নামে-বেনামে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ বিতরণ করে তারল্য সংকটে পড়া ব্যাংকগুলোতে ফেরার পথ উন্মুক্ত রাখতে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশে সংযোজিত ১৮ক ধারা রেখে দিতে সংসদীয় কমিটি সম্মতি দিয়েছে বলে জানা গেছে। গতকাল শনিবার ওই অধ্যাদেশটি নিয়ে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে আলোচনা করা হয়। অধ্যাদেশটি আবারও বিল আকারে সংসদে তোলা হবে।
এর আগে গত বৃহস্পতিবার বিলটি পাসের জন্য জাতীয় সংসদে তোলা হলে সেটি আরও পরীক্ষা করে দুই কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটিতে পাঠানো হয়।
গতকাল সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ ভবনে কমিটির বৈঠকে বিলটি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ব্যাংক রেজল্যুশন (সংশোধন) বিল, ২০২৬ পুঙ্খানুপুঙ্খ যাচাই-বাছাই ও পর্যালোচনার পর সংশোধিত আকারে সংসদে পাসের সুপারিশ করা হয়েছে।
পুরনো মালিকদের ফেরার পথ বন্ধ করে অন্তর্বর্তী সরকার ২০২৫ সালে ব্যাংক রেজল্যুশন অধ্যাদেশ জারি করে। সংকটে পড়া ব্যাংক পুনর্গঠন বা একীভূত করার আইনি কাঠামো করা ছিল এর উদ্দেশ্য। মূল অধ্যাদেশে ১৮ক ধারা ছিল না। পরে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে অধ্যাদেশটি আইনে রূপ দেওয়ার সময় ধারাটি যোগ করা হয়। ওই ধারায় কিছু শর্ত পূরণ করে রেজল্যুশন বা পুনর্গঠন প্রক্রিয়ায় থাকা ব্যাংকের পুরনো শেয়ারধারীদের শেয়ার, সম্পদ ও দায় পুনরায় নেওয়ার আবেদন করার সুযোগ রাখা হয়েছিল।
সংযোজিত ওই ধারাটি নিয়ে সংসদে আপত্তি জানিয়েছিল বিরোধী দল। সংসদের বাইরেও এর তীব্র সমালোচনা হয়।
সেই বিল নিয়েই গতকাল বৈঠক করেছে অর্থ মন্ত্রণালয়-সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি।
উল্লেখ্য, ইতিমধ্যে চরম সংকটে পড়া পাঁচ ব্যাংক এক্সিম ব্যাংক, ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক, গ্লোবাল ইসলামী ব্যাংক, ইউনিয়ন ব্যাংক ও সোশ্যাল ইসলামী ব্যাংকএকীভূত করে সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক গঠন করা হয়েছে।
২০২৫ সালের ১ ডিসেম্বর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংককে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেয় বাংলাদেশ ব্যাংক। সরকার ওই ব্যাংকগুলোর গ্রাহকদের সঞ্চিত অর্থ ফেরত দিতে ২০ হাজার কোটি টাকার তহবিল দেয়। ওই অর্থ বিতরণ করা শুরু হয়েছে।
গত ১৬ অগাস্ট ওই ৫ ব্যাংকের প্রশাসক প্রত্যাহারের প্রক্রিয়া শেষ হওয়ার পর সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংক একক ব্যবস্থাপনায় কার্যক্রম শুরু করে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের মার্চের তথ্য অনুযায়ী, একীভূত পাঁচ ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ছিল ১ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৯ কোটি টাকা, যা তাদের মোট ঋণের ৮৪ দশমিক ২২ শতাংশ।
সম্মিলিত ইসলামী ব্যাংকের পরিশোধিত মূলধন ধরা হয়েছে ৩৫ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে সরকার দিয়েছে ২০ হাজার কোটি টাকা। বাকি ১৫ হাজার কোটি টাকা আমানতকারীদের শেয়ারে রূপান্তরের মাধ্যমে মূলধনে যুক্ত হওয়ার কথা রয়েছে।
সংসদীয় স্থায়ী কমিটির বৈঠকে কমিটির সভাপতি মুশফিকুর রহমান, এমপি সভাপতিত্ব করেন। অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেনঅর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি, মঈনুল ইসলাম খান, শাহাদাত হোসেন ও সৈয়দ জয়নুল আবেদীন।