পোশাক শিল্পের কঠিন বাস্তবতা

রাষ্ট্রপতির সঙ্গে বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের সৌজন্য সাক্ষাৎ

আপডেট : ০৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪২ এএম

রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সঙ্গে গতকাল বুধবার বঙ্গভবনে সৌজন্য সাক্ষাতে গিয়েছে বাংলাদেশ পোশাক প্রস্তুতকারক ও রপ্তানিকারক সমিতির (বিজিএমইএ) সভাপতি মাহমুদ হাসান খানের নেতৃত্বে বিজিএমইএ পরিচালনা পর্ষদের একটি প্রতিনিধিদল। এ সময় প্রতিনিধি দলটি রাষ্ট্রপতিকে আন্তরিক উষ্ণ শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন জানান।

বৈঠকে ব্যবসায়ী সংগঠনটির পক্ষ থেকে বর্তমান সরকারের শিল্পবান্ধব বিভিন্ন উদ্যোগের প্রশংসা করা হয়। পাশাপাশি বিজিএমইএ সভাপতি তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান কঠিন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জগুলো রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। বিজিএমইএর পক্ষ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

এ সময় জাতীয় অর্থনীতির প্রধান চালিকাশক্তি তৈরি পোশাক খাতের সার্বিক পরিস্থিতি, উদীয়মান চ্যালেঞ্জ এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের অবস্থান সুদৃঢ়করণসহ দেশীয় শিল্প সুরক্ষার বিভিন্ন নীতিগত বিষয়ে বিশদ আলোচনা হয়েছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়। 

বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলে অন্যদের মধ্যে সিনিয়র সহসভাপতি ইনামুল হক খান, সহসভাপতি মো. রেজোয়ান সেলিম, সহসভাপতি (অর্থ) মিজানুর রহমান, সহসভাপতি মিজ ভিদিয়া অমৃত খান, সহসভাপতি মো. শিহাব উদ্দোজা চৌধুরী, সহসভাপতি মোহাম্মদ রফিক চৌধুরী এবং পরিচালকরা উপস্থিত ছিলেন।

বৈঠকে বিজিএমইএ প্রতিনিধিদল গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে পোশাক শিল্পে শহীদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের অবদান এবং পোশাক শিল্পকে হরতালের আওতামুক্ত রাখতে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার অবদান গভীর কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করেন।

বিজিএমইএ সভাপতি দেশীয় শিল্প ও ব্যবসার প্রসারে বর্তমান সরকারের নানামুখী দূরদর্শী ও শিল্পবান্ধব পদক্ষেপের জন্য গভীর কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ প্রকাশ করেন। বিশেষ করে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক বাস্তবতায় এলডিসি উত্তরণ বিলম্বিতকরণ, নিষ্ক্রিয় ও বন্ধ পোশাক কারখানাগুলো পুনরায় চালু করতে ২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ অর্থায়ন সুবিধা প্রদান, নন-বন্ড কারখানার জন্য বন্ডেড কাঁচামাল সংগ্রহ ও সরাসরি রপ্তানির পথ সুগম করা এবং কাস্টমস প্রক্রিয়া সহজীকরণের মতো সিদ্ধান্তগুলো শিল্প উদ্যোক্তাদের বিশেষভাবে উৎসাহিত করেছে যা ইজ অব ডুয়িং বিজনেস নিশ্চিতকরণে বর্তমান সরকারের দূরদর্শিতার ও আন্তরিকতারই বহিঃপ্রকাশ বলে বিজিএমইএ নেতারা অভিমত প্রকাশ করেন।

সাক্ষাৎকালে বিজিএমইএ সভাপতি তৈরি পোশাক খাতের বর্তমান কঠিন বাস্তবতা ও চ্যালেঞ্জগুলোর মধ্যে তীব্র জ¦ালানি সংকট; অস্বাভাবিক উৎপাদন ব্যয়; রপ্তানি ও বিনিয়োগে মন্দা; কারখানা বন্ধ হয়ে যাওয়ার প্রসঙ্গ রাষ্ট্রপতির কাছে তুলে ধরেন। পাশাপাশি বিদ্যমান এ সংকট উত্তরণ ও তৈরি পোশাক খাতকে পুনরুজ্জীবিত করতে বৈঠকে বিজিএমইএর পক্ষ থেকে সুনির্দিষ্ট কিছু নীতিগত সুপারিশ পেশ করা হয়। এর মধ্যে জ্বালানি নিরাপত্তা; অবকাঠামোগত দক্ষতা ও লজিস্টিকস উন্নয়ন; ব্যাংকিং, অর্থায়ন ও তারল্য সহায়তা; ইজ অব ডুইং বিজনেস; উত্তরণ-পরবর্তী বাণিজ্য নিরাপত্তা এবং শ্রমিক কল্যাণ ও নীতিগত সহায়তা ও সময় উপযোগী পদক্ষেপের জন্য অনুরোধ জানান।

বিজিএমইএ জানিয়েছে, বৈঠকে রাষ্ট্রপতি বিজিএমইএ নেতৃবৃন্দের বক্তব্য অত্যন্ত সহানুভূতির সঙ্গে শোনেন এবং তৈরি পোশাক শিল্পকে জাতীয় অর্থনীতির অন্যতম প্রধান ‘মেরুদ-’ হিসেবে অভিহিত করেন। তিনি বলেন, সাময়িক এ প্রতিকূলতা কাটিয়ে উঠে বিশ্ববাজারে বাংলাদেশের তৈরি পোশাক খাতের শীর্ষ অবস্থান বজায় রাখা অত্যন্ত জরুরি। এ লক্ষ্যে শিল্পের টেকসই বিকাশ ও সুরক্ষায় সংশ্লিষ্ট সরকারি মন্ত্রণালয় ও কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় নীতিগত সহযোগিতা প্রদানের বিষয়ে তিনি বিজিএমইএ প্রতিনিধিদলটিকে আশ্বস্ত করেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত