ছবি ছাড়া বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) তৈরির পদক্ষেপ নেওয়ার প্রশ্নে সাড়ে চার বছর আগে দেওয়া রুল খারিজ করে দিয়েছে উচ্চ আদালত।
আজ বুধবার (৯ সেপ্টেম্বর) বিচারপতি মো. ইকবাল কবির ও বিচারপতি এস এম সাইফুল ইসলামের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্টের দ্বৈত বেঞ্চ এ রায় দেন। ফলে ছবি ব্যবহার করে এনআইডি করতে হবে বলে জানান সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা।
ইসলামী শরিয়ত মতে পর্দা করেন উল্লেখ করে ২০২২ সালে হাইকোর্টে এ সংক্রান্ত একটি রিট আবেদন করেন রাজধানীর শাহজাহানপুর শান্তিবাগের বাসিন্দা সুমাইয়া আহমাদ মুনা। এতে বলা হয়, তিনি (সুমাইয়া আহমাদ মুনা) প্রাপ্তবয়স্ক ও পর্দানশীন মুসলিম নারী এবং দ্বীন ইসলামের শরিয়তের হুকুম-আহকাম নিয়মিতভাবে পালন করে থাকেন। সে কারণে যে কোনো ছবি তোলা থেকে বিরত থাকেন। যার ফলে তার পরিচয়পত্র নাই। কিন্তু পরিচয়পত্র না থাকায় নানাবিধ সুযোগ-সুবিধা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন তিনি। তাই ছবি ছাড়া বিকল্প ব্যবস্থায় এনআইডি পেতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপের আরজি জানান তিনি। ওই বছরের ৬ মার্চ আদালত রুল জারি করেছেন। রুলে ছবি ছাড়া বিকল্প পরিচয় বা বায়োমেট্রিক ফিচার ব্যবহার করে এনআইডি তৈরিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে কেন নির্দেশ দেওয়া হবে না, তা জানতে চেয়েছিলেন হাইকোর্ট। গতকাল সেই রুল খারিজের আদেশ হয়।
আদালতে রিট আবেদনের পক্ষে শুনানিতে ছিলেন আইনজীবী শেখ ওমর শরীফ ও ইলিয়াছ আলী মণ্ডল। ইসির পক্ষে ছিলেন আইনজীবী কামাল হোসেন মিয়াজী।
অ্যাডভোকেট কামাল হোসেন মিয়াজী দেশ রূপান্তরকে বলেন, রিট পিটিশনার বলতে চেয়েছিলেন যে, তিনি যে অনুশাসনে বিশ্বাসী, তাতে ছবিসহ এনআইডি সেই অনুশাসনের পরিপন্থী। কিন্তু আমরা বলেছি, এনআইডি ছবিসহ নাকি ছবিবিহীন হবে, তা সংশ্লিষ্ট আইনগুলোতেই বলা আছে এবং ছবিসহ এনআইডির বিষয়ে আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে। তিনি বলেন, ‘হাইকোর্ট রুল খারিজ করেছেন। অর্থাৎ এনআইডি যে পদ্ধতিতে হয়ে আসছে, সেভাবেই হবে।’