চলে গেলেন দেশের প্রখ্যাত শিশুসাহিত্যিক, ছড়াকার ও গণমাধ্যম ব্যক্তিত্ব আমীরুল ইসলাম। বৃহস্পতিবার (১০ সেপ্টেম্বর) রাত ১টায় রাজধানীর একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। দীর্ঘদিন ধরে কিডনিসহ নানা শারীরিক জটিলতায় ভুগছিলেন এই গুণী লেখক। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৬২ বছর।
১৯৬৪ সালের ৭ এপ্রিল ঢাকার লালবাগে জন্মগ্রহণ করেন আমীরুল ইসলাম। তার পিতা প্রয়াত সাইফুর রহমান এবং মাতা প্রয়াত আনজিরা খাতুন। তাঁর চাচা (পিতৃব্য) খ্যাতিমান শিশুসাহিত্যিক প্রয়াত কবি হাবীবুর রহমান। পারিবারিক সাহিত্যিক আবহেই তাঁর বেড়ে ওঠা ও সাহিত্যচর্চার শুরু।
পেশাগত জীবনে আমীরুল ইসলাম চ্যানেল আইয়ের অনুষ্ঠান বিভাগের প্রধান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। এর আগে বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র থেকে প্রকাশিত কিশোর-তরুণদের উৎকর্ষধর্মী মাসিক ‘আসন্ন’ পত্রিকা ১০ বছর এবং দৈনিক বাংলার প্রথম চাররঙা কিশোর পাতা ৬ বছর সম্পাদনা করেছেন। এছাড়া তিনি বাংলা একাডেমির ফেলো এবং মুক্তিযুদ্ধ জাদুঘরের প্রতিষ্ঠাতা সদস্য ছিলেন। শিশুসাহিত্যে অনন্য অবদানের জন্য তিনি তিন শতাধিক গ্রন্থের প্রণেতা।
সাহিত্যে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি অসংখ্য জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পুরস্কার লাভ করেছেন। এর মধ্যে ২০০৬ সালে মর্যাদাপূর্ণ বাংলা একাডেমি সাহিত্য পুরস্কার অর্জন করেন।
সবচেয়ে কম বয়সে ‘খামখেয়ালি’ ছড়াগ্রন্থের জন্য তিনি বাংলাদেশ শিশু একাডেমি প্রবর্তিত অগ্রণী ব্যাংক শিশুসাহিত্য পুরস্কার লাভ করেন এবং পরবর্তীতে এই পুরস্কার পান আরও পাঁচবার। এছাড়া সিকান্দার আবু জাফর সাহিত্য পুরস্কার, নুরুল কাদের শিশুসাহিত্য পুরস্কার, কলকাতার অন্নদাশঙ্কর সাহিত্য পুরস্কার এবং ঢাকা ব্যাংক আনন্দ আলো সাহিত্য পুরস্কারসহ বহু সম্মাননায় ভূষিত হয়েছেন।
তার প্রয়াণে দেশের সাহিত্য অঙ্গনে নেমে এসেছে শোকের ছায়া। মরহুমের জানাজা ও দাফন সম্পন্ন হয়েছে। বাদ জুমা তার প্রিয় কর্মস্থল চ্যানেল আই প্রাঙ্গণে প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।
এরপর বিকেল ৩টায় বাংলা একাডেমিতে সর্বস্তরের মানুষের শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে দ্বিতীয় জানাজা এবং বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্রে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে বাদ আসর মিরপুরের গোলারটেক মসজিদে তৃতীয় ও শেষ জানাজা অনুষ্ঠিত হবে। পরে তার শেষ ইচ্ছা অনুযায়ী মিরপুর বুদ্ধিজীবী কবরস্থানে মায়ের কবরের পাশে চিরনিদ্রায় শায়িত করা হবে এই বরেণ্য লেখককে।