বান্দার প্রত্যাবর্তনে আল্লাহর আনন্দ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৬ এএম

গুনাহ করা এবং গুনাহ থেকে আল্লাহর দিকে ফিরে আসার বিষয়টি মানুষের স্বভাবজাত বিষয়গুলোর অন্যতম। তবে গুনাহের পরিমাণ ও প্রবণতা বেড়ে গেলে, সেটি অবশ্যই মুমিনের জন্য চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়ায়। কেননা অনেক সময় গুনাহের কারণে জীবন সংকটাপন্ন হয়। নেমে আসে নানাবিধ দুর্যোগ, বিপদ ও বিপর্যয়। ইরশাদ হয়েছে, ‘স্থলে ও জলে মানুষের কৃতকর্মের দরুন বিপর্যয় ছড়িয়ে পড়েছে। আল্লাহ তাদের তাদের কর্মের শাস্তি আস্বাদন করাতে চান, যাতে তারা ফিরে আসে।’ (সুরা রুম ৪১)

এই আয়াতের মাধ্যমে বোঝা যায়, মানুষের সংকটাময় জীবন, আপতিত বিপদ ও বিপর্যয়ের পেছনে তাদের কৃতকর্ম অন্যতম দায়ী। আল্লাহ মানুষকে কষ্ট দিতে চান না। তার চাওয়া হলো, বান্দা তার আনুগত্যের দিকে ফিরে আসুক। আয়াতের মুখ্য উদ্দেশ্যও এটাই। কেননা, প্রবৃত্তির তাড়না, শয়তানের ধোঁকা ও পরিপার্শ্বিক নানা কারণে অপরাধে জড়িয়ে পড়লেও মহান আল্লাহ সর্বদা বন্দার প্রত্যাবর্তনের আশায় থাকেন, তার ফিরে আসাকে তিনি আনন্দের সঙ্গে স্বাগত জানান।

আনাস (রা.) হতে বর্ণিত, তিনি বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, মহান আল্লাহ বান্দার তওবার কারণে সেই লোকটির চেয়েও অধিক খুশি হন, যে লোকটি মরুভূমিতে তার উট হারিয়ে পরে তা পেয়ে যায়। (সহিহ বুখারি ৬৩০৯)

মহান আল্লাহর আনুত্যের দিকে বান্দার প্রত্যাবর্তন পার্থিব ও পরকালের কাক্সিক্ষত জীবনের পথ সুগম করে এবং অতীত কৃতকর্মের ক্ষতি পুষিয়ে দিয়ে দুশ্চিন্তা ও পেরেশানিমুক্ত জীবন উপহার দেয়। আল্লাহ বলেন, ‘তবে কেউ তাওবা করলে, ইমান আনলে এবং সৎকর্ম করলে, আল্লাহ এরূপ লোকদের পাপকে পুণ্য দ্বারা পরিবর্তিত করে দেবেন। আল্লাহ অতি ক্ষমাশীল, পরম দয়ালু।’ (সুরা ফুরকান ৭০)

আনাস ইবনে মালেক (রা.) বলেন, রাসুলুল্লাহ (সা.)-কে আমি বলতে শুনেছি, বারাকাতময় আল্লাহ বলেন, হে আদম সন্তান! যতক্ষণ আমাকে তুমি ডাকতে থাকবে এবং আমার হতে (ক্ষমা পাওয়ার) আশায় থাকবে, তোমার গুনাহ যত অধিক হোক, তোমাকে আমি ক্ষমা করব, এতে কোনো পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তোমার গুনাহর পরিমাণ যদি আসমানের কিনারা পর্যন্তও পৌঁছে যায়, তারপর তুমি আমার নিকট ক্ষমা প্রার্থনা করো, আমি তোমাকে ক্ষমা করে দেব, এতে আমি পরওয়া করব না। হে আদম সন্তান! তুমি যদি পৃথিবী পরিমাণ গুনাহ নিয়েও আমার নিকট আসো এবং আমার সঙ্গে কাউকে অংশীদার না করে থাক, তাহলে তোমার কাছে আমিও পৃথিবীপূর্ণ ক্ষমা নিয়ে হাজির হবো। (জামে তিরমিজি ৩৫৪০)

লেখক : পরিচালক, হিলফুল ফুজুল মডেল মাদ্রাসা, ব্যাপারীপাড়া, ঝিনাইদহ

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত