ইসলামের পাঁচ স্তম্বের মধ্যে নামাজের স্থান দ্বিতীয়। প্রাপ্তবয়স্ক ও সুস্থ-স্বাভাবিক প্রত্যেক মুসলিমের উপর দৈনিক পাঁচ ওয়াক্ত নামাজ আদায় করা ফরজ। অনেক সময় ভ্রমণ, অসুস্থতা কিংবা ব্যস্ততার কারণে কারও কারও নামাজ বাদ পড়ে যায়। এ বাদ পড়া নামাজকে ইসলাম পরিত্যক্ত রাখার অনুমতি দেয়নি, বরং তা পূর্ণ করার নির্দেশ দিয়েছে। ইসলামি পরিভাষায় একে বলা হয় কাজা নামাজ।
কেউ যথাসময়ে নামাজ পড়তে ভুলে গেলে এবং এর নির্দিষ্ট সময় অতিবাহিত হয়ে গেলে, পরে যখনই মনে পড়বে, তখনই ওই নামাজ কাজা পড়া জরুরি।
নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি কোনো নামাজ পড়তে ভুলে যায় অথবা ঘুমিয়ে পড়ে, তাহলে তার কাফফারা হলো স্মরণ হওয়া মাত্র তা পড়ে নেওয়া।’ অন্য এক বর্ণনায় বলেছেন, ‘এ ছাড়া তার আর কোনো কাফফারা (প্রায়শ্চিত্ত) নেই।’ (বুখারি ও মুসলিম)
কোন নামাজ কাজা করতে হয়?
ফরজ নামাজ: পাঁচ ওয়াক্ত ফরজ নামাজ যদি বাদ যায়, তা কাজা করতে হবে।
ওয়াজিব নামাজ: বিতর নামাজও কাজা করতে হবে। তবে নফল নামাজের কোনো কাজা নেই।
কাজা নামাজ আদায়ের নিয়ম
১. নিয়ত করা: যেমন ‘আল্লাহর সন্তুষ্টির জন্য আমি অমুক দিনের জোহরের ফরজ নামাজ কাজা করার নিয়ত করছি ।
২. সময়: কাজা নামাজ দিনের বা রাতের যেকোনো সময়ে পড়া যায়। তবে তিনটি সময়ে নামাজ পড়া হারাম। যথা- সূর্যোদয়ের সময়, দুপুরে সূর্য মাথার ওপরে থাকা অবস্থায়, সূর্যাস্তের মুহূর্তে। (সহিহ মুসলিম ৮৩১)
৩. ক্রমানুসরণ (তারতিব): কোনো ব্যক্তির জিম্মায় যদি ৬ ওয়াক্ত নামাজের কম কাজা হয়, তাহলে তার উপর সিরিয়াল ঠিক রাখা আবশ্যক হয়। অর্থাৎ আগে কাজা নামাজ আদায় করতে হবে। তারপর ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করবে। আর কাজার ক্ষেত্রেও ধারাবাহিকতা রক্ষা করতে হবে। সেই হিসেবে কাজা নামাজ আদায় করার আগেই যদি পরবর্তী নামাজের সময় হয়ে যায় তাহলে প্রথমে কাজা আদায় করা আবশ্যক। তারপর ওয়াক্তিয়া নামাজ আদায় করবে।
আর যদি ৬ ওয়াক্ত থেকে বেশি নামাজ কাজা হয়ে থাকে, তাহলে সিরিয়াল রক্ষা করা জরুরি নয়। সুতরাং সে কাজা আদায় না করেই নতুন আসা ওয়াক্তিয়া নামাজ পড়তে পারবে। ব্যতিক্রম করলে ওয়াজিব তরকের গুনাহ হবে।
আর যদি কারো জিম্মায় অনেক দিন বা অনেক বছরের নামাজ কাজা হয়, তাহলেও তা আদায় করতে হবে। এক্ষেত্রে যথাযথভাবে হিসাব করতে হবে। যেমন- দুই বছর আগের অমুক দিনের অমুক ওয়াক্তের নামাজ কাজা আদায় করছি, এমন নিয়ত করতে হবে।