গত দুই দিনে একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে দুই দফায় লক্ষ্যবস্তু করার জবাবে ইরানের পাঁচটি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) এ তথ্য জানিয়েছে। খবর বিবিসির।
সেন্টকম জানায়, ওমান উপসাগরে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কোরের (আইআরজিসি) সঙ্গে সংশ্লিষ্ট চারটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এছাড়া ইরানের উপকূলের কাছে গুরুত্বপূর্ণ তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপের কাছে আরও একটি ট্যাংকারে হামলা চালানো হয়।
এর জবাবে ইরান জর্ডানে অবস্থিত একটি মার্কিন ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। তবে জর্ডান জানিয়েছে, তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ইরানের ছোড়া ২০টি ক্ষেপণাস্ত্রের মধ্যে ১৮টি ভূপাতিত করেছে।
গত এক সপ্তাহে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পাল্টাপাল্টি হামলা ক্রমেই বেড়েছে। এর মাত্র ছয় মাসেরও বেশি সময় আগে, গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করেছিল।
যে ৫টি ট্যাংকার জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে, সেগুলোর নামও প্রকাশ করেছে সেন্টকম। জাহাজগুলো হলো— এম/টি কাভিজ, এম/টি চারমিনার, এম/টি হরাইজন ১, এম/টি রিয়েস্কো এবং এম/টি দেরিয়া।
এগুলোর মধ্যে প্রথম চারটি জাহাজ ছিল ওমান সাগরে এবং পঞ্চমটি ছিল খার্গ দ্বীপের কাছে। হামলায় জাহাজগুলোর ক্ষয়ক্ষতি হলেও কোনো ক্রু নিহত বা আহত হয়নি বলে জানিয়েছে সেন্টকম। এক্স এর একটি পোস্টে বলা হয়েছে, 'জাহাজগুলোতে আঘাত হেনে সেগুলোকে অকেজো করে দেওয়ার আগেই মার্কিন বাহিনী সেগুলোর ক্রুদের জাহাজ ত্যাগ করার নির্দেশ দিয়েছিল।'
এদিকে উত্তেজনা বৃদ্ধির প্রভাব পড়েছে আন্তর্জাতিক তেলের বাজারেও। এশিয়ার বাজারে দিনের শুরুতে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়েছে। আন্তর্জাতিক বেঞ্চমার্ক ব্রেন্ট ক্রুডের দাম ১ দশমিক ৫ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৯ দশমিক ৪১ ডলারে দাঁড়ায়। অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া অপরিশোধিত তেলের দাম ১ দশমিক ৬ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ৯৪ দশমিক ৫৫ ডলারে উঠেছে।
জর্ডানের সশস্ত্র বাহিনীর এক মুখপাত্র জানিয়েছেন, ইরানের ছোড়া দুটি ক্ষেপণাস্ত্র জনবসতিহীন এলাকায় গিয়ে পড়ে।
ইরান আরও পাল্টা হামলার হুঁশিয়ারি দিয়েছে। কুয়েত ও বাহরাইনের বন্দরের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট ট্যাংকারগুলোর ক্রুদের উদ্দেশে তেহরান সতর্ক করে বলেছে, নোঙর করা অবস্থায় কিংবা বন্দরে থাকা অবস্থায়—যেভাবেই থাকুক না কেন, তাদের 'অবিলম্বে জাহাজ ছেড়ে যেতে হবে', কারণ এসব জাহাজকে লক্ষ্যবস্তু করা হবে।
সাম্প্রতিক উত্তেজনার সূত্রপাত হয় ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় একটি মার্কিন যুদ্ধজাহাজকে লক্ষ্য করার পর। সেন্টকম জানিয়েছে, মার্কিন যুদ্ধজাহাজটি হামলাটি সফলভাবে এড়িয়ে যেতে সক্ষম হয়েছে। ওই হামলায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি বলেও জানিয়েছে তারা।
এর প্রতিক্রিয়ায় যুক্তরাষ্ট্র দাবি করেছে, তারা যে পাঁচটি ইরানি তেলবাহী ট্যাংকারে হামলা চালিয়েছে, সেগুলো 'বহু বিলিয়ন ডলারের একটি ছায়া নেটওয়ার্কের' অংশ। যুক্তরাষ্ট্রের ভাষ্য অনুযায়ী, এই নেটওয়ার্ক থেকে আইআরজিসি এবং মধ্যপ্রাচ্যে তাদের সহযোগী সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো অর্থায়ন পায়।