রাজধানীর গুলশান থানায় দায়ের করা প্রতারণার মামলায় দুই বছরের কারাদণ্ডপ্রাপ্ত সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের সাবেক স্ত্রী বিদিশা সিদ্দিককে জামিন দিয়েছেন হাইকোর্ট। রবিবার (৬ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. রাফিজুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ তার জামিন মঞ্জুর করেন।
ফ্ল্যাট বিক্রি নিয়ে প্রতারণার দায়ে গত ২০ মে বিদিশাকে দুই বছরের সাজার পাশাপাশি ১০ হাজার টাকা অর্থদণ্ড, অনাদায়ে এক মাসের কারাদণ্ড দেন ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জামসেদ আলম।
এরপর ২৫ অগাস্ট রাত সাড়ে ৮টার দিকে গুলশানের একটি রেস্তোরাঁ থেকে বিদিশাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরদিন তাকে ঢাকার সিএমএম আদালতে হাজির করা হয়।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আমিনুল ইসলাম জুনাঈদের আদালতে সেদিন বিদিশার পক্ষে আপিলের শর্তে জামিন চেয়েছিলেন তার আইনজীবী। তবে আদালত জামিন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।
পরে দুই বছরের সাজার রায়ের বিরুদ্ধে আপিল করেন বিদিশা সিদ্দিক। গত ২ সেপ্টেম্বর ঢাকা মহানগর দায়রা জজ শাহজাহান কবির বিদিশার আপিল গ্রহণ করলেও জামিন আবেদনের নাকচ করে দেন। এর চার দিন বাদে উচ্চ আদালত থেকে জামিন পেলেন জাতীয় পার্টির প্রতিষ্ঠাতার সহধর্মিণী বিদিশা।
রাজধানীর বারিধারার প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট বিক্রি করা নিয়ে প্রতারণার অভিযোগ এনে ২০০৮ সালে গুলশান থানায় ওই মামলা করেছিলেন মোশাররফ হোসেন সিকদার নামে এক ব্যবসায়ী।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, মোশাররফ হোসেনের বারিধারায় একটি ফ্ল্যাট কেনার প্রয়োজন ছিল। লোক মারফত তথ্য পেয়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি হুসেইন মোহাম্মাদ এরশাদের দ্বিতীয় স্ত্রী বিদিশা ২০০১ সালের ১ জুলাই মোশাররফকে প্রেসিডেন্ট পার্কের একটি ফ্ল্যাট দেখান এবং বিক্রির প্রস্তাব দেন। পরে ফ্ল্যাট বিক্রির জন্য ‘৮০ লাখ টাকায় চুক্তি’ হয়।
অভিযোগে বলা হয়, ২০০১ সালের ১০ জুলাই বিদিশা বাদীকে বনানীর রজনীগন্ধা অফিসে ডেকে নেন এবং তার মনোনীত ব্যক্তি ও বন্ধু আব্দুল রাজ্জাকের নামে ৭৫ লাখ টাকার পে-অর্ডার দিতে বলেন। বাদী স্ট্যান্ডার্ড চার্টার্ড ব্যাংকের কাওরান বাজার শাখার মাধ্যমে ওই টাকা পরিশোধ করেন। পরে উভয়ের মধ্যে বায়নানামা সম্পাদিত হয়।
চুক্তি অনুযায়ী, রাজধানী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের অনুমোদন নিয়ে বাকি টাকা পরিশোধের পর ফ্ল্যাটের রেজিস্ট্রি করে দেওয়ার কথা ছিল। ২০০২ সালের ১০ জুলাইয়ের মধ্যে ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি থাকলেও দীর্ঘ সময় পার হওয়ার পরও ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়া হয়নি বলে অভিযোগ করেন বাদী।
মামলায় বলা হয়, ফ্ল্যাট বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য চাপ দিলে বিদিশা টাকা ফেরত দেওয়ার আশ্বাস দেন। পরে ২০০৫ সালের ৯ ফেব্রুয়ারি ৭২ লাখ টাকার একটি চেক দেওয়া হয়। তবে নির্ধারিত সময়ে ব্যাংকে জমা দিলে হিসাবে পর্যাপ্ত টাকা না থাকায় চেকটি প্রত্যাখ্যাত হয়।
বাদীর অভিযোগ, বিদিশা বিভিন্ন অজুহাতে সময়ক্ষেপণ করে টাকা কিংবা ফ্ল্যাট কোনোটিই বুঝিয়ে দেননি। বরং ‘সন্ত্রাসী দিয়ে হত্যার হুমকি’ দেন।