সরকারি খাল দখল ও অপরিকল্পিত মাছের ঘের নির্মাণের ফলে যশোরের মণিরামপুরের কাকুড়িয়া বিলে জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়েছে। এতে প্রায় ৪৫০ হেক্টর ফসলি জমি ও বীজতলা পানিতে তলিয়ে যাওয়ার আশঙ্কায় বিপাকে পড়েছেন হাজারো কৃষক। পানি নিষ্কাশনের দাবিতে প্রশাসনের দ্বারে দ্বারে ঘুরেও কার্যকর সমাধান না পাওয়ার অভিযোগ পাওয়া গেছে।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, বর্ষা মৌসুমে মণিরামপুর উপজেলার ভোজগাতি, সদর ও কাশিমনগর এই তিনটি ইউনিয়নের বৃষ্টির পানি কাকুড়িয়া বিলে জমা হয়। মণিরামপুর ভূমি প্রশাসন ও মৎস্য দপ্তরের চরম দায়িত্বহীনতার সুযোগ নিয়ে কাকুড়িয়া বিলের পানি নিষ্কাশনের সংযোগ খাস খালগুলো দখল, ১৫০ থেকে ১৮০টি অপরিকল্পিত ও অবৈধভাবে মাছের ঘের নির্মাণের অভিযোগ রয়েছে।
কাকুড়িয়া বিলের কৃষক নূর ইসলাম বলেন, ২০১৮ সালের পর থেকে বিলে মাছের ঘের নির্মাণ শুরু হলে দুর্ভোগও শুরু হয়। মাছের ঘের করে অনেকে এখন কোটিপতি হয়েছেন। অথচ ঘেরের কারণে পানি নিষ্কাশন বাধাগ্রস্ত হয়ে কৃষকরা ক্ষতির মুখে পড়েছেন।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মৃত্তিকা, পানি ও পরিবেশ বিজ্ঞান বিভাগের অধ্যাপক ড. এএসএম মহিউদ্দীন জানান, মণিরামপুরের কাকুড়িয়া বিল বর্ষা মৌসুমে বিশাল স্পঞ্জের মতো কাজ করে। চার থেকে পাঁচ মাস পানি জমে থাকায় এটি ভূগর্ভস্থ পানির স্তর পুনর্ভরণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। জীবন-জীবিকা, কৃষি ও পরিবেশের জন্য বিলটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পাশাপাশি এটি দেশীয় প্রজাতির মাছের প্রধান প্রজননক্ষেত্র। তাই বিলে মাছের ঘের নির্মাণ বন্ধ এবং এর জন্য দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি।
এ ব্যাপারে মণিরামপুর উপজেলা ইউএনও সম্রাট হোসেন জানান, কৃষকদের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তিনি কাকুড়িয়া বিল পরিদর্শন করেছেন। পানি নিষ্কাশনের বিষয়টি আইনগতভাবে খতিয়ে দেখা হবে। এ বিষয়ে পানি উন্নয়ন বোর্ডের সঙ্গে কথা বলা হবে। পানি নিষ্কাশনের কাজ কীভাবে ও কার মাধ্যমে করা হবে, সে বিষয়ে ব্যবস্থা নেবে।