বরগুনার তালতলীতে হাসপাতালের রোগীদের নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করার অভিযোগ ফার্মেসি ব্যবসায়ী মো. খাইরুল ইসলামকে মারধরের অভিযোগ উঠেছে ছাত্রদল নেতা ও আনোয়ারা মেডিকেলের মালিক মো.আল মামুনের বিরুদ্ধে।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকাল ১১টার দিকে তালতলী উপজেলা শহরের বেটার লাইফ ডায়াগনস্টিক সেন্টারের সামনে হামলার ঘটনা ঘটে।
ভুক্তভোগী ও স্থানীয় জানায়, খাইরুল ইসলাম তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের প্রধান ফটকের সামনে ‘আন নাফি মেডিসিন জোন’ নামে একটি ফার্মেসি পরিচালনা করেন। দীর্ঘদিন ধরে ব্যবসায়িক বিরোধের জেরে জেলা ছাত্রদলের সহ-সাধারণ সম্পাদক ও আনোয়ারা মেডিকেলের মালিক আল মামুন তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি এবং প্রাণনাশের হুমকি দিয়ে আসছেন।
সম্প্রতি ছাত্রদলের সহ-সাধারন সম্পাদক ও আনোয়ারা মেডিকেলের মালিক আল মামুন ক্ষমতার প্রভাব খাটিয়ে তালতলী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের অভ্যন্তরে অবস্থান করে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনা, চিকিৎসকদের ব্যবস্থাপত্র সংগ্রহ এবং রোগীদের নির্দিষ্ট ফার্মেসি থেকে ওষুধ কিনতে বাধ্য করেন। এসব বিষয়ে প্রতিকার চেয়ে খাইরুল ইসলামসহ হাসপাতালসংলগ্ন কয়েকজন ফার্মেসি ব্যবসায়ী উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তার কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। ওই অভিযোগ প্রত্যাহার করে নেওয়ার জন্য তাকে বিভিন্ন সময় হুমকি-ধামকি দেওয়া হয়। এর জেরে আজ সকালে আল মামুন ও তার ভাই মাহফুজসহ ১০ জন তাকে ধরে নিয়ে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের ভেতরে নিয়ে এলোপাতাড়ি মারধর করা হয়। এ সময় অভিযুক্তরা তার সাথে থাকা মোবাইল ফোন এবং নগদ টাকা ছিনিয়ে নেয়। পরে ডায়াগনস্টিক সেন্টারের কর্মী ও স্থানীয়রা এগিয়ে এসে তাকে উদ্ধার করে। পরে খবর পেয়ে তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলামসহ পুলিশের একটি দল ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে।
অভিযোগের বিষয়ে জানতে আনোয়ারা মেডিকেলের মালিক মো. আল মামুনের মুঠোফোনে একাধিকবার কল করা হলেও তার বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
জেলা ছাত্রদলের সভাপতি সানাউল্লাহ সানি বলেন, দলীয় পরিচয় কাউকে মারধর বা অনিয়ম করার সুযোগ নেই। লিখিত অভিযোগ পেলে আমরা তদন্ত করে ব্যবস্থা নেব।
তালতলী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সাইদুল ইসলাম বলেন,খবর পেয়ে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। ঘটনাস্থলের ভিডিও ফুটেজ সংগ্রহ করে ঘটনার সত্যতা যাচাই করা হবে। তদন্ত সাপেক্ষে পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।