‘হ্যানিম্যান’ আমার অভিনয় জীবনের সিগনেচার চরিত্র হতে যাচ্ছে

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:৪৬ এএম

আজ ১২ সেপ্টেম্বর শনিবার সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির স্টুডিও থিয়েটার হলে মঞ্চস্থ হতে যাচ্ছে মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ৪৫তম প্রযোজনা ‘হ্যানিম্যান’। হোমিওপ্যাথি চিকিৎসার আবিষ্কারক ডা. স্যামুয়েল হ্যানিম্যানের জীবন, দর্শন ও চিকিৎসাশাস্ত্রের গঠনগত দিক নিয়ে তৈরি এই নাটকে একক অভিনয় করছেন নাট্যদলটির সভাপতি ও জ্যেষ্ঠ অভিনেতা মীর জাহিদ হাসান। নাটকটির নেপথ্য গল্প, নির্মাণ ও অভিনয় অভিজ্ঞতা নিয়ে কথা হয় তার সঙ্গে। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন রমিতা রওজা

মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের দীর্ঘ পথচলায় ‘হ্যানিম্যান’ একটি ভিন্নমাত্রার সংযোজন। নাটকের প্রেক্ষাপট ও নির্বাচন নিয়ে যদি কিছু বলতেন।

মহাকাল নাট্য সম্প্রদায় ৪৩ বছরের নিরবচ্ছিন্ন পথচলায় পথনাটক ও মঞ্চনাটক মিলিয়ে ৪৪টি প্রযোজনা ও ১১২৮টি প্রদর্শনী সম্পন্ন করেছে। ‘হ্যানিম্যান’ আমাদের ৪৫তম প্রযোজনা এবং এটিই দলের প্রথম একক অভিনয়ের নাটক। বর্তমান বিশ্বে স্বাস্থ্যঝুঁকি, চিকিৎসা সচেতনতা এবং সহজলভ্য খরচে রোগীর শারীরিক সুস্থতা নিশ্চিত করার শৈল্পিক ভাবনা থেকেই নাটকটি নির্বাচন করা হয়েছে। এতে হোমিও চিকিৎসার প্রায়োগিক দিকের পাশাপাশি ডা. হ্যানিম্যানের নাটকীয় জীবন ও দর্শন ফুটে উঠেছে। নাটকে হ্যানিম্যান একটি অমলিন বার্তা উচ্চারণ করেন, ‘মানুষ মরণশীল, কিন্তু রোগের চিকিৎসা আছে’। এই মানবিক বার্তাটি সবার কাছে পৌঁছে দেওয়াই আমাদের মূল লক্ষ্য।

নাটকটির রচনা, নির্দেশনার গল্পটি জানতে চাই?

দলের ৪৩ বছর পূর্তি উপলক্ষে আমরা একটি স্বাস্থ্যসুরক্ষাকেন্দ্রিক নতুন প্রযোজনার পরিকল্পনা করি। সেই ভাবনা থেকে নাট্যকার অপূর্ব কুমার কু-ুকে গবেষণাধর্মী নাটকটি রচনার অনুরোধ জানানো হয়। দীর্ঘ গবেষণা ও চমৎকার সংলাপের মাধ্যমে তিনি পা-ুলিপি প্রস্তুত করেন। দলে কয়েক দফা পাঠের পর সর্বসম্মতিক্রমে এটি প্রযোজনার সিদ্ধান্ত হয়। নির্দেশনা দিয়েছেন শুভাশীষ দত্ত তন্ময়, যিনি মুখাবয়বে চরিত্র আঁকার পাশাপাশি এবার মঞ্চেও চরিত্র ফুটিয়ে তুলেছেন। দলের একদল নিবেদিতপ্রাণ নাট্যকর্মীর পরিশ্রমে গত ৩০ জুলাই ২০২৬ নাটকটির উদ্বোধনী মঞ্চায়ন হয়। প্রথম প্রদর্শনীতেই হোমিওপ্যাথি মেডিকেল বোর্ডের কর্মকর্তা, চিকিৎসক ও শিক্ষার্থীদের দারুণ প্রশংসা আমাদের উদ্বুদ্ধ করেছে।

৫০ বছরের অভিনয় জীবনে একক অভিনয়ের এই অভিজ্ঞতা এবং ডা. হ্যানিম্যান চরিত্রটিকে নিজের ভেতরে ধারণ করার যাত্রা কেমন ছিল?

পা-ুলিপির অন্তর্নিহিত ভাব, নির্দেশকের সূক্ষ্ম গাইডলাইন এবং আমার ৫০ বছরের অভিনয় অভিজ্ঞতার সমন্বয়ে চরিত্রটি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি। উদ্দেশ্য ছিল বিদেশি এই ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপটকে সর্বজনীনভাবে দর্শকের সামনে পরিবেশন করা। চারটে প্রদর্শনী শেষে এখন অনেকেই আমাকে ‘হ্যানিম্যান’ নামে সম্বোধন করছেন। একজন অভিনেতার জন্য এটি পরম প্রাপ্তি। প্রত্যেক অভিনেতার জীবনে কিছু চরিত্র ‘সিগনেচার’ হয়ে থাকে। আমার বিশ্বাস, হ্যানিম্যান চরিত্রটিও আমার অভিনয় জীবনের অন্যতম সিগনেচার হতে চলেছে।

মহাকাল নাট্য সম্প্রদায়ের ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা কি?

বর্তমানে ‘সুরেন্দ্রকুমারী’, ‘নীলাখ্যান’ এবং ‘হ্যানিম্যান’ এই তিনটি নাটক আমাদের নিয়মিত প্রযোজনায় রয়েছে। সম্প্রতি কর্মশালার মাধ্যমে নবীন ও প্রবীণ কর্মীদের সমন্বয়ে নতুন কিছু ভাবনার বাস্তবায়ন চলছে। এ ছাড়া দেশের বাইরেও বিভিন্ন মঞ্চায়নের আমন্ত্রণে সাড়া দেওয়ার প্রস্তুতি নিচ্ছি আমরা।

আজ নাটকটির পঞ্চম মঞ্চায়ন। দর্শকদের উদ্দেশ্যে কিছু বলতে চান?

অসুস্থতা মানুষের জীবনের স্বাভাবিক অংশ। তবে শুধু ওষুধেই নয়, মানসিক সচেতনতা ও প্রস্তুতিও স্বাস্থ্য সুরক্ষায় বড় ভূমিকা রাখে। ‘হ্যানিম্যান’ নাটকটি দেখলে দর্শক নিজের ভেতর একটি স্বাস্থ্য সুরক্ষা বলয় তৈরির অনুপ্রেরণা পাবেন। আজ সন্ধ্যায় শিল্পকলায় সবাইকে আসার আমন্ত্রণ জানাচ্ছি। আমাদের আন্তরিক পরিবেশনায় দর্শক যদি ডা. হ্যানিম্যানকে সামাজিকভাবে ও মানসিকভাবে গ্রহণ করেন, তবেই আমাদের চেষ্টা সার্থক হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত