পুরনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানি করতে চান ব্যবসায়ীরা

আপডেট : ১০ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৩৪ এএম

ব্যবহৃত বা রিকন্ডিশন বৈদ্যুতিক গাড়ি (ইভি) আমদানি করতে চান ব্যবসায়ীরা। এ জন্য রিকন্ডিশন ইভি আমদানির ওপরে থাকা নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার করে আমদানির সুযোগ দেওয়ার দাবি জানিয়েছে ব্যবহৃত গাড়ি আমদানিকারকদের সংগঠন বাংলাদেশ রিকন্ডিশন্ড ভেহিকেলস ইমপোর্টার্স অ্যান্ড ডিলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বারভিডা)।

গতকাল বুধবার ঢাকা ক্লাবে বারভিডা আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ দাবি জানায় সংগঠনটি। এ সময় বারভিডার সভাপতি আবদুল হক, সাবেক সভাপতি আবদুল মান্নান চৌধুরী, হাবিবুল্লাহ ডন, সাবেক সাধারণ সম্পাদক মাহাবুবুল হক চৌধুরী, হাবিবুর রহমান, শহিদুল ইসলাম, বর্তমান কমিটির সিনিয়র সহ-সভাপতি মহিবুল ইসলামসহ সংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা জানায়, ব্যবহৃত বৈদ্যুতিক গাড়ির আমদানি নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক। বিশে^র বিভিন্ন দেশে ব্যবহৃত এসব গাড়ি আমদানি করা হচ্ছে। এই প্রেক্ষাপটে প্রাথমিকভাবে সর্বোচ্চ ৫ বছরের পুরনো বৈদ্যুতিক গাড়ি আমদানির অনুমতি চান ব্যবসায়ীরা।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডার প্রেসিডেন্ট আবদুল হক বলেন, গত ২৪ আগস্ট প্রকাশিত নতুন আমদানি নীতিতে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানি সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। এতে সাধারণ ও মধ্যবিত্ত মানুষের নতুন প্রযুক্তির গাড়ি ব্যবহারের সুযোগ সীমিত হবে। নতুন ইভির দাম এখনো মধ্যবিত্ত ও নিম্নমধ্যবিত্ত মানুষের নাগালের বাইরে। তুলনামূলক কম দামে রিকন্ডিশন্ড ইভি বাজারে পাওয়া গেলে সাধারণ মানুষের পরিবহন ব্যয় কমার পাশাপাশি দেশে বৈদ্যুতিক গাড়ির ব্যবহার দ্রুত বাড়বে।

বারভিডা জানায়, ২০০৯ সালে শুল্ক প্রণোদনাসহ নতুন হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হলেও ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়নি। পরে সংগঠনটির বিভিন্ন উদ্যোগ ও তথ্য-উপাত্ত উপস্থাপনের পর ২০১৬-১৭ অর্থবছরে রিকন্ডিশন্ড হাইব্রিড গাড়ি আমদানির অনুমতি দেওয়া হয়। এতে দেশে জ্বালানিসাশ্রয়ী ও পরিবেশবান্ধব গাড়ির বাজার সম্প্রসারিত হয়।

বিভিন্ন দেশের উদাহরণ তুলে ধরে সংগঠনটি জানায়, বিশ্বের বিভিন্ন দেশে শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ও রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। যুক্তরাজ্যে সর্বোচ্চ ১০ বছর, জর্জিয়ায় ছয় বছর, কেনিয়ায় আট বছর এবং সৌদি আরবে পাঁচ বছর পর্যন্ত পুরনো ইভি আমদানির সুযোগ রয়েছে। নিউজিল্যান্ড ও আয়ারল্যান্ডে নির্দিষ্ট বয়সসীমা ছাড়াই শর্তসাপেক্ষে আমদানির সুযোগ রয়েছে বলেও জানায় বারভিডা।

বারভিডার দাবি, নিয়ন্ত্রিতভাবে রিকন্ডিশন্ড ইভি আমদানির সুযোগ দিলে দেশে চার্জিং স্টেশন, সার্ভিসিং, ব্যাটারি ডায়াগনস্টিক ও রিসাইক্লিং খাতে বিনিয়োগ বাড়বে। একই সঙ্গে ইভি প্রযুক্তিতে দক্ষ জনবল তৈরির সুযোগ সৃষ্টি হবে। ইভির ব্যবহার বাড়লে আমদানিনির্ভর জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরতা কমবে। এতে দীর্ঘমেয়াদে বৈদেশিক মুদ্রা সাশ্রয়ের পাশাপাশি জ্বালানি নিরাপত্তা জোরদার হবে। ইভির বাজার সম্প্রসারণ হলে ২০৩০ সালের মধ্যে মোটরযান খাতে ৩০ শতাংশ বৈদ্যুতিক গাড়ি ব্যবহারের সরকারি লক্ষ্যমাত্রা অর্জনেও সহায়ক হবে।

বারভিডা শর্তসাপেক্ষে ব্যবহৃত ইভি আমদানির সুযোগ চায় সরকারের কাছে। এর মধ্যে ব্যবহৃত ইভি আমদানির ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের বয়সসীমা নির্ধারণের প্রস্তাব দিয়েছে বারভিডা। পাশাপাশি ব্যাটারির ন্যূনতম স্টেট অব হেলথ ৭০ শতাংশ নির্ধারণ, অনুমোদিত সংস্থার মাধ্যমে আমদানির আগে গাড়ি পরিদর্শন ও প্রত্যয়ন বাধ্যতামূলক করার প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে।

সংবাদ সম্মেলনে বারভিডা আরও জানায়, গত ৭ এপ্রিল এনবিআর শিক্ষার্থী, সাধারণ যাত্রী ও পণ্য পরিবহনের জন্য ইলেকট্রিক বাস ও ট্রাক আমদানিতে শুল্ক-কর প্রত্যাহার করে। তবে এখন পর্যন্ত এ সুবিধার আওতায় উল্লেখযোগ্য আমদানির তথ্য পাওয়া যাচ্ছে না। এ বিষয়ে সরকারের পর্যালোচনা প্রয়োজন বলেও মনে করে সংগঠনটি।

আবদুল হক বলেন, ‘আমরা সরকারের নীতির বিরোধিতা করছি না। এই শিল্পের জন্য আমাদের চাওয়া বাস্তবসম্মত, ভারসাম্যপূর্ণ ও ভবিষ্যৎমুখী নীতি। একটি নিষেধাজ্ঞা বাজারকে থামিয়ে দিতে পারে, কিন্তু একটি সঠিক নীতি একটি শিল্পকে গড়ে তুলতে পারে।’

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত