ফুটবল বিশ্বকে বছরের পর বছর জাদুকরী আনন্দে ভাসিয়ে দেওয়ার পর নীল-সাদা জার্সির পাট চুকিয়েছেন লিওনেল মেসি। মহাতারকার এই প্রস্থানে আলবিসেলেস্তের অন্দরে যে বিশাল ফাঁকা জায়গার সৃষ্টি হয়েছে, তা সহজে পূরণ হওয়ার নয়। তবে মেসির এই বিদায়ঘণ্টার রেশ কাটতে না কাটতেই বিশ্বচ্যাম্পিয়ন শিবিরে হানা দিয়েছে আরও এক গভীর শঙ্কা।
এবার ডাগআউটের মাস্টারমাইন্ড লিওনেল স্কালোনির ভবিষ্যৎ নিয়েও ঘনিয়ে এসেছে কালো মেঘ। মাঠের জাদুকর আর নেপথ্যের কারিগরের একসঙ্গে বিদায় নেওয়ার এই প্রবল সম্ভাবনায় এখন ঘোর অনিশ্চয়তার মুখে দাঁড়িয়ে আছে আর্জেন্টিনা ফুটবল।
আগামী দিনগুলোতে দলটির সামনে রয়েছে ২০২৮ কোপা আমেরিকা (যুক্তরাষ্ট্রে আয়োজিত হতে পারে) এবং ২০৩০ বিশ্বকাপের বাছাইপর্ব (স্বাগতিক হিসেবে আগেই নিশ্চিত থাকা সত্ত্বেও দলটিকে এই পর্বে খেলতে হবে)। এমন গুরুত্বপূর্ণ সব টুর্নামেন্টের আগে মহাতারকাকে ছাড়াই বড় সব ধোঁয়াশার মুখোমুখি হতে হচ্ছে আলবিসেলেস্তেদের।
মেসি আন্তর্জাতিক আঙিনাকে বিদায় জানানোর পরপরই দলটির অন্দরে সবচেয়ে বড় আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে চলে এসেছেন কোচ স্কালোনি। চলতি বছরের ডিসেম্বরেই আর্জেন্টিনার সঙ্গে তাঁর চুক্তির মেয়াদ ফুরিয়ে আসছে। এর আগে বিশ্বকাপের এবারের আসরের ফাইনাল শেষে নিজের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রচ্ছন্ন এক ইঙ্গিত দিয়ে রেখেছিলেন তিনি। এখন মেসির চলে যাওয়ার পর স্কালোনির ডাগআউটে থাকা না থাকা নিয়ে তৈরি হয়েছে তীব্র ধোঁয়াশা। যদিও আসন্ন ম্যাচগুলোতে তিনি সাময়িকভাবে দলের দায়িত্ব সামলাবেন, তবে দীর্ঘমেয়াদে এই সফল কোচের থাকা নিয়ে বড় প্রশ্নচিহ্ন ঝুলে রয়েছে।
মেসি, নিকোলাস ওতামেন্দির মতো অভিজ্ঞদের বিদায়ের মিছিলে যোগ দিতে পারেন রদ্রিগো ডি পল, লিয়ান্দ্রো পারেদেস কিংবা গোলরক্ষক ‘দিবু’ মার্তিনেজের মতো দলের অন্য স্তম্ভেরাও। এতে আসছে বছরগুলোতে এক সম্পূর্ণ নতুন চেহারার আর্জেন্টিনার মুখোমুখি হতে হবে বিশ্বকে। বিগত পাঁচ বছরে চারটি ঐতিহাসিক শিরোপা এনে দেওয়া এই সোনালী প্রজন্মের শূন্যস্থান পূরণ করতে এখন তরুণ প্রজন্মকে নিয়ে বড় দায়িত্ব কাঁধে নিতে হবে হুলিয়ান আলভারেজ, এনজো ফের্নান্দেস, আলেক্সিস ম্যাক অ্যালিস্টার ও থিয়াগো আলমাদাদের মতো উদীয়মান তারকাদের।
ভিলার মাঠে ১-০ গোলের জয়কে ‘বিশাল জয়’ বললেন আর্তেতা