তৃতীয় অধিবেশনে ৬টি বিল পাস, প্রশ্নের জবাব ১৬৯৩

আপডেট : ১১ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৯:৪২ এএম

ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনে ৯টি বৈঠকে ছয়টি বিল পাস হয়েছে। তবে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সদস্যদের পাঠানো প্রশ্নের তুলনায় উত্তর দেওয়ার সংখ্যা ছিল খুবই কম। এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর উত্তরদানের জন্য ১৪৪টি প্রশ্নের নোটিস দেওয়া হলেও উত্তর দেওয়া হয়েছে মাত্র ১৫টির। অন্যদিকে বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রীদের উত্তরদানের জন্য দেওয়া ২ হাজার ৬৭৬টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৭৮টির উত্তর দেওয়া হয়েছে। সব মিলিয়ে প্রধানমন্ত্রী ও মন্ত্রীদের কাছে পাঠানো ২ হাজার ৮২০টি প্রশ্নের মধ্যে ১ হাজার ৬৯৩টির উত্তর পাওয়া গেছে।

গতকাল বৃহস্পতিবার তৃতীয় অধিবেশন সমাপ্তির সময় সংসদের কার্যক্রমের ওপর দেওয়া বক্তব্যে এসব তথ্য তুলে ধরেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম। গত ২৭ আগস্ট শুরু হওয়া এ অধিবেশনে মোট ৯টি বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। অধিবেশনে ছয়টি বিল উত্থাপিত এবং ছয়টি বিল পাস হয়েছে। আইন প্রণয়নের পাশাপাশি এ অধিবেশনে ৩৫টি সংসদীয় কমিটি গঠন ও পুনর্গঠন করা হয়েছে। এর বাইরে একটি বিশেষ কমিটি পুনর্গঠন করা হয়। বিভিন্ন সংসদীয় কার্যপ্রণালির আওতায় সদস্যরা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে নোটিস দেন এবং বিধি অনুযায়ী সেগুলো নিষ্পত্তি করা হয়। স্পিকার বলেন, অধিবেশনে ৬৮ বিধিতে সাতটি নোটিস পাওয়া যায়। এর মধ্যে দুটি নোটিস গ্রহণ করে আলোচনা করা হয়েছে। ৭১ বিধিতে ১৫টি নোটিস গ্রহণ করা হয় এবং ১৪টির ওপর আলোচনা অনুষ্ঠিত হয়। ৭১(ক) বিধিতে দুই মিনিটের বক্তব্য দেওয়ার জন্য ১২৪টি নোটিস পাওয়া যায়। এ ছাড়া ১৪৭ বিধিতে দুটি নোটিস পাওয়া যায়, যার একটির ওপর আলোচনা হয়েছে। ৩০২ বিধিতে একটি নোটিস উত্থাপিত হয়। অধিবেশন সমাপ্তির বক্তব্যে সংসদে মতপার্থক্যকে গণতান্ত্রিক সংসদীয় ব্যবস্থার স্বাভাবিক বৈশিষ্ট্য হিসেবে উল্লেখ করা হয়।

একই সঙ্গে ভিন্ন মতপ্রকাশের পাশাপাশি সংসদীয় কার্যক্রমে সক্রিয় অংশগ্রহণ, পারস্পরিক শ্রদ্ধা ও সৌহার্দপূর্ণ পরিবেশ বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়। বক্তব্যে বলা হয়, কিছুক্ষণ আগে সংসদ নেতা গালাগালির সংস্কৃতি পরিহারের জন্য সব পক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন। আগামী অধিবেশনগুলোতে সংসদ সদস্যরা সংসদীয় রীতিনীতি ও ঐতিহ্য সমুন্নত রাখবেন এবং দেশের স্বার্থকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করবেন বলে আশা প্রকাশ করা হয়। এতে সংসদ পরিচালনায় সহযোগিতার জন্য সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, বিরোধীদলীয় নেতা, মন্ত্রিসভার সদস্য, চিফ হুইপ ও হুইপ, বিরোধী দলের চিফ হুইপ এবং সংসদ সদস্যদের ধন্যবাদ জানানো হয়। একই সঙ্গে ডেপুটি স্পিকার, সভাপতিম-লীর সদস্য, সংসদ সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তর, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও বিভিন্ন সেবা সংস্থার সদস্যদের প্রতিও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করা হয়।

স্পিকার বলেন, গণমাধ্যমের ভূমিকারও প্রশংসা করা হয়। জাতীয় দৈনিক, সংবাদ সংস্থা, বাংলাদেশ বেতার, সংসদ বাংলাদেশ টেলিভিশন, বাংলাদেশ টেলিভিশন ও বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেলের সাংবাদিক ও প্রতিনিধিদের ধন্যবাদ জানানো হয়। সমাপনী বক্তব্যে পারস্পরিক শ্রদ্ধা, সহনশীলতা ও সৌহার্দ বজায় রেখে সংসদীয় রীতি কার্যপ্রণালির প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকার আহ্বান জানানো হয়। জনগণের আশা-আকাক্সক্ষার প্রতিফলন ঘটাতে সংসদ সদস্যরা সম্মিলিতভাবে দায়িত্ব পালন করবেন বলেও প্রত্যাশা ব্যক্ত করা হয়। পরে সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের ১ দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতির আদেশ পাঠ করা হয়। রাষ্ট্রপতির আদেশ অনুযায়ী ১০ সেপ্টেম্বর বৃহস্পতিবার বৈঠক শেষে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের তৃতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত