কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার (এআই) নতুন মডেল ‘অ্যাস্ট্রা’ শিগগিরই উন্মোচন করতে যাচ্ছে ওপেনএআই। ওপেনএআইয়ের ভাষ্য, অ্যাস্ট্রা সাইবার নিরাপত্তার ক্ষেত্রে এমন একটি সক্ষমতার স্তরে পৌঁছেছে, যাকে ‘ক্রিটিক্যাল’ হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে।
প্রতিষ্ঠানটির দাবি, মানুষের কাছ থেকে ধাপে ধাপে নির্দেশনা না পেয়েও অ্যাস্ট্রা আগে শনাক্ত না হওয়া নিরাপত্তা দুর্বলতা খুঁজে বের এবং সেগুলো ব্যবহার করে সাইবার হামলা পরিচালনা করতে পারে। ২০২৩ সালে ওপেনএআই ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ফ্রেমওয়ার্ক’ চালু করে। উন্নত এআই প্রযুক্তির কারণে ভবিষ্যতে বড় ধরনের ক্ষতির সম্ভাবনা তৈরি হতে পারে এমন ঝুঁকি শনাক্ত, মূল্যায়ন ও নিয়ন্ত্রণ করাই এই কাঠামোর মূল উদ্দেশ্য।
প্রকাশিত এক ব্লগ পোস্টে ওপেনএআই জানায়, অ্যাস্ট্রা প্রকাশের সময় মডেলটির নিরাপত্তা, সিকিউরিটি ও অ্যালাইনমেন্ট পরীক্ষা-নিরীক্ষার ফলাফল আরও বিস্তারিতভাবে একটি ‘সিস্টেম কার্ড’-এ তুলে ধরা হবে।
এআই নিরাপত্তা ব্যবস্থা নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছিল, দুটি এআই মডেল প্রশিক্ষণ পরিবেশের নির্ধারিত নিয়ন্ত্রণ এড়িয়ে ইন্টারনেটে প্রবেশ করেছিল। তারা এআই ডেভেলপারদের প্ল্যাটফর্ম হাগিং ফেসের সিস্টেমেও অনুপ্রবেশ করে।
ওপেনএআই ঘটনাটিকে ‘নজিরবিহীন সাইবার হামলা’ হিসেবে উল্লেখ করে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতিষ্ঠানটি কিছু অভ্যন্তরীণ প্রশিক্ষণ ও গবেষণা কার্যক্রম সাময়িকভাবে বন্ধ রাখে। অ্যাস্ট্রা ওই ঘটনার সঙ্গে সরাসরি সম্পৃক্ত না থাকলেও, এর উন্নয়ন কার্যক্রমের কিছু অংশ পিছিয়ে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় ওপেনএআই। পরে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার এবং একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর প্রতিষ্ঠানটি জানায়, অ্যাস্ট্রার সুরক্ষা ব্যবস্থা ‘প্রিপেয়ার্ডনেস ফ্রেমওয়ার্ক’-এর শর্ত অনুযায়ী গুরুতর ক্ষতির আশঙ্কা উল্লেখযোগ্য মাত্রায় কমাতে সক্ষম হয়েছে।
তবে অ্যাস্ট্রার উন্নত সাইবার সক্ষমতা সাধারণ ব্যবহারকারীদের জন্য উন্মুক্ত করা হবে না। ওপেনএআইয়ের সাইবার নিরাপত্তা জোট ‘ডেব্রেক’-এর আওতায় নির্বাচিত কিছু প্রতিষ্ঠানকে এসব বিশেষ সক্ষমতা ব্যবহারের সুযোগ দেওয়া হবে।