আজ সিরিয়ার বিপক্ষে ঘুরে দাঁড়াতে চায় বাংলাদেশ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৮:৪২ এএম

এএফসি অনূর্ধ্ব-২০ এশিয়ান কাপ বাছাইপর্বে নিজেদের প্রথম ম্যাচে স্বাগতিক উজবেকিস্তানের কাছে ২-০ গোলে হারের হতাশা ভুলে এবার ঘুরে দাঁড়ানোর লক্ষ্য বাংলাদেশের। দ্বিতীয় ম্যাচে আজ বাংলাদেশ সময় বিকেল ৫টায় সিরিয়ার মুখোমুখি হবে লাল-সবুজের যুবারা।

প্রথম ম্যাচে হারলেও দলের পারফরম্যান্সে বেশ কিছু ইতিবাচক দিক খুঁজে পেয়েছেন প্রধান কোচ জেরার্ড জোন্স। সেসব জায়গাকে পুঁজি করেই সিরিয়ার বিপক্ষে ভালো ফল পাওয়ার প্রত্যয় তার। ম্যাচ সামনে রেখে বুধবার স্থানীয় সময় বিকেল ৪টায় উজবেকিস্তান ফুটবল অ্যাসোসিয়েশনের ট্রেনিং গ্রাউন্ডে অনুশীলন করেছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ দল। অনুশীলনে ট্যাকটিক্যাল প্রস্তুতিতেই বেশি গুরুত্ব দিয়েছেন জোন্স ও তার কোচিং স্টাফরা। ম্যাচের কৌশল, দলীয় সমন্বয় এবং মাঠে পরিকল্পনার সঠিক বাস্তবায়ন নিয়ে কাজ করেছেন খেলোয়াড়রা। শক্তিশালী উজবেকিস্তানের বিপক্ষে হারলেও দলের পারফরম্যান্সে হতাশ নন জোন্স। বরং আন্তর্জাতিক ফুটবলে দলের অনভিজ্ঞতার বিষয়টি সামনে এনে প্রথম ম্যাচের পরিস্থিতি ব্যাখ্যা করেছেন কোচ। জোন্স বলেন, ‘প্রথম ম্যাচটি দল হিসেবে আমাদের একসঙ্গে প্রথম খেলা ছিল। অনেক কিছুরই প্রথম অভিজ্ঞতা ছিল সেদিন—স্টেডিয়ামের আবহ, আন্তর্জাতিক ম্যাচ, এমনকি কয়েকজন খেলোয়াড়ের অভিষেক। তাই শুরুতে দলের মধ্যে খানিকটা জড়তা বা নার্ভাসনেস থাকা স্বাভাবিক।’

শুরুর সেই স্নায়ুচাপ কাটিয়ে ওঠার পর বাংলাদেশের রক্ষণভাগ যেভাবে প্রতিপক্ষকে আটকে রেখেছিল, তাতে সন্তুষ্ট কোচ। নিজেদের রক্ষণাত্মক কৌশলের সফলতার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘প্রাথমিক চাপ কেটে যাওয়ার পর প্রতিপক্ষও আমাদের প্রশংসা করেছে। মিড-টু-লো ব্লকে আমাদের রক্ষণাত্মক সংগঠন খুবই কার্যকর ছিল। তারা মাঝমাঠ দিয়ে আমাদের ভাঙতে পারেনি। বাধ্য হয়ে কেবল কিছু বিপজ্জনক ডায়াগোনাল লং বল ফেলার চেষ্টা করেছে। আমরা মূলত তাদের বল পজেশনে রাখার সুযোগগুলোই কমিয়ে এনেছিলাম।’

সিরিয়ার শক্তি সম্পর্কে ধারণা নিতে ভারত ও সিরিয়ার মধ্যকার ম্যাচটি কাছ থেকে পর্যবেক্ষণ করেছেন জোন্স। সেই বিশ্লেষণ থেকে আগামীকালের ম্যাচকে নিজেদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর বড় সুযোগ হিসেবে দেখছেন তিনি। নিজেদের স্কোয়াডের ওপর পূর্ণ আস্থা রেখে বাংলাদেশ কোচ বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য ঘুরে দাঁড়ানোর একটি দারুণ সুযোগ হতে যাচ্ছে। আগের ম্যাচে হয়তো আমরা কাঙ্ক্ষিত ফলাফল পাইনি, তবে আমাদের একটি চমৎকার টেকনিক্যাল টিম ও স্কোয়াড রয়েছে। আমরা দীর্ঘদিন ধরে একসঙ্গে কাজ করছি এবং দলে অনেক প্রতিভাবান খেলোয়াড় রয়েছে।’

সিরিয়ার বিপক্ষে শুধু রক্ষণ সামলে নয়, আক্রমণেও উন্নতি করতে চান জোন্স। আগের ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো ধরে রেখে এবার বেশি সময় বল নিজেদের দখলে রাখার পরিকল্পনা বাংলাদেশের। ম্যাচের কৌশল নিয়ে জোন্স বলেন, ‘আগের ম্যাচে আমাদের কৌশল, বিশেষ করে রক্ষণাত্মক কাঠামো অনেকটাই সফল ছিল। আমরা সেই ম্যাচের ইতিবাচক দিকগুলো এই ম্যাচে কাজে লাগাতে চাই। এই ম্যাচে আমরা আগের চেয়ে অনেক বেশি বল দখলে রাখতে চাই এবং খেলার গতি নিজেদের নিয়ন্ত্রণে রাখতে চাই।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত