সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর হামলা, ফের গ্রেপ্তার ‘ইয়াবা হুমায়ুন’

আপডেট : ৩০ আগস্ট ২০২৬, ০৭:৩৯ পিএম

মানিকগঞ্জের সিংগাইরে ‘ইয়াবা হুমায়ুন’ নামে পরিচিত হুমায়ুন (৪০) নামে এক ব্যক্তিকে আবারও গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। তার বিরুদ্ধে সাংবাদিক ও পুলিশের ওপর হামলা, বিস্ফোরকদ্রব্য-সংক্রান্ত মামলা, পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগসহ একাধিক মামলা রয়েছে বলে পুলিশ জানিয়েছে।

হুমায়ুন উপজেলার ধল্লা ইউনিয়নের লক্ষ্মীপুর গ্রামের মৃত গাদুর ছেলে। শনিবার (২৯ আগস্ট) বিকেলে ধল্লা এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে তাকে আদালতে পাঠানো হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছেন সিংগাইর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মাজহারুল ইসলাম।

পুলিশের ভাষ্য, সিংগাইরে প্যারামাউন্টের সামনে সংঘটিত বিস্ফোরকদ্রব্য-সংক্রান্ত একটি মামলার তদন্তে হুমায়ুনের সম্পৃক্ততার তথ্য পাওয়া গেছে। এ ছাড়া তার বিরুদ্ধে বিভিন্ন অভিযোগে একাধিক মামলা রয়েছে।

থানা ও মামলার নথি-সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, সংবাদ প্রকাশেরদের ধরে ২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল দৈনিক ভোরের কাগজের সিংগাইর প্রতিনিধি ও দৈনিক ফুলকির স্টাফ রিপোর্টার মাসুম বাদশাহের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় পরদিন ১৬ এপ্রিল সিংগাইর থানায় মামলা নম্বর ২৭ দায়ের করা হয়। মামলায় হুমায়ুনের চার্জসীট ভুক্ত আসামি বলে জানা গেছে।

এর কয়েকদিন পর সিংগাইর থানার তৎকালীন সেকেন্ড অফিসার এসআই পার্থ শেখর ঘোষসহ দুই পুলিশ কনস্টেবলের ওপর হামলার ঘটনা ঘটে। এ ঘটনায় এসআই পার্থ শেখর ঘোষ বাদী হয়ে সিংগাইর থানায় মামলা নম্বর ২৯ দায়ের করেন। ওই মামলাতেও হুমায়ুন আসামি বলে পুলিশ সূত্রে জানা গেছে।

এ ছাড়া ধল্লা পুলিশ ফাঁড়িতে ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের মামলাতেও হুমায়ুন আসামি। এর আগে বিভিন্ন মামলায় তাকে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল বলেও পুলিশ জানিয়েছে। সব মিলিয়ে তার বিরুদ্ধে প্রায় অর্ধডজন মামলা চলমান রয়েছে বলে সংশ্লিষ্ট বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।

স্থানীয় কয়েকজন বাসিন্দার অভিযোগ, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ে হুমায়ুনের পরিবারের সদস্যরা রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী ছিলেন এবং বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা পেয়েছেন। তার বোন সালেহা জাহান জেলা যুব মহিলা লীগের নেত্রী ছিলেন বলেও স্থানীয়রা জানান।

স্থানীয় সূত্রের দাবি, সরকার পরিবর্তনের পর পরিবারের রাজনৈতিক অবস্থানেও পরিবর্তন আসে। এরপর বিএনপির কয়েকজন নেতার সঙ্গে ঘনিষ্ঠতার সূত্র ধরে হুমায়ুনসহ তার পরিবারের লোকজনের বিরুদ্ধে বিভিন্ন অপকর্মে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ ওঠে।

এদিকে হুমায়ুন গ্রেপ্তারের পর তাকে ছাড়িয়ে নিতে বিএনপির কয়েকজন নেতার পক্ষ থেকে তদবির ও পুলিশের ওপর চাপ প্রয়োগের চেষ্টা করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট বিএনপি নেতাদের বক্তব্য দিতে নারাজ।

সিংগাইর থানার ওসি মো. মাজহারুল ইসলাম বলেন, হুমায়ুনের বিরুদ্ধে একাধিক মামলা ও অভিযোগ রয়েছে। মামলাগুলোর তদন্তে তার সম্পৃক্ততার বিষয়ে যেসব তথ্য পাওয়া যাচ্ছে, সেগুলোর ভিত্তিতে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত