মতলব উত্তরে খানাখন্দে ভরা সড়কে দুর্ভোগ চরমে

আপডেট : ২২ আগস্ট ২০২৬, ০২:০৫ পিএম

চাঁদপুরের মতলব উত্তর উপজেলার সুলতানাবাদ ইউনিয়নের দাশের বাজার থেকে রসুলপুর স্ট্যান্ড পর্যন্ত ১.৫ কিলোমিটার রাস্তার একাধিক স্থানে অসংখ্য খানা-খন্দক সৃষ্টি হওয়ায় ঝুঁকি নিয়ে চলছে যানবাহন। রাস্তা খারাপ হওয়ায় একধিক দুর্ঘটনা ঘটছে। প্রায় এক যুগ সময় পার হয়ে গেলেও রাস্তাটির  সংস্কার না করায় গুরুত্বপূর্ণ এই রাস্তাটি খান-খন্দে ভরপুর হয়ে পড়ে।  

ফতেপুর পূর্ব, সুলতানাবাদ ও ইসলামাবাদ ইউনিয়নের হাজার হাজার মানুষের একমাত্র ও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগের পথ এই সড়কটি। ঐতিহ্যবাহী ইন্দুরিয়া উচ্চ বিদ্যালয়, মুন্সি আজিম উদ্দিন ডিগ্রি কলেজ, জমিলা খাতুন উচ্চ বিদ্যালয়, মতলব সরকারি হাসপাতাল, মতলব সরকারি কলেজ ও রয়মনেননেছা মহিলা কলেজসহ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের অসংখ্য শিক্ষার্থী ও রোগী-স্বজন প্রতিদিন এই পথেই যাতায়াত করেন। কিন্তু বর্তমানে সড়কটি সম্পূর্ণ ভেঙে গিয়ে মারাত্মক জরাজীর্ণ ও চলাচলের একদম অনুপযোগী হয়ে পড়েছে। ফলে চাকরিজীবী, কৃষক, ব্যবসায়ীসহ সর্বস্তরের সাধারণ মানুষ প্রতিনিয়ত জীবনের চরম ঝুঁকি নিয়ে এই পথ দিয়ে যাতায়াত করতে বাধ্য হচ্ছেন

দাসের বাজারের ব্যবসায়ী, সেলিম সরকার বলেন, সড়কটির করুণ অবস্থার কারণে আমাদের ব্যবসাবাণিজ্য প্রায় ধ্বংসের মুখে। বর্ষাকালে খানাখন্দে যানবাহন আটকে যায়, মালপত্র আনা-নেওয়া করা অসম্ভব হয়ে পড়ে। ক্রেতারাও বাধ্য হয়ে অন্য বাজারে চলে যান। দ্রুত এই সড়কটি সংস্কার না করা হলে আমাদের চরম লোকসান গুনতে হবে।"

ইসলামাবাদ গ্রামের মতলব ডিগ্রী কলেজের ছাত্র মো. মাসুদ বলেন, প্রতিদিন আমাদের এই ভাঙা সড়ক দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে কলেজে যাতায়াত করতে হয়। ছোটখাটো দুর্ঘটনা এখন নিত্যদিনের ঘটনা। বৃষ্টি হলে কোনো যানবাহন যেতে চায় না, আর গেলেও দ্বিগুণ ভাড়া দাবি করে। এতে আমাদের মতো শিক্ষার্থীদের প্রতিদিন চরম ভোগান্তি ও বিড়ম্বনায় পড়তে হচ্ছে।

ইজিবাইক চালক মাহাবুল বিশ্বাস একই সুরে বলেন, ‘প্রতিদিন ইজিবাইকের কোনো না কোনো পার্টস ভাঙছে। মেরামতের খরচ চালাতে গিয়ে আমাদের লাভ থাকছে না। জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমাদের যাত্রী নিয়ে চলাচল করতে হয়।’

স্থানীয় ইউপি সদস্য মো মাসুম জানান, ২০১০ সালে রাস্তাটি পাকা করার পর থেকে আর কখনোই কোনো সংস্কার কাজ করা হয়নি। অথচ আমাদের এলাকার সাধারণ মানুষের যাতায়াতের জন্য এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক।

উপজেলা প্রকৌশলী সোহেল আনোয়ার জানান, রাস্তাঘাট সংস্কার বা নির্মাণের ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট কিছু প্রশাসনিক নিয়ম অনুসরণ করতে হয়। মূলত উপজেলা ও ইউনিয়ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ সংযোগ সড়কগুলোকে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে উন্নয়ন তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়। সংশ্লিষ্ট সড়কটি যদি জিপিপি (GPP) উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় তালিকাভুক্ত থাকে, তবে গুরুত্বের সাথে তা বাস্তবায়ন করা হবে।

মতলব উত্তর উপজেলা নির্বাহী অফিসার মাহমুদা কুলসুম মনি বলেন, ‘সড়কটির বেহাল অবস্থার বিষয়ে আমি অবগত ছিলাম না। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি সড়ক। জরাজীর্ণ এই সড়কটি দ্রুত সংস্কারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত