কিশোরগঞ্জে এক দোকানে ডাকাতির পর দুই ব্যক্তিকে খুনের দায়ে ১০ বছরের সাজা নিয়ে কারাগারে গিয়েছেন ২৩ বছর আগের সাজায় অশীতিপর বৃদ্ধ নুর মোহাম্মদ। ঘটনা দুই যুগ আগের। ঢাকার চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালের বিচারক ফারজানা ইয়াসমিনের আদালতে আজ মঙ্গলবার আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চান তিনি।
কিশোরগঞ্জের বড় বাজার এলাকায় মো. ফেরদৌসের দোকানে ২০০০ সালের ৩০ ডিসেম্বর রাতে ডাকাতি করতে গিয়ে মোশাররফ হোসেন ও কবির নামে দুজনকে হত্যা করা হয়। দোকানের সিন্দুক থেকে সাড়ে ১২ লাখ টাকা ও ১১০ ভরি স্বর্ণ লুট করে নিয়ে যায় ডাকাতরা। এ ঘটনায় মামলার পর তদন্ত শেষে ২০০২ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি ১৪ জনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র জমা দেন কিশোরগঞ্জ থানার এসআই আনোয়ার হোসেন।
মামলাটি বিচারের জন্য কিশোরগঞ্জ থেকে ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ২০০৩ সালের ১৬ নভেম্বর চতুর্থ দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল রায় ঘোষণা করে। রায়ে হাবিবুর রহমান হাবিব, শাহ আলম, মইন উদ্দিন ওরফে মঈন উদ্দিন, নুর মোহাম্মদ, আলম, দিলু ওরফে দেলোয়ার হোসেন, শুকুর আলী ও আলতু মিয়াকে মৃত্যুদ- দেওয়া হয়। জসিম, সিদ্দিক, আমির চান, কবির ও বজলুর রহমানকে দেওয়া হয় যাবজ্জীবন কারাদ-। তবে মামলার বিচার চলাকালে হারিছ মিয়া মারা যান।
ডেথ রেফারেন্স শুনানি শেষে ২০০৭ সালের ১৯ আগস্ট উচ্চ আদালত আলমের মৃত্যুদ- বহাল রাখে। অন্য আসামিদের বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেয়। নুর মোহাম্মদের ১০ বছরের সাজা হয়। গতকাল মঙ্গলবার বিচারিক আদালতে আত্মসমর্পণ করে আপিলের শর্তে জামিন চান নুর মোহাম্মদ। তার পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী ফয়সাল আহমেদ। শুনানিতে তিনি বলেন, আসামির বয়স ১০৪ বছর। স্বাভাবিকভাবে হাঁটাচলা করতে পারেন না। জটিল রোগে আক্রান্ত। তাকে নিয়মিত চিকিৎসা ও ওষুধ সেবন করতে হয়। স্বেচ্ছায় আত্মসমর্পণ করেছেন। আপিলের শর্তে জামিনের আরজি জানান তিনি। শুনানি নিয়ে আদালত জামিন আবেদন নাকচ করে তাকে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দেয়।