হাটহাজারীতে অটোরিকশা ওয়ার্কশপের আড়ালে অস্ত্র তৈরির কারখানা

আপডেট : ০১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৮ পিএম

চট্টগ্রামের হাটহাজারীতে সিএনজি অটোরিকশা ওয়ার্কশপের আড়ালে দীর্ঘদিন ধরে পরিচালিত অস্ত্র তৈরির কারখানার সন্ধান পেয়েছে হাটহাজারী মডেল থানা পুলিশ। গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে পরিচালিত ধারাবাহিক অভিযানে ওই কারখানা থেকে দেশীয় পেনগানসহ ৫টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২০ রাউন্ড গুলি এবং অস্ত্র তৈরির বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়েছে। এ ঘটনায় অস্ত্র সরবরাহ ও বিক্রির সঙ্গে জড়িত ২ ব্যক্তিকেও গ্রেপ্তার করা হয়।

মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) বিকাল সাড়ে চারটার দিকে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনি এলাকায় চট্টগ্রাম নাজিরহাট আঞ্চলিক মহাসড়কের পাশে প্রেস ব্রিফিংয়ে এসব কথা জানান। এর আগে গত সোমবার দিবাগত রাত ২টার দিকে সরকারহাট বাজারে ওসমানের সিএনজি অটোরিকশা ওয়ার্কশপে অভিযান চালিয়ে এসব আগ্নেয়াস্ত্র-গুলি ও সরঞ্জাম এবং ওই দুই ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করা হয়।  

পুলিশ জানায়, অস্ত্র তৈরি ও সরবরাহের সঙ্গে জড়িত একটি চক্রের বিষয়ে তথ্য পাওয়ার পর হাটহাজারী থানা পুলিশ নজরদারি ও তথ্য যাচাই শুরু করে। এরই ধারাবাহিকতায় গত ৩১ আগস্ট দিবাগত রাত আনুমানিক ২টায় জেলা পুলিশ সুপার মো.মাসুদ আলম, বিপিএম এর দিক-নির্দেশনায় হাটহাজারী সার্কেলের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার কাজী মো. তারেক আজিজের নেতৃত্বে এসআই ফখরুল ইসলাম, এসআই আশিকুর রহমান ও এসআই নাজমুল ইসলাম সঙ্গীয় অফিসার-ফোর্সসহ মির্জাপুর ইউনিয়নের মনসুরাবাদ কলোনি এলাকায় অভিযান পরিচালনা করেন। 

অভিযানকালে মো.জামাল হোসেন প্রকাশ জামাল মিস্ত্রি (৪৪) ও মো. কবির (৪৭) কে গ্রেপ্তার করা হয়। তাদের হেফাজত থেকে ১টি অত্যাধুনিক পেনগান, ৪টি দেশীয় পিস্তল, ১৮টি পেনগানের গুলি ও ২টি পিস্তলের বুলেট উদ্ধার করা হয়। 

গ্রেপ্তারকৃতদের প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, হাটহাজারীর উপজেলার মির্জাপুর ইউনিয়নের সরকারহাট বাজারে উত্তর পাশে ওসমানের সিএনজি অটোরিকশা ওয়ার্কশপের আড়ালে দেশীয় আগ্নেয়াস্ত্র তৈরি করা হত। পরে এসব অস্ত্র বিভিন্ন স্থানে বিক্রির জন্য সরবরাহ করা হত।

প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে পুলিশ দ্রুত সরকারহাট বাজারে অবস্থিত ওই ওয়ার্কশপে অভিযান পরিচালনা করে। এ সময় সেখানে অস্ত্র তৈরির কার্যক্রমের বিভিন্ন আলামত পাওয়া যায় এবং অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জাম উদ্ধার করে জব্দ করা হয়।

চট্টগ্রাম জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) মাসুদ আলম জানান, অভিযানের মাধ্যমে অবৈধ অস্ত্র তৈরির একটি গুরুত্বপূর্ণ উৎসের সন্ধান পাওয়ার পাশাপাশি অস্ত্র সরবরাহকারী চক্রের সদস্যদের আইনের আওতায় আনা সম্ভব হয়েছে। এ ঘটনায় পলাতক ওসমানসহ সংশ্লিষ্ট অন্যান্য আসামিদের গ্রেপ্তারে পুলিশের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। অবৈধ অস্ত্রের বিস্তার রোধ এবং অস্ত্রের উৎস নির্মূলে চট্টগ্রাম জেলা পুলিশের এমন অভিযান ও আইনগত কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলেও জানান তিনি।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত