দেশের টেলিভিশন চ্যানেলের নির্বাহীদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন জামায়াত আমির ও বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান। গতকাল বুধবার দুপুরে রাজধানীর ২৯ মিন্টো রোডের বিরোধীদলীয় নেতার বাসভবনে এ মতবিনিময় অনুষ্ঠিত হয়। এ সময় বিরোধীদলীয় নেতা বলেন, গণভোটের গণরায় যদি বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে রাজনীতিতে সংকট তৈরি হবে।
পরে বৈঠকের বিষয়ে সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। এ সময় তিনি জামায়াত আমিরকে উদ্ধৃত করে বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা সমাজের বিদ্যমান জনদুর্ভোগ নিয়ে ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীদের সঙ্গে কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন, ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন ও গণভোট অনুষ্ঠিত হয়েছে। এখন যদি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন না হয়, তাহলে রাজনীতিতে সংকট তৈরি হবে। তিনি এ ক্ষেত্রে সংসদের ভেতরে এবং বাইরে জামায়াতের প্রকাশ্য ও আন্তরিক ভূমিকার কথা তুলে ধরেছেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, সাংবাদিকদের মধ্য থেকে অনেকে বলেছেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী যে গণভোট হয়েছে, সেটির বিষয়ে যারা ভিন্নমত পোষণ করছেন তাদের জামায়াত আমিরের পক্ষ থেকে পরিষ্কারভাবে বলে দেওয়া উচিত কোনো ভিন্নমত ছাড়াই গণভোটের রায় মেনে নেওয়া উচিত। তারা বলবেন মেনে নেব, না হয় বলবেন মেনে নেব না। জামায়াত আমিরকে এমন পরামর্শ দিয়েছেন ইলেকট্রনিক গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীদের অনেকে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
গোলাম পরওয়ার আরও বলেন, জনজীবনের দুর্ভোগ, দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বিদ্যুৎ, গ্যাসের সংকট, সন্ত্রাস এবং সংকীর্ণ দলীয়করণসহ নানা উদাহরণ তুলে ধরে বিদ্যমান পরিস্থিতি শীর্ষ নির্বাহীদের কাছে তুলে ধরেছেন জামায়াত আমির। ইলেকট্রনিক মিডিয়া সংবাদ পরিবেশন ছাড়াও যে জনমত তৈরি ও জাতীয় ঐকমত্য তৈরিতে ভূমিকা রাখতে পারে, সেটিও তুলে ধরেছেন তিনি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় বিদ্যমান নানা সমস্যার বিষয়ে শীর্ষ নির্বাহীরা কথা বলেছেন। তারা বলেছেন, প্রিন্ট মিডিয়ায় যেসব সুবিধা রয়েছে, সেসব সুবিধা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় নেই। বেতন কাঠামো নেই, ওয়েজ বোর্ড নেই, সেখানে কোনো কাঠামোগত অবস্থান নেই এবং তাদের নিরাপত্তার প্রশ্নও তারা তুলে ধরেছেন। জামায়াত আমির এসব সমস্যার বিষয়ে একটি প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে কথা বলার ও তুলে ধরার পরামর্শ দিয়েছেন।
গোলাম পরওয়ার আরও জানান, গণমাধ্যমের শীর্ষ নির্বাহীরা বলেছেন, বর্তমান সংসদে বিরোধী দল হিসেবে জামায়াত যে ভূমিকা রাখছে, তা অতীতের যেকোনো সময়ের তুলনায় গঠনমূলক, শান্তিপূর্ণ ও নিয়মতান্ত্রিক।
মতবিনিময় সভায় টেলিভিশন নির্বাহীদের মাঝে অংশ নেন বাংলাভিশনের প্রধান সম্পাদক ও হেড অব নিউজ ড. আবদুল হাই সিদ্দিক, সময় টিভির সিইও জোবায়ের আহমেদ বাবু, যমুনা টেলিভিশনের সিইও ফাহিম আহমেদ, এটিএন বাংলার হেড অব নিউজ মতিউর রহমান, এটিএন নিউজের সিইই শহিদুল আজম, চ্যানেল আইয়ের প্রধান নির্বাহী সম্পাদক জাহিদ নেওয়াজ খান, এনটিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক ফখরুল আলম খান কাঞ্চন, আরটিভির হেড অব নিউজ ইলিয়াস খান, এখন টিভির হেড অব নিউজ মোস্তফা কামাল স্বপন, স্টার নিউজের হেড অব নিউজ ওয়ালিউর রহমান মেরাজ, একাত্তর টেলিভিশনের সিইও অ্যান্ড হেড অব নিউজ শফিক আহমেদ, ইনডিপেনডেন্ট টিভির হেড অব নিউজ মামুন আব্দুল্লাহ, ডিবিসি নিউজের সিএনই সাহাবুদ্দীন চৌধুরী, নিউজ টুয়েন্টিফোরের হেড অব নিউজ শরিফুল ইসলাম খান, চ্যানেল টুয়েন্টিফোরের নির্বাহী পরিচালক ও হেড অব নিউজ জহিরুল আলম, এসএ টিভির নিউজ ইনচার্জ ওয়াহিদ মিল্টন, বৈশাখী টিভির হেড অব নিউজ জিয়াউল কবির সুমন, দীপ্ত টিভির হেড অব নিউজ এসএম আকাশ, মোহনা টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক সুমন মোস্তাফিজ, জিটিভির হেড অব নিউজ গাউসুল আজম বিপু, নাগরিক টিভির প্রধান বার্তা সম্পাদক শাখাওয়াত হোসেন নবিন, এশিয়ান টিভির সিইও হাসনাইন খুরশেদ, মাই টিভির এডিটর ইন চিফ মাহমুদ আল ফয়সাল, বাংলা টিভির পরিচালক বার্তা মীর নূর উস শামস শান্তনু, চ্যানেল এসের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও সুজিত চক্রবর্তী, গ্রিন টিভির হেড অব নিউজ মাহমুদ হাসান, টিআরটি ওয়ার্ল্ডের বাংলাদেশ প্রধান কামরুজ্জামান বাবলু প্রমুখ।