আমরা মুহাম্মদ (সা.)-এর উম্মত হিসেবে দুনিয়ায় এসেছি। দুনিয়ার এই সফরের ফল পাওয়া যাবে আখেরাতে। তা হতে পারে জান্নাত কিংবা জাহান্নাম। দুনিয়ার সফলতা বলতে অনেকেই মনে করেন, টাকা-পয়সা, গাড়ি-বাড়ি কিংবা উচ্চ মর্যাদা। কিন্তু রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি জাহান্নাম থেকে মুক্ত হয়ে জান্নাত লাভ করতে পারল সেই সফল ব্যক্তি।
ব্যস্ত এই নাগরিক জীবনে আমরা প্রতিনিয়ত কত কিছুর পেছনে ছুটছি। একটু মাথা গোঁজার ঠাঁই, একটা সুন্দর ফ্ল্যাট কিংবা বিলাসবহুল আবাসন নিশ্চিত করতে আমাদের অক্লান্ত পরিশ্রমের শেষ নেই। অথচ পরম করুণাময় আল্লাহ আমাদের জন্য অত্যন্ত সহজ উপায়ে জান্নাতে একটি সুরম্য প্রাসাদ নির্মাণের অভাবনীয় সুযোগ রেখেছেন। সেই সুযোগটি রয়েছে দৈনিক মাত্র ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ নিয়মিত আদায়ের মাঝে। রাসুল (সা.) বলেছেন, যে ব্যক্তি দিন ও রাতে বারো রাকাত নামাজ আদায় করবে, তার জন্য জান্নাতে একটি ঘর তৈরি করা হবে। চার রাকাত জোহরের ফরজের আগে, দুই রাকাত জোহরের ফরজের পরে, দুই রাকাত মাগরিবের ফরজের পরে, দুই রাকাত ইশার ফরজের পরে আর দুই রাকাত ফজরের ফরজের আগে আদায় করতে হবে। (সুনানে তিরমিজি)
সামান্য কাজ, অথচ কত বড় ফজিলত! কিন্তু এই ছোট্ট ইবাদতটাও আমরা গুরুত্ব দিয়ে করতে চাই না, শুধু ফরজ আদায় করে থাকি। প্রতিদিন ফরজ নামাজের সঙ্গে এই সুন্নাত নামাজগুলো আদায় করলে হাদিসে উল্লিখিত সওয়াব ও নেয়ামত আমরা লাভ করতে পারব।
সুতরাং এই ইবাদতে আমাদের গুরুত্ব দেওয়া উচিত। যদি ফরজ নামাজের পূর্বের সুন্নত নামাজ জামাত শুরু হওয়ার কারণে ছুটে যায় তাহলে ফরজ নামাজের পর সেই সুন্নত নামাজ পড়ে নেওয়া উচিত।
আমাদের লক্ষ্য হওয়া উচিত, আমরা কোনোভাবেই বারো রাকাত সুন্নত ছাড়ব না। মহান আল্লাহ এর বদৌলতে আমাদের জন্য জান্নাতে ঘর নির্মাণ করে দেবেন। এর থেকে বড় প্রাপ্তি আর কী হতে পারে!
সাহাবিরা এই ১২ রাকাত নামাজকে অত্যন্ত গুরুত্ব দিতেন। কখনো এই নামাজ ছাড়তেন না। উম্মুল মুমিনিন উম্মে হাবিবা (রা.) বলেন, এটা শোনার পর কখনো এই ১২ রাকাত নামাজ ছাড়িনি।
মহান আল্লাহ আমাদের সবাইকে নিয়মিত এই ১২ রাকাত সুন্নত নামাজ আদায় করার তওফিক দান করুন। আমিন।
লেখক : শিক্ষার্থী, আরবি বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়