ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে থাকায় সংকটকালীন প্রস্তুতির অংশ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা সরিয়ে লন্ডনে নিয়েছে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক (ডিএনবি)। সেখানে সোনাগুলো রাখা হয়েছে ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের ভল্টে। খবর বিবিসি।
বুধবার (২ আগস্ট) ডিএনবি জানিয়েছে, কয়েক মাস ধরে চলা জটিল এক প্রক্রিয়ায় উত্তর আমেরিকা থেকে বিপুল পরিমাণ সোনা সরানো হয়েছে। সংকটের সময় দ্রুত লেনদেন করা যায় এমন ব্যবস্থা নিশ্চিত করতেই এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
ডিএনবির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লেইপেন বলেন, নিজেদের ‘সহনশীলতা ও প্রস্তুতি’ আরও শক্তিশালী করতে এই স্থানান্তর প্রয়োজন ছিল।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে এই স্থানান্তর সম্পন্ন হয়। এর অংশ হিসেবে নিউইয়র্ক ও অটোয়া থেকে ২৭ টন সোনার বার নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে নেওয়া হয়। পরে একই ধরনের ও সমমানের সোনা জেইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়। এ ক্ষেত্রে সোনার বারগুলো গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি।
তবে এত বিপুল পরিমাণ সোনা কীভাবে আটলান্টিক মহাসাগর পাড়ি দিয়ে পরিবহন করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিস্তারিত কিছু জানায়নি ডিএনবি।
স্থানান্তরের বাকি অংশ সম্পন্ন হয়েছে ভিন্ন পদ্ধতিতে। নিউইয়র্কে সোনা বিক্রি করে একই পরিমাণ সোনা লন্ডনে পুনরায় কেনা হয়েছে। ডিএনবি তাদের বিবৃতিতে ‘বাড়তে থাকা ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার’ কথা উল্লেখ করলেও ঠিক কোন পরিস্থিতিকে তারা বোঝাচ্ছে, তা স্পষ্ট করেনি।
বিবিসির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডার মধ্যে চলমান বাণিজ্য বিরোধের মধ্যেই এই সিদ্ধান্ত এসেছে। ব্যর্থ বাণিজ্য আলোচনার পর দুই দেশই একে অপরের পণ্যে নতুন করে শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের অর্থনীতিও বর্তমানে নানা অনিশ্চয়তার মধ্যে রয়েছে। অন্যদিকে কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম, কাঠ ও গাড়ি শিল্প যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের কারণে চাপের মুখে পড়েছে। আগস্টে প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডীয় ডলারের পণ্যের ওপর অতিরিক্ত ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের ঘোষণাও দেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ডিএনবি বলেছে, ব্যাংক অব ইংল্যান্ডে সংরক্ষিত সোনা বিশ্বের সবচেয়ে সহজে লেনদেনযোগ্য সোনা হিসেবে বিবেচিত হয়। ফলে কোনো সংকট দেখা দিলে যুক্তরাষ্ট্র বা কানাডায় থাকা সোনার তুলনায় লন্ডনে থাকা সোনা দ্রুত ব্যবহার বা বিক্রি করা সম্ভব।
স্থানান্তরের আগে ডিএনবির মোট সোনার মজুদের ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল নিউইয়র্কে এবং ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল অটোয়ায়। স্থানান্তরের পর দুই দেশেই তা কমে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশে দাঁড়িয়েছে।
২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুদ ছিল ৬১২ দশমিক ৪ টন। ডিএনবির হিসাবে, এর মূল্য ছিল প্রায় ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো।
নতুন স্থানান্তরের পর লন্ডনে ডিএনবির সোনার অংশ বেড়ে ১৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে ৩২ দশমিক ১ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। আর নেদারল্যান্ডসের অভ্যন্তরে সংরক্ষিত রয়েছে মোট মজুদের ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ।