দুই বছরের বিরতি পেরিয়ে উয়েফা চ্যাম্পিয়নস লিগের আলোয় ফিরেছে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড। ওল্ড ট্রাফোর্ডের চেনা মঞ্চে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের অভিজাত এই আসরে প্রথমবার খেলতে আসা আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহ এফসিকে নিয়ে রীতিমতো ছেলেখেলা করেছে মাইকেল ক্যারিকের দল। চার গোল ও ক্লিন শিটের উৎসবে মেতে ওঠা ৪-০ ব্যবধানের এই জয় প্রিমিয়ার লিগের হতাশা ভুলে রেড ডেভিলদের মনে এনে দিয়েছে স্বস্তির সুবাতাস।
ম্যাচের শুরুটা কিছুটা ধীরেসুস্থে হলেও প্রথমার্ধের শেষ ভাগে দুর্দান্ত গতিতে জ্বলে ওঠে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ২৭ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার দারুণ ফিনিশিংয়ে ডেডলক ভাঙে। এরপর এই ব্রাজিলিয়ান ফরোয়ার্ডের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন কাপ্তান ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এবার ব্রুনোর বাড়ানো বল ধরে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ঠান্ডা মাথায় বল জালে জড়ান বেঞ্জামিন সেসকো। এতে প্রথমার্ধেই খেলার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় রেড ডেভিলরা। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেছিল ইউনাইটেড। খেলার শেষ দিকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিশানাভেদে ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে মাইকেল ক্যারিকের দল।
ম্যাচ শেষে সম্প্রচারমাধ্যম টিএনটি স্পোর্টসকে দেওয়া প্রতিক্রিয়ায় দলের ফরোয়ার্ড সেসকো জয়ের আনন্দ প্রকাশ করে জানান, ‘ম্যাচটি সবার জন্যই একদম নিখুঁত ছিল বিশেষ করে আমাদের সমর্থকদের জন্য। মাঠে এতগুলো গোল দেখা তাদের কাছে সবসময়ই অনেক বড় প্রাপ্তি।’
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগে মন্দের ভালোর মতোন শুরু পর চ্যাম্পিয়নস লিগের এই জয়ে দল যে বাড়তি আত্মবিশ্বাস পাবে, তা স্পষ্ট। ইউরোপের মঞ্চে এই দুর্দান্ত পারফরম্যান্সের পর কোচ ক্যারিকও দলের সামগ্রিক খেলা নিয়ে সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন। তবে এও জানিয়েছেন এটিই তাদের কাঙ্ক্ষিত শুরু না। ম্যাচ শেষে সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, ‘ফলাফলের দিক থেকে এটি আমাদের কাঙ্ক্ষিত শুরু না হলেও, পারফরম্যান্সের বিচারে আমরা ঠিক যে বিষয়গুলো চাচ্ছিলাম, তার অনেক কিছুই মাঠে ফুটিয়ে তুলতে পেরেছি।’
এদিকে ঘরের মাঠে পাওয়া এই গোলের উৎসব শুধু যে ইউরোপীয় মিশন রাঙাল তা নয়, বরং সামনের ম্যানচেস্টার ডার্বির আগে পুরো দলকে মানসিকভাবে দারুণ চাঙ্গা করে তুলল। ইউরোপীয় মঞ্চের লড়াই শেষে প্রিমিয়ার লিগ ইতিহাসের সবচেয়ে পুরনো দ্বৈরথে আগামি রবিবার ম্যানচেস্টার সিটির বিপক্ষে লড়বে ব্রুনো-কুনহারা।