দেশে বর্তমানে প্রায় ১৩ লাখ টন সার মজুদ রয়েছে জানিয়ে কৃষিমন্ত্রী আমিন-উর রশীদ বলেছেন, সারের সংকট তৈরির চেষ্টা করছে একটি সংঘবদ্ধ চক্র। গত কয়েক দিনে পরিস্থিতি কিছুটা নিয়ন্ত্রণে এসেছে এবং আগামী দিনগুলোয় আরও নিয়ন্ত্রণে আসবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি। গতকাল বুধবার জাতীয় সংসদে আখতার হোসেনের এক প্রশ্নের জবাবে কৃষিমন্ত্রী এসব কথা বলেন। কৃষিমন্ত্রী বলেন, গত বছর একই সময়ে সরকারের গুদামে ১২ লাখ টন সার মজুদ ছিল। বর্তমানে গুদামে মজুদ রয়েছে প্রায় ১৩ লাখ টন। ফলে দেশে সার নেই এমন বক্তব্য সঠিক নয়।
তিনি বলেন, ‘উনি যে প্রশ্নটা করেছেন এবং আপনিও এটাকে নিয়ে, আপনার ছাড়া বাকি সংসদ সদস্যের অনেকের মধ্যে এই জিনিসটা নিয়ে অনেক আলোচনা আছে বা অনেক কিছু জানতে চাচ্ছেন। উনার বক্তব্য একটা জিনিস ক্লিয়ার করে গিয়েছে একটা সংঘবদ্ধ দল এ ধরনের কিছু করার চেষ্টা করছে।’
কৃষিমন্ত্রী জানান, সংশ্লিষ্ট এলাকায় গত অর্থবছরের আগস্টে সারের বরাদ্দ ছিল ১০ হাজার ৫৯০ টন।
চলতি অর্থবছরের একই মাসে বরাদ্দ হয়েছে ১ হাজার ৮৪৭ টন। কেন বরাদ্দে এত পার্থক্য এবং কোথায় সার যাচ্ছে এ বিষয়ে লিখিত বক্তব্যে বিস্তারিত তথ্য দেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
‘সারের বাজার সিন্ডিকেটের নিয়ন্ত্রণ থাকায় কৃষকরা দুর্ভোগে পড়েছেন’ এর আগে কৃষিমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণের জন্য ৭১ বিধিতে দেওয়া জরুরি জন-গুরুত্বসম্পন্ন নোটিসে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন বলেন, সরকারিভাবে দেশে পর্যাপ্ত সারের মজুদ থাকার বুলি আওড়ানো হলেও মাঠপর্যায়ের বাস্তব চিত্র সরকারে অবস্থাপনা, ও তদারকিহীনতার বহিঃপ্রকাশ। নোটিসে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) ও বাংলাদেশ কেমিক্যাল ইন্ডাস্ট্রিজ করপোরেশনের (বিসিআইসি) মধ্যে সমন্বয়হীনতা এবং মনিটরিং ব্যবস্থার দুর্বলতার সুযোগ নিয়ে অসাধু ডিলার ও সিন্ডিকেট কৃত্রিম সংকট তৈরি করেছে বলে নোটিসে অভিযোগ করেন।
আখতার হোসেন বলেন, সারের কৃত্রিম সংকট ও অতিরিক্ত দামে বিক্রির কারণে কৃষকের উৎপাদন ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে। এতে তারা ঋণগ্রস্ত হয়ে পড়ার পাশাপাশি কৃষিপণ্যের দাম এবং সামগ্রিক খাদ্য মূল্যস্ফীতির ওপরও চাপ তৈরি হচ্ছে। দীর্ঘমেয়াদে এটি দেশের খাদ্যনিরাপত্তার জন্য ঝুঁকি তৈরি করতে পারে বলেও সতর্ক করা হয়। সারের জাতীয় সংকট নিরসনে অসাধু ডিলারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানানো হয়েছে নোটিসে। একই সঙ্গে অনিয়মে জড়িত ডিলারদের লাইসেন্স বাতিল এবং দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করার আহ্বান জানানো হয়। প্রকৃত কৃষকের কাছে ন্যায্যমূল্যে সার পৌঁছাতে ডিজিটাল কার্ডভিত্তিক বিতরণব্যবস্থা চালুর বিষয়েও সরকারের কাছে জানতে চাওয়া হয়েছে। নোটিসে বলা হয়েছে, সারের বাজারে সিন্ডিকেটের দৌরাত্ম্য বন্ধ, বিতরণব্যবস্থার অনিয়ম দূর করা এবং কৃষকের স্বার্থ সুরক্ষায় সরকার কী ধরনের দৃশ্যমান ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করছে, তা সংসদে কৃষিমন্ত্রীর কাছে জানানো প্রয়োজন।