সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে সরকার কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করেছে বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। তিনি বলেন, সংখ্যাগরিষ্ঠতার জোরে কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করে বর্তমান সরকার কর্তৃত্ববাদী শাসন কায়েমের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে।
জাতীয় সংসদে পাস হওয়া সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন আইনকে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আখ্যা দিয়ে এর প্রতিবাদে গতকাল সোমবার বিকেলে বায়তুল মোকাররমের উত্তর গেটে বিক্ষোভ মিছিল ও সমাবেশ করে জামায়াতে ইসলামী। সংগঠনটির ঢাকা মহানগরীর উদ্যোগে আয়োজিত বিক্ষোভ মিছিলপূর্ব সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করে সরকার যে দুঃসাহস দেখিয়েছে, এর করুণ পরিণাম সরকারকে ভোগ করতে হবে। ইসলামের বিধান নিয়ে ভুল তথ্য দেওয়ার জন্য আইনমন্ত্রীকে জাতির কাছে ক্ষমা চাওয়ার পরামর্শ দিয়ে তিনি আরও বলেন, ইসলাম সম্পর্কে আপনার জ্ঞান নেই, যে কারণে আপনি সংসদে দাঁড়িয়ে ইসলামি বিধানকে ভুলভাবে উপস্থাপন করেছেন। এ সময় জামায়াত সেক্রেটারি কোরআন ও সুন্নাহবিরোধী সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন আইন এবং মানবাধিকার কমিশন ও গুম প্রতিরোধ আইন প্রত্যাহারের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বিএনপি নির্বাচনের আগে বলেছিল তারা কোরআন-সুন্নাহবিরোধী কোনো আইন করবে না, মদিনা সনদ অনুসরণ করে দেশ পরিচালনা করবে। কিন্তু ক্ষমতায় গিয়ে তারা সংসদে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী আইন পাস করেছে। সংসদে কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সেই আইনের প্রতিবাদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্যরা মুখে কালো কাপড় বেঁধে সংসদ থেকে ওয়াক-আউট করেছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সংগঠনের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল মাওলানা রফিকুল ইসলাম খান বলেন, এই সরকার ইসলামবিরোধী সরকার এবং গণবিরোধী সরকার। মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইনকে দুটি কালো আইন উল্লেখ করে তিনি বলেন, সরকারের যদি ফ্যাসিবাদ হওয়ার খায়েশ না থাকে, তবে দ্রুত মানবাধিকার কমিশন আইন ও গুম প্রতিরোধ আইন এবং কোরআন-সুন্নাহবিরোধী সম্পত্তি হস্তান্তর সংশোধন আইন বাতিল করতে হবে।
ঢাকা মহানগর উত্তরের আমির মোহাম্মদ সেলিম উদ্দিন বলেন, এই সরকার জনগণের পালস কী সেটি বুঝতে চায় না। আইনমন্ত্রী সংসদে যে বক্তব্য দিয়েছেন, ওই বক্তব্যের পর তার আইনমন্ত্রী থাকার কোনো অধিকার নেই।