুকে নিয়ে স্বামী আসার অপেক্ষার প্রহর গুনছি। বৃহস্পতিবার দুপরে মুনতাহাকে দাদির কাছে রেখে বাবার ঘরে গৃহস্থালির কাজ করছিলাম। তারপর থেকে মুনতাহার কোন সন্ধান পায়নি। মুনতাহা কোথায় বার বার জানতে চাইলেও আমার শ্বশুর শাশুড়ি কোন সদুত্তর দিতে পারেনি। পরে আমি সন্ধ্যায় মুনতাহার দাদাসহ তিনজনের নাম উল্লেখ করে সোনাগাজী মডেল থানায় লিখিত অভিযোগ দায়ের করি। এরপর জানতে পারি আমার শ্বশুর বিকাল তিনটার দিকে থানায় নিখোঁজ ডায়েরী করেছেন।

তিনি শ্বশুর শাশুড়িকে দায়ী করে আরও বলেন, আমি আমার মেয়ের মৃত্যুর ঘটনায় ষুষ্ঠ তদন্ত হোক, দোষী যে হোক তার শাস্তি চাই। অভিযোগ অস্বীকার করে মুনতাহার দাদা শেখ মজিব বলেন, আমি চাই আমাদের নাতনির মৃত্যু রহস্য উদঘাটিত হোক। আমি থানায় অভিযোগ করেছি, পারিবারিক মনমালিন্য থাকতে পারে তাই বলে নিজ নাতনির মৃত্যুর জন্য আমাদের অভিযুক্ত করা মেনে নিতে পারছি না।

এদিকে ময়না তদন্ত শেষে শুক্রবার বিকালে জানাজা শেষে মুনতাহাকে পারিবারিক কবরস্থানে দাফন করা হয়।
সোনাগাজী মডেল থানার ওসি মোহাম্মদ আবুল হাসিম বলেন, এ ঘটনায় থানায় অপমৃত্যু মামলা করা হয়েছে। ময়না তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পেলে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত