কলকাতায় আগুন: দেশে সাজুর মরদেহ, ভারতে সৎকার রেবতীর

বাকি পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০৫:৫২ পিএম

ভারতের কলকাতার একটি আবাসিক হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের এস এম আলিমুজ্জামান সাজুর মরদেহ দেশে আনা হয়েছে। 

শনিবার (২২ আগস্ট) দুপুরে ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে মরদেহটি বাংলাদেশে আনার পর স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। পরে অ্যাম্বুলেন্সে করে মরদেহটি কালীগঞ্জ উপজেলার বরেয়া গ্রামের বাড়িতে নেওয়া হয়। 

সাজুর মরদেহের অপেক্ষায় শনিবার সকাল থেকেই ভোমরা স্থলবন্দরে অপেক্ষা করেন তাঁর স্বজনেরা।

স্বজনেরা জানান, ভারতের কলকাতার পার্ক সার্কাস এলাকার পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘর থেকে মরদেহবাহী অ্যাম্বুলেন্স সড়কপথে ভারতের ঘোজাডাঙ্গা ইমিগ্রেশন এলাকায় পৌঁছায়। প্রয়োজনীয় আনুষ্ঠানিকতা শেষে দুপুর ১২টা ১৫ মিনিটে মরদেহটি ভোমরা স্থলবন্দর দিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করে।

ভোমরা স্থলবন্দর ইমিগ্রেশন চেকপোস্টের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা সজীব বালা বলেন, ভারতীয় ইমিগ্রেশন কর্তৃপক্ষের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করতে কিছুটা সময় লেগেছে। দুপুরের দিকে মরদেহ হস্তান্তরের পর ১৫ মিনিটের মধ্যে তা পরিবারের কাছে বুঝিয়ে দেওয়া হয়।

এদিকে একই অগ্নিকাণ্ডে নিহত সাতক্ষীরার কালীগঞ্জের তেঁতুলিয়া গ্রামের রেবতী সরকারের মরদেহ দেশে আনা হয়নি। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, শুক্রবার রাতেই কলকাতার নিমতলা শ্মশানে তাঁর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়েছে।

রেবতীর ছেলে অনিক সরকার জানান, তিনি ভারতের উত্তরাখণ্ডে দাদা-দাদির কাছে ছিলেন। মায়ের মৃত্যুর খবর পেয়ে শুক্রবার ট্রেনে কলকাতায় পৌঁছান। তখন তাঁর মায়ের মরদেহ কলকাতার মর্গে রাখা ছিল। পরে তাঁর বাবাও কলকাতায় যান। পরিবারের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, রাত সাড়ে ৩টার দিকে নিমতলা শ্মশানে রেবতীর শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।

কলকাতায় অবস্থিত বাংলাদেশ উপহাইকমিশনের কর্মকর্তা ওমর ফারুক আকন্দ জানান, অগ্নিকাণ্ডে নিহত বাংলাদেশি নাগরিকদের মরদেহ দেশে ফেরত পাঠাতে উপহাইকমিশনের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় সহযোগিতা করা হয়েছে। কাগজপত্র ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষ করে মরদেহ হস্তান্তরের ব্যবস্থা করা হয়।

গত ১৯ আগস্ট ভোরে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার মির্জা গালিব স্ট্রিটের ‘শিখা ইন’ আবাসিক হোটেলে আগুন লাগে। এ ঘটনায় নয়জন নিহত হন। তাঁদের মধ্যে সাতজন বাংলাদেশি নাগরিক। নিহত বাংলাদেশিদের মধ্যে সাতক্ষীরার সাজু ও রেবতী সরকার ছাড়াও কুষ্টিয়ার চারজন এবং ঢাকার একজন রয়েছেন।

অন্যদিকে, বাকি পাঁচ বাংলাদেশির মরদেহ বহনকারী অ্যাম্বুলেন্সও স্থানীয় সময় সকাল ১০টার দিকে পিস ওয়ার্ল্ড হিমঘর থেকে বাংলাদেশের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা। সড়কপথে বেনাপোল স্থলসীমান্ত দিয়ে মরদেহগুলো দেশে আনা হবে।

নিহতরা হলেন- কুষ্টিয়ার বাসিন্দা দেবাশীষ দত্ত, তার স্ত্রী আফসানা শারমীন, তাদের তিন বছর বয়সী সন্তান শর্ণশীষ দত্ত, তার শ্বশুর মো. আকরাম আলী এবং ঢাকার সাভারের আহামেদ বাবু।

উল্লেখ্য, গত মঙ্গলবার রাতে কলকাতার নিউমার্কেট এলাকার শিখা ইন হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটে। এতে সাত বাংলাদেশিসহ মোট নয়জনের মৃত্যু হয়। নিহত দুই ভারতীয় নাগরিক হলেন ঝাড়খণ্ডের সন্দীপ পাশওয়ান ও শিলিগুড়ির যোগ নারায়ণ আগরওয়াল।

এদিকে, অগ্নিকাণ্ডের তিন দিন পেরিয়ে গেলেও হোটেলটির মালিক বীরেশ্বর মিত্রকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি কলকাতা পুলিশ। তাকে ধরতে শহরের বিভিন্ন এলাকায় তল্লাশি চালানো হলেও এখনো তার সন্ধান মেলেনি। ঘটনার পরদিন থেকেই তার মোবাইল ফোন বন্ধ রয়েছে বলে জানা গেছে।

অগ্নিকাণ্ডের পর ধর্মতলা, মার্কুইস স্ট্রিট, মির্জা গালিব স্ট্রিট ও এসএন ব্যানার্জি রোডসহ বিভিন্ন এলাকায় অভিযান চালাচ্ছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। ইতোমধ্যে আবাসিক হোটেল, লজ ও অতিথিশালাসহ প্রায় ৫০টি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান বন্ধের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত