ডেঙ্গু পরিস্থিতি আরও উদ্বেগজনক হওয়ার আশঙ্কা: এখনই চাই সমন্বিত উদ্যোগ

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৫৩ পিএম

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ১ জানুয়ারি থেকে ৮ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে ৪৫,৪৭৫ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ১৩০ জনের মৃত্যু হয়েছে। শুধু গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে ১,৫৭১ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং ৯ জনের মৃত্যু হয়েছে। আরও উদ্বেগের বিষয় হলো, আগস্ট মাসে ২০,৫৩৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন এবং সেপ্টেম্বরের প্রথম আট দিনেই ভর্তি হয়েছেন ৯.৬২৯ জন। অর্থাৎ সাম্প্রতিক সময়ে রোগীর সংখ্যা দ্রুত বাড়ছে, যা আগামী কয়েক সপ্তাহে আরও উদ্বেগজনক পর্যায়ে যেতে পারে। বিশেষ করে সেপ্টেম্বরের শেষভাগ থেকে পরবর্তী এক মাস ডেঙ্গুর প্রকোপ ব্যাপক আকার ধারণ করার আশঙ্কা করছেন বিশেষজ্ঞরা। তাই পরিস্থিতি জটিল হওয়ার জন্য অপেক্ষা না করে এখন থেকেই সর্বাত্মক প্রস্তুতি ও প্রতিরোধমূলক কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের মতে, শুধু হাসপাতালে শয্যা বাড়ানো, ডেঙ্গু কর্নার চালু করা কিংবা আক্রান্ত রোগীদের চিকিৎসার প্রস্তুতি গ্রহণ করে ডেঙ্গু মোকাবিলা করা সম্ভব নয়। সংক্রমণ কমাতে হলে এডিস মশার উৎস ও প্রজননস্থল ধ্বংস করতে হবে। অর্থাৎ মশা নিয়ন্ত্রণ, জনসচেতনতা, রোগ নজরদারি এবং মানসম্মত চিকিৎসা সবগুলো কার্যক্রম একই সঙ্গে সমন্বিতভাবে পরিচালনা করতে হবে।

ডেঙ্গু একটি বহুখাতভিত্তিক জনস্বাস্থ্য সমস্যা। তাই শুধু স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বা স্বাস্থ্যসেবা প্রতিষ্ঠান নয়; ডেঙ্গু মোকাবেলায় স্থানীয় সরকার বিভাগ, সিটি কর্পোরেশন ও পৌরসভা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান, পরিবেশসংশ্লিষ্ট সংস্থা, সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠান, আবাসন ও নির্মাণসংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান, গণমাধ্যম, সামাজিক সংগঠন এবং সর্বোপরি সাধারণ জনগণকে সক্রিয়ভাবে সম্পৃক্ত হতে হবে।

এ মুহূর্তে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো এডিস মশার সম্ভাব্য প্রজননস্থল দ্রুত চিহ্নিত করে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণ করা। বাড়ি ও প্রতিষ্ঠানের ছাদ, ছাদবাগান, ফুলের টব ও টবের নিচের পাত্র, পরিত্যক্ত টায়ার-টিউব, ডাবের খোসা, বোতল-ক্যান, বালতি, পানির ট্যাংক, নির্মাণাধীন ভবন, খোলা পাত্রসহ যেসব স্থানে ৩ দিনের অধিক সময় ধরে পানি জমে থাকতে পারে, সেসব জায়গা নিয়মিত পর্যবেক্ষণ ও পরিষ্কার করতে হবে। নিজের বাড়ি, কর্মস্থল ও প্রতিষ্ঠানের ভেতরে-বাইরে জমে থাকা পানি অপসারণের দায়িত্ব প্রত্যেক নাগরিককেই নিতে হবে।

এখন থেকেই যদি সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয়, সরকারি-বেসরকারি সকল সংস্থা এবং জনগণ সমন্বিত ও সক্রিয়ভাবে কাজ করে, তাহলে আগামী কয়েক সপ্তাহে সম্ভাব্য ডেঙ্গুর প্রকোপ, গুরুতর অসুস্থতা ও প্রাণহানি উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়ে আনা সম্ভব।

লেখক: সভাপতি, ডক্টরস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (ড্যাব)

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত