কাতারের আলখোর শহরে নারীদের জন্য ভিন্ন ধারার নতুন একটি কোরআন হিফজ সেন্টার উদ্বোধন করা হয়েছে।
‘মরিয়ম বিনতে মুহাম্মদ বিন ঈদ আল মুহান্নাদি সেন্টার’ নামে প্রতিষ্ঠিত এ সেন্টারের লক্ষ্য হলো, নারীদের কোরআন শিক্ষার সুযোগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি তাদের জীবনে কোরআনের শিক্ষা ও ইসলামি মূল্যবোধ বাস্তবায়নে সহায়তা করা।
ইন্টারন্যাশনাল কোরআন নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদগনে বলা হয়, সেন্টারটি শহর ও আশপাশের এলাকার নারী ও মেয়েদের জন্য বিশেষায়িত কোরআন শিক্ষার পরিবেশ তৈরি করবে। একই সঙ্গে নতুন প্রজন্মের মধ্যে ইসলামি মূল্যবোধ প্রতিষ্ঠা এবং জাতীয় পরিচয় আরও শক্তিশালী করতেও কাজ করবে এটি।
সেন্টারটিতে বিভিন্ন বয়স ও শিক্ষাগত স্তরের নারীদের জন্য কোরআনভিত্তিক বিভিন্ন কার্যক্রম ও শিক্ষাচক্র পরিচালিত হবে। অংশগ্রহণকারীদের বয়স, সক্ষমতা ও প্রয়োজন অনুযায়ী এসব কার্যক্রম সাজানো হবে।
এর আওতায় রয়েছে কোরআন মুখস্থ করা, মুখস্থ অংশ পুনরাবৃত্তি, শুদ্ধ ও দক্ষভাবে তেলাওয়াতের প্রশিক্ষণ এবং তাজবিদ শিক্ষা। পাশাপাশি কোরআনের আয়াতের অর্থ ও শিক্ষা নিয়ে চিন্তাভাবনা এবং সেসব শিক্ষা দৈনন্দিন আচরণ ও জীবনের সঙ্গে সম্পৃক্ত করার ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হবে।
আল মুহান্নাদি সেন্টার ভবিষ্যতে আরও বৈচিত্র্যময় কোরআন ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম চালুর পাশাপাশি দক্ষ কোরআন শিক্ষকদের নিয়োগের উদ্যোগ নেবে।
সেন্টারটির পরিচালক মরিয়ম বিনতে সাঈদ আল মুহান্নাদি জানান, এই উদ্যোগের উদ্দেশ্য হলো কোরআন মুখস্থ ও তেলাওয়াত শেখানো এবং কোরআনের মূল্যবোধকে অংশগ্রহণকারীদের আচরণ ও দৈনন্দিন জীবনে প্রতিষ্ঠিত করা।
তিনি বলেন-
আমরা এই সেন্টারকে কোরআনের এমন একটি ঘর হিসেবে গড়ে তুলতে চাই, যেখানে কন্যাশিশুরা কোরআনের প্রতি ভালোবাসা নিয়ে বেড়ে উঠবে, তরুণীরা কোরআনের সঙ্গে সম্পর্ক আরও দৃঢ় করবে এবং নারীরা জীবনের বিভিন্ন পর্যায়ে আল্লাহর কিতাবের সঙ্গে নিজেদের যাত্রা অব্যাহত রাখতে পারবে।
মরিয়ম আল মুহান্নাদি আরও বলেন, ‘কোরআন শিক্ষা শুধু আয়াত মুখস্থ করার মধ্যেই শেষ হয় না। এর প্রকৃত প্রভাব তখনই শুরু হয়, যখন কোরআনের অর্থ ও মূল্যবোধ মানুষের চরিত্র, আচরণ ও জীবনধারায় প্রতিফলিত হয়। শিক্ষার উৎকর্ষ, সঠিক লালনপালন এবং গভীর প্রভাব নিশ্চিত করার লক্ষ্যে আমরা মানসম্মত কোরআন ও শিক্ষামূলক কার্যক্রম পরিচালনার চেষ্টা করব।’
নতুন এই সেন্টারের মাধ্যমে কাতারের আলখোর শহরের নারী ও মেয়েরা কোরআন মুখস্থ, তেলাওয়াত ও তাজবিদ শেখার পাশাপাশি কোরআনের শিক্ষা নিজেদের জীবন ও চরিত্রে ধারণের সুযোগ পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
মক্কার জাদুঘরে ১৮ শতকের দুর্লভ কোরআন প্রদর্শনী