ব্রিফিংয়ে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা

বাঁধনের ওপর হামলাকারীদের সরকার ছেড়ে দেবে না

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৫১ এএম

ইতালিতে চলচ্চিত্র অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনায় আইনানুগ ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের বাইরে আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা এ ধরনের হামলা চালালেও সরকার তা ছেড়ে দেবে না। গতকাল মঙ্গলবার সচিবালয়ে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি বিষয়ে আয়োজিত সাপ্তাহিক প্রেস ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।

জাহেদ উর রহমান বলেন, ‘আওয়ামী লীগ কী বস্তু? আওয়ামী লীগ কারা করেন? আওয়ামী লীগ কী? তারা আমাদের সামনে আবার হাজির করছেন। আমি আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল মনে করি না। ইট ইজ অ্যা মাফিয়া গ্যাং। তিনি বলেন, আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক দল হিসেবে বিবেচনা করে তাদের দেশে রাজনীতি করার সুযোগ দেওয়া উচিত কি নাÑ বাঁধনের ওপর হামলার ঘটনা সেই প্রশ্ন আবারও সামনে এনেছে।’

তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আজমেরী হক বাঁধনের ওপরে হামলা হয়েছে। আমরা ভিডিও দেখেছি। যারা হামলা করেছেন, তারাও নিজেরা (হামলাকারীরা) ভিডিও করে এটা প্রকাশ করেছেন। এ ব্যাপারে আইনানুগ ব্যবস্থা ওই দেশে যা যা নেওয়া, এটার প্রসেস শুরু হয়েছে। আমরা অবশ্যই এটা ছেড়ে দেব না। এটা কোনোভাবেই ছেড়ে দেওয়া যাবে না।’

ইতালিতে হামলা ও হেনস্তার শিকার হয়েছেন বলে ফেসবুক পোস্টে জানিয়েছেন অভিনেত্রী আজমেরী হক বাঁধন।

গত সোমবার রাতে ভাই ও তার পরিবারের সঙ্গে তিনি ভেনিস শহরের মেস্ত্রে এলাকার একটি পার্কে গেলে এ হামলা ও হেনস্তার ঘটনা ঘটে।

ক্ষমতাচ্যুত প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার উদ্দেশে তথ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘আপনি যা যা ঘটিয়েছেন, তারপর যদি ন্যূনতম দুঃখবোধ থাকত, রাজনীতিতে ফিরে আসা উদ্দেশ্য থাকত, এই সহিংসতাগুলো হতো না।’

ভারতীয় গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার নিয়ে অসন্তোষ : শেখ হাসিনা ভারতের বিভিন্ন প্রতিষ্ঠিত গণমাধ্যমে সাক্ষাৎকার দিচ্ছেন উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা এ বিষয়ে ভারত সরকারের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তোলেন। তিনি বলেন, শেখ হাসিনা ভারতে অবস্থান করে সংবাদমাধ্যমে কথা বলছেন এটি সরকারের কাছে অপ্রত্যাশিত। প্রত্যর্পণ না হওয়া পর্যন্ত অন্তত তিনি যেন এ ধরনের কর্মকাণ্ড করতে না পারেন, ভারত সরকারের কাছ থেকে সে বিষয়ে পদক্ষেপ প্রত্যাশা করেছিল বাংলাদেশ।

উপদেষ্টা বলেন, বাংলাদেশ-ভারত সম্পর্কের উন্নয়নে ভারত চাইলে তাৎক্ষণিকভাবে একটি পদক্ষেপ নিতে পারে। সেটি হলো শেখ হাসিনাকে গণমাধ্যমে কথা বলা থেকে বিরত রাখা।

আ. লীগের সময়ে লোডশেডিং বেশি ছিল : আওয়ামী লীগ সরকারের সময়ও দেশে লোডশেডিং ছিল উল্লেখ করে তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা বলেন, তবে ঢাকায় তা একেবারেই দেওয়া হয়নি। কারণ ঢাকার মানুষের ‘ভয়েস’ বেশি এবং সামাজিক পুঁজি (সোশ্যাল ক্যাপিটাল) বেশি। ফলে ঢাকার মানুষ লোডশেডিং না দেখায় তাদের মধ্যে একটি বিশেষ ধরনের ধারণা তৈরি হয়েছে।

তিনি উল্লেখ করেন, শেখ হাসিনার সরকারের শেষ বছর ২০২৩ এবং ২০২৬ সালের জুন, জুলাই ও আগস্ট মাসের গড় লোডশেডিংয়ের চিত্র তুলনা করলে দেখা যায়, জুন ও জুলাইয়ে ২০২৬ সালে লোডশেডিংয়ের পরিমাণ আগের বছরের তুলনায় কম ছিল। তিনি আরও বলেন, ২০২৩ সালের জুনে প্রতিদিন গড়ে লোডশেডিং ছিল ৯৬৯ মেগাওয়াট। ২০২৬ সালের জুনে তা দাঁড়ায় ৭৪১ মেগাওয়াটে। একইভাবে, ২০২৩ সালের জুলাইয়ে গড়ে লোডশেডিং ছিল ৬১৩ মেগাওয়াট, যা ২০২৬ সালের জুলাইয়ে ছিল ৪৬০ মেগাওয়াট।

ঢাকায় লোডশেডিং প্রসঙ্গে তিনি বলেন, রাজধানীতেও কিছুটা সংকট সবাইকে মেনে নেওয়া উচিত। ‘ঢাকাকে একেবারে লোডশেডিংমুক্ত রাখব’ এমন ধারণা থেকে সরকার সরে আসছে। এ কারণে ঢাকায় কিছুটা লোডশেডিং হচ্ছে।

শুধু বোয়িং নয়, এয়ারবাসও কিনবে সরকার : জাহেদ উর রহমান বলেন, প্রয়োজনে এয়ারবাস থেকেও বাংলাদেশ উড়োজাহাজ কিনবে। যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানি বোয়িংয়ের কাছ থেকে উড়োজাহাজ কেনা নিয়ে আলোচনা-সমালোচনার মধ্যে এ কেনাকাটার ব্যাখ্যা দেন তিনি।

তিনি বলেন, ‘যেহেতু দীর্ঘদিন আমরা বোয়িং অপারেট করি, বোয়িংয়ের যে পুরো সাপোর্টিং স্টাফ, সেটা আমাদের অনেকটা প্রস্তুত আছে, প্রশিক্ষিত আছে; সেই কারণেই আমাদের বোয়িংয়ের প্রতি কিছুটা বেশি চুজ করার প্রবণতা আছে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত