শকৃবির প্রথম উপাচার্য ঢাবির শীর্ষ গবেষক হোসেন শেখর

অধ্যাপক শেখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক। গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ৬২ জন অধ্যাপককে সংবর্ধনা দিয়েছে, তিনি তাদের একজন। 

আপডেট : ০৯ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ১০:৪৬ পিএম

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের শীর্ষ ৬২ গবেষকদের একজন অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখর এবার শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (শকৃবি) প্রথম উপাচার্য হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন। গবেষণায় তার ২৯১৭টি সাইটেশন রয়েছে। তিনি জাপানের টোকিও মেট্রোপলিটন ইউনিভার্সিটি থেকে পিএইচডি ডিগ্রি অর্জন করেন এবং পরবর্তীকালে তিনি ইউনাইটেড ন্যাশন্স ইউনিভার্সিটি, টোকিও থেকে পোস্ট-ডক্টরাল গবেষণা সম্পন্ন করেন। টোকিওতে অবস্থানকালে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইয়োশিনোরি ওসুমির সাথে গবেষণা কাজ করেছেন। এ ছাড়া দেশি বিদেশি একাধিক খ্যাতনামা জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করছেন তিনি।

রাষ্ট্রপতি ও চ্যান্সেলরের অনুমোদনক্রমে গত ৮ সেপ্টেম্বর শিক্ষা মন্ত্রণালয়ের মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সরকারি বিশ্ববিদ্যালয় শাখা থেকে এ-সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।

প্রজ্ঞাপনে বলা হয়েছে, শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় আইন, ২০২০ (সংশোধিত-২০২৫)-এর ধারা ১৯(১) অনুযায়ী অধ্যাপক ড. হোসেন উদ্দিন শেখরকে শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য পদে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

অধ্যাপক শেখর ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজি বিভাগের অধ্যাপক। গবেষণায় বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে সম্প্রতি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় যে ৬২ জন অধ্যাপককে সংবর্ধনা দিয়েছে, তিনি তাদের একজন। 

গবেষণার পাশাপাশি আন্তর্জাতিক পরিসরেও তার সম্পৃক্ততা রয়েছে। দেশি-বিদেশি একাধিক খ্যাতনামা জার্নালের সম্পাদকীয় বোর্ডের সদস্য হিসেবে তিনি দায়িত্ব পালন করছেন।

নতুন এ নিয়োগের মধ্য দিয়ে প্রতিষ্ঠার পর প্রথমবারের মতো উপাচার্য পেল শরীয়তপুর কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়টির শিক্ষা, গবেষণা ও প্রশাসনিক কার্যক্রমকে প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামোর মধ্যে এগিয়ে নেওয়ার দায়িত্ব পড়ল অধ্যাপক শেখরের ওপর।

নিয়োগের শর্ত অনুযায়ী, যোগদানের তারিখ থেকে চার বছর অথবা তার অবসর গ্রহণের তারিখ—এর মধ্যে যেটি আগে ঘটে, সে সময় পর্যন্ত তিনি উপাচার্য পদে দায়িত্ব পালন করবেন। এ সময়ে তিনি বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা হিসেবে সার্বক্ষণিকভাবে বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে অবস্থান করবেন।

বর্তমানে তিনি স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ভলান্টারি কনজ্যুমারস ট্রেইনিং অ্যান্ড অ্যাওয়ারনেস সোসাইটির (ভোক্তা) সভাপতি ও বাংলাদেশের প্রাণরসায়ন ও অণুজীববিদদের সংগঠন বাংলাদেশ সোসাইটি ফর বায়োকেমিস্ট্রি অ্যান্ড মলিকুলার বায়োলজির সাধারণ সম্পাদক হিসেবে কাজ করছেন। এছাড়াও তিনি বৈজ্ঞানিক জার্নাল বায়োরিসার্স কমিউনিকেশন্সের প্রধান সম্পাদক।

এছাড়াও শেখর বেশ কিছু জার্নালের সম্পাদনা পরিষদের সদস্য, এরমধ্যে প্লস ওয়ান, ফন্টিয়ারস ইন মলিকুলার বায়োসাইন্সেস, বায়োমেড রিসার্স ইন্টারন্যাশনাল ও স্প্রিঞ্জার-এর ডিস্কোভার টক্সিকোলজি উল্লেখযোগ্য। তিনি খাদ্য ও কৃষি সংস্থার গ্লোবাল ফোরাম অন ফুড সিকিউরিটি অ্যান্ড নিউট্রিশন-এর সক্রিয় সদস্য।

দেশীয় ও আন্তর্জাতিক জার্নালে শেখরের ১১০টির বেশি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশিত হয়েছে। তিনি ফাংশনাল ফুডস ফ্রম বাংলাদেশ শিরোনামে ইংরেজি ভাষায় একটি উল্লেখযোগ্য বই রচনা করেন। এছাড়াও তিনি স্প্রিঞ্জারে প্রকাশিত বায়োটেকনোলজিক্যাল এডভান্সেস ইন হেলথোমিক্স শিরোনামের একটি বই যৌথভাবে সম্পাদনা করেন। এছাড়াও তিনি টোকিওতে অবস্থানকালে নোবেল বিজয়ী অধ্যাপক ইয়োশিনোরি ওসুমির সাথে কাজ করেছেন।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত