বন্যায় নিহতদের স্মরণে নেপালে জাতীয় শোক দিবস পালন

আপডেট : ০৭ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৭ পিএম

গত মাসের ভয়াবহ বন্যায় নিহত ১৩০০-এর বেশি মানুষকে স্মরণ করতে সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় শোক দিবস পালন করছে নেপাল। এদিন দেশটির সরকারি দপ্তর এবং বিদেশে অবস্থিত নেপালি কূটনৈতিক মিশনগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয়েছে। দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানিয়েছে। খবর আল জাজিরার। 

বন্যার ১৩তম দিনে পালিত এই শোক দিবস হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে শোক পালনের শেষ দিন। এ সময়ে নিকটাত্মীয়রা বাড়িতে অবস্থান করেন এবং স্বজনেরা তাদের সঙ্গে দেখা করে নিহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান। শেষ দিনে মৃতদের আত্মার শান্তি কামনায় ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠানও পালন করা হয়।

তবে এখনও নিখোঁজদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান চলায় এ উপলক্ষে বড় কোনো সরকারি কর্মসূচি নেওয়া হয়নি। জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের (এনইওসি) কর্মকর্তা ফণীন্দ্র পৌডেল রয়টার্সকে বলেন, বন্যাকবলিত এলাকায় উদ্ধার ও অনুসন্ধান অভিযান চলমান থাকায় কোনো সরকারি কর্মসূচির আয়োজন করা হয়নি।

গত ২৬ আগস্ট নেপাল ও চীনের তিব্বত সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে হিমবাহের একটি অংশ ভেঙে বিপুল পরিমাণ কাদা ও পাথর নদীতে নেমে আসে। এতে ভয়াবহ বন্যা সৃষ্টি হয়ে অন্তত ১ হাজার ৩৮০ জন নিহত এবং ৫ হাজার ৫০০-এর বেশি মানুষ নিখোঁজ হন।

সাম্প্রতিক দিনগুলোতে উদ্ধারকারীরা চারজনকে জীবিত উদ্ধার করেছেন। শনিবার একটি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে এক চীনা নাগরিককে উদ্ধার করা হয়। এর আগের দিন আরেকটি সুড়ঙ্গ থেকে দুই জলবিদ্যুৎকর্মীকে এবং শনিবার ধসে পড়া একটি বাড়ির নিচ থেকে এক নেপালি নারীকে উদ্ধার করা হয়।

নেপালের আনুষ্ঠানিক রাষ্ট্রপ্রধান প্রেসিডেন্ট রামচন্দ্র পৌডেল সোমবার বন্যাকবলিত এলাকাগুলো পরিদর্শন করছেন। তার সহকারী জানিয়েছেন, তিনি দুর্যোগে ক্ষয়ক্ষতির চিত্র সরেজমিনে দেখবেন।

এদিকে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান জোরদারের দাবিতে রাজধানী কাঠমান্ডুতে প্রধানমন্ত্রী ও বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয়ের কার্যালয়ের কাছে জড়ো হয়েছেন নিখোঁজদের পরিবারের সদস্যরা। নিখোঁজদের অনেকেই জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে কাজ করতেন। তাঁদের কেউ ভোটেকোশি নদীর প্রবল স্রোতে ভেসে গেছেন, আবার কেউ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছেন।

কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বর্তমানে ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে উদ্ধার অভিযান চলছে। এসব প্রকল্পে প্রায় ৯০০ কর্মী নিখোঁজ এবং প্রায় ৫০০ জন বিভিন্ন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। ভারত, চীন, দক্ষিণ কোরিয়া ও যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষায়িত উদ্ধারকারী দলও অভিযানে অংশ নিয়েছে। তারা প্রকল্পগুলোর ধ্বংসস্তূপ, ক্ষতিগ্রস্ত স্থাপনা ও বিভিন্ন সুড়ঙ্গে নিখোঁজদের সন্ধান চালিয়ে যাচ্ছে। 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত