সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা কমাল সরকার

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৮ এএম

মজুদ গড়ে স্থানীয় বাজারে দাম বৃদ্ধির অভিযোগে ২৮৭টি প্রতিষ্ঠানের সুগন্ধি চাল রপ্তানির কোটা অর্ধেকে নামিয়ে এনেছে সরকার। ঢাকাসহ সারা দেশের অভ্যন্তরীণ বাজারে চালের সরবরাহ স্বাভাবিক রাখা এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখার অংশ হিসেবে সুগন্ধি চাল রপ্তানিতে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। এই তালিকায় স্কয়ার, এসিআই, ইস্পাহানি, ইফাদ, আকিজ, সিটি, দেশবন্ধুসহ বড় বড় করপোরেট গ্রুপ রয়েছে। 

গতকাল মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি-২ শাখা থেকে এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করে অবিলম্বে তা কার্যকরের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।  এতে বলা হয়েছেÑ ইতোপূর্বে অনুমোদিত ২৭৮টি প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে বরাদ্দ করা চাল রপ্তানির পরিমাণ ৫০ শতাংশ হ্রাস করা হয়েছে। একই সঙ্গে ন্যূনতম রপ্তানিমূল্য নির্ধারণসহ জুড়ে দেওয়া হয়েছে কঠোর ১০টি শর্ত। প্রজ্ঞাপন বিশ্লেষণে দেখা যায়, চলতি বছরের মে ও জুলাই মাসে বিভিন্ন ধাপে দেশের মোট ২৭৮টি শীর্ষস্থানীয় করপোরেট প্রতিষ্ঠান ও চাল রপ্তানিকারককে সুগন্ধি চাল রপ্তানির অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। তবে বাজারে নিত্যপণ্যের ঊর্ধ্বগতি এবং সামগ্রিক খাদ্য নিরাপত্তা পর্যালোচনার পরিপ্রেক্ষিতে পূর্বে অনুমোদিত পরিমাণের অর্ধেক সমন্বয় (হ্রাস) করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার।

নতুন তালিকা অনুযায়ী, দেশের বৃহৎ খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও করপোরেট প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে স্কয়ার, তানভীর ফুড (মেঘনা গ্রুপ), ইফাদ মাল্টিপ্রোডাক্টস, এসিআই ফুডস, বংগ মিলারস (প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ), মেসার্স দি মাদার্স মুন এন্টারপ্রাইজ এবং ইস্পাহানি ফুডসের পূর্বানুমোদিত ৫০০ মেট্রিক টন রপ্তানি কোটা কমিয়ে ২৫০ মেট্রিক টন করা হয়েছে। আকিজ গ্রুপের বিভিন্ন অঙ্গপ্রতিষ্ঠান (আকিজ এসেনশিয়ালস, আকিজ এফএমসিজি, আকিজ ফুড অ্যান্ড বেভারেজ, আকিজ বেকার্স) এবং টি.কে ফুডসের ৩০০ মেট্রিক টনের অনুমোদন নামিয়ে আনা হয়েছে ১৫০ মেট্রিক টনে। সিটি গ্রুপ, দেশবন্ধু গ্রুপ, এরফান সুপার ফুডস, নিউজিল্যান্ড ডেইরিসহ মাঝারি ও ক্ষুদ্র পর্যায়ের ২৭৮টি রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের ক্ষেত্রেই এই ৫০ শতাংশ কর্তন কার্যকর হয়েছে।

রপ্তানির জন্য নতুন করে ১০টি শর্ত যুক্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে প্রথমেই মানতে হবে ন্যূনতম রপ্তানি মূল্য। প্রতি কেজি চাল কমপক্ষে ১ দশমিক ৬০ ডলারে বিক্রি করতে হবে। এই অনুমোদনের মেয়াদ আগামী ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত কার্যকর থাকবে। এ ছাড়া কাস্টমস রপ্তানিযোগ্য পণ্যের মান ও সত্যতা নিশ্চিত করতে যথাযথ পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা, প্রতিটি কনসাইনমেন্ট জাহাজীকরণ শেষ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে নথিপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দেওয়া, পরবর্তী অনুমোদনে পূর্বের হিসাব আমলে নেওয়া, রপ্তানির অনুমোদন কোনোভাবেই হস্তান্তর না করার শর্ত দেওয়া হয়েছে।

বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা জানান, বৈশ্বিক জলবায়ু পরিবর্তন এবং অভ্যন্তরীণ খাদ্য নিরাপত্তার ভারসাম্য বজায় রাখতেই চাল রপ্তানিতে এই সতর্কতামূলক কৌশল নেওয়া হয়েছে। অভ্যন্তরীণ বাজারে যেন সুগন্ধি চালের ঘাটতি তৈরি হয়ে সামগ্রিক চালের বাজারে অস্থিরতা না তৈরি হয়, সেজন্যই আগাম সতর্কতা হিসেবে ৫০ শতাংশ কোটা ছাঁটাই করা হলো।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত