যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি বাণিজ্যযুদ্ধের আশঙ্কায় কানাডা

আপডেট : ০৮ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১২:৪০ পিএম

যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যযুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে—এমন আশঙ্কার মধ্যেই মঙ্গলবার থেকে দেশটির বিভিন্ন পণ্যের ওপর কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হয়েছে। তবে এ মুহূর্তে দুই দেশের মধ্যে কোনো বাণিজ্যচুক্তি হওয়ার সম্ভাবনাও দেখা যাচ্ছে না।

কানাডার নতুন পাল্টা শুল্ক যুক্তরাষ্ট্র থেকে আমদানি করা প্রায় ২৮ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলার (প্রায় ২০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বা ১৫ বিলিয়ন পাউন্ড) মূল্যের পণ্যের ওপর আরোপ করা হয়েছে। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে ইস্পাত, আসবাবপত্র এমনকি । কোনো কোনো পণ্যের ক্ষেত্রে শুল্কের হার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত হতে পারে।

২০২৫ সালে কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্যের পরিমাণ ছিল প্রায় ৯০০ বিলিয়ন ডলার। এটিই বিশ্বের সবচেয়ে বড় দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য সম্পর্কগুলোর একটি।

নতুন মার্কিন শুল্ক এবং কানাডার পাল্টা শুল্ক কার্যকর হওয়ার পর দুই দেশের ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলো এখন সামনে কী হতে যাচ্ছে, তা নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়েছে।

বর্তমানে কানাডার গাড়ি ও ট্রাকের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ২৫ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছে। পাশাপাশি কানাডার ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম ও কাঠের ওপরও শুল্ক রয়েছে। আগস্টের শেষ দিকে ট্রাম্প আরও কিছু পণ্যের ওপর নতুন করে ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেন। এসব পণ্যের মধ্যে রয়েছে দুগ্ধজাত পণ্য, অ্যালকোহল, হকি স্টিক ও পারফিউম।

কার্নি যাকে 'ডলার-ফর-ডলার' পাল্টা ব্যবস্থা হিসেবে বর্ণনা করেছেন, সেই কানাডীয় পাল্টা শুল্ক মঙ্গলবার মধ্যরাত থেকে যুক্তরাষ্ট্রের শত শত পণ্যের ওপর কার্যকর হয়েছে।

কানাডা ও যুক্তরাষ্ট্র—দুই দেশের কর্মকর্তারাই জানিয়েছেন, তারা একটি চুক্তিতে পৌঁছাতে আগ্রহী। কিন্তু আগস্টের শেষ দিকে বাণিজ্য আলোচনা ভেঙে যাওয়ার পর এখনো তা পুনরায় শুরু করার কোনো উদ্যোগ দেখা যায়নি।

এরই মধ্যে সোমবার মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প হুমকি দিয়েছেন, কানাডার বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোম্বারডিয়ারের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের সব ধরনের ব্যবসা বন্ধ করে দেওয়া হতে পারে, যদি প্রতিষ্ঠানটি তাদের উৎপাদন কার্যক্রম যুক্তরাষ্ট্রে সরিয়ে না নেয়। বোম্বারডিয়ার কানাডার অন্যতম বড় প্রতিষ্ঠান। প্রতিষ্ঠানটির পক্ষ থেকে পরামর্শক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হিসাবরক্ষণ প্রতিষ্ঠান পিডব্লিউসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালে বোম্বারডিয়ার কানাডার অর্থনীতিতে ৭ বিলিয়ন কানাডিয়ান ডলারের বেশি অবদান রেখেছে।

সপ্তাহান্তে ট্রাম্প তার ট্রুথ সোশ্যাল অ্যাকাউন্টে একাধিক পোস্টে কানাডার সমালোচনা করেন। এর একটিতে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কানাডার বিনিময় হারকে 'অগ্রহণযোগ্য' বলে মন্তব্য করেন। 

এর বাইরে কানাডা আগে থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের তৈরি কিছু গাড়ি ও ট্রাকের ওপর পাল্টা শুল্ক আরোপ করে আসছে। যেসব যানবাহন যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও মেক্সিকোর মধ্যকার মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির শর্ত পূরণ করে না, সেগুলোর ক্ষেত্রে এই শুল্ক প্রযোজ্য। যুক্তরাষ্ট্রে চুক্তিটি ইউএসএমসিএ এবং কানাডায় কুসমা নামে পরিচিত।

জনমত জরিপগুলো বলছে, অধিকাংশ কানাডীয় নাগরিকই যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে পাল্টা শুল্ক আরোপের পক্ষে।

তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলছেন, সর্বশেষ পাল্টা শুল্কের কারণে পোশাক, খাদ্য ও আসবাবপত্রের মতো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম বাড়তে পারে। প্রধানমন্ত্রী মার্ক কার্নি যুক্তরাষ্ট্রের ওপর নির্ভরতা কমিয়ে কানাডার বাণিজ্যিক সম্পর্ক আরও বৈচিত্র্যময় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত