দুই বছর পর চ্যাম্পিয়নস লিগে ফিরে ম্যানচেস্টার ইউনাইটেড যেমন আজারবাইজানের ক্লাব সাবাহ এফসিকে উড়িয়ে দিয়ে সফলভাবে মিশন শুরু করেছে, ঠিক তেমনি জার্মান পরাশক্তি বায়ার্ন মিউনিখও বোডো/গ্লিম্টকে গোলবন্যায় ভাসিয়েছে। তবে রাতের সবচেয়ে বড় আকর্ষণ ছিল ইতালিয়ান ক্লাব কোমোর স্বপ্নের অভিষেক, যারা নিজেদের প্রথম ম্যাচেই তাক লাগিয়ে দিয়েছে গোটা ইউরোপকে।
চার গোলের ম্যাচে ইউনাইটেডের প্রত্যাবর্তন
ওল্ড ট্রাফোর্ডে ইউরোপিয়ান ক্লাব ফুটবলের অভিজাত এই আসরে প্রথমবার খেলতে আসা সাবাহর বিপক্ষে শুরু থেকেই চড়াও হয়েছিল ম্যানইউ। চার গোল ও ক্লিন শিটের উৎসবে মেতে ওঠা ৪-০ ব্যবধানের এই জয় প্রিমিয়ার লিগের যাবতীয় হতাশা ভুলে রেড ডেভিলদের মনে এনে দিয়েছে স্বস্তির সুবাতাস।
ম্যাচের শুরুটা কিছুটা ধীরেসুস্থে হলেও প্রথমার্ধের শেষ ভাগে দুর্দান্ত গতিতে জ্বলে ওঠে স্বাগতিকরা। ম্যাচের ২৭ মিনিটে ম্যাথিউস কুনহার দারুণ ফিনিশিংয়ে ডেডলক ভাঙে। এরপর এই বেলজিয়ান মিডফিল্ডার ইউরি তিলেমানসের নিখুঁত পাস থেকে বল জালে জড়িয়ে ব্যবধান দ্বিগুণ করেন অধিনায়ক ব্রুনো ফার্নান্দেজ।
প্রথমার্ধের শেষ মুহূর্তে এবার ব্রুনোর বাড়ানো বল ধরে গোলরক্ষককে কাটিয়ে ঠা-া মাথায় বল জালে জড়ান বেঞ্জামিন সেসকো। এতে প্রথমার্ধেই খেলার পুরো নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নেয় রেড ডেভিলরা। বিরতির পর দ্বিতীয়ার্ধেও ম্যাচের নিয়ন্ত্রণ পুরোপুরি নিজেদের হাতে রেখেছিল ইউনাইটেড। খেলার শেষ দিকে লিসান্দ্রো মার্তিনেজের নিখুঁত নিশানাভেদে ৪-০ গোলের বড় জয় নিশ্চিত করে মাঠ ছাড়ে মাইকেল ক্যারিকের দল।
চলতি মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের মন্দের ভালোর মতো শুরুর পর চ্যাম্পিয়নস লিগের এই জয় দলটিকে জুগিয়েছে বাড়তি আত্মবিশ্বাস। আর এই জয় আসন্ন ম্যানচেস্টার ডার্বির আগে পুরো দলকে মানসিকভাবে দারুণ চাঙ্গা করে তুলেছে।
মুসিয়ালার ফেরা ও বায়ার্নের পাঁচ গোলের দাপট
ইউরোপীয় অঙ্গনে বাভারিয়ানদের দাপট নতুন কোনো গল্প নয়, তবে নরওয়ের ক্লাব বোডো/গ্লিম্টের বিপক্ষে ভিনসেন্ট কোম্পানির দলের এবারের সূচনাটা ছিল আরও বেশি আগ্রাসী। প্রথমার্ধে প্রতিপক্ষ ভালো প্রতিরোধ গড়ার চেষ্টা চালালেও দ্বিতীয়ার্ধেই পুরোপুরি পাল্টে যায় দৃশ্যপট। বায়ার্ন শিবিরকে সবচেয়ে বেশি স্বস্তি দিয়েছে অসুস্থতা ও ইনজুরি কাটিয়ে জামাল মুসিয়ালার জাদুকরী প্রত্যাবর্তন।
প্রথমার্ধে অবশ্য প্রতিপক্ষে ভালো একটা প্রতিরোধ গড়েছিল। সেখানে বিরতিতে যাওয়ার আগ পর্যন্ত ম্যাচের স্কোরলাইন ছিল ০-০। তবে দ্বিতীয়ার্ধেই পাঁচ গোল করে নিজেদের জাত চেনায় বায়ার্ন। ম্যাচের ৪৭ মিনিটে হ্যারি কেইনের শট থেকে বল পেয়ে চমৎকার ফিনিশিংয়ে স্বাগতিকদের এগিয়ে দেন তরুণ তারকা মুসিয়ালা। গোলের পর নিজের মাথার পাশে আঙুল দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে তিনি বুঝিয়ে দেন কঠিন সময় পেছনে ফেলে তিনি কতটা স্বস্তিতে ফিরেছেন। এরপর মিনিট চৌদ্দ পরে হেডের সুবাদে চ্যাম্পিয়নস লিগে নিজের ৫৫তম গোলটি তুলে নেন হ্যারি কেইন। এছাড়া আলফোনসো ডেভিসের দূরপাল্লার রকেট শট এবং মাইকেল অলিসের জোড়া গোল বায়ার্নের ৫-০ গোলের বিশাল জয় নিশ্চিত করে।
কোমোর অভাবনীয় অভিষেক ও ইতিহাস
ইউরোপের শীর্ষ প্রতিযোগিতায় প্রথমবার পা রেখেই ইতিহাস গড়েছে কোমো। নিজেদের ঘরের মাঠ স্টাডিও সিনিগাগ্লিয়াকে উয়েফার নিয়মের অধীনে প্রস্তুত করতে বড় ধরনের লড়াই করতে হয়েছিল ইতালিয়ান ক্লাবটিকে। শেষ পর্যন্ত সমস্ত বাধা পেরিয়ে আরবি লাইপজিগের বিপক্ষে ৪-১ গোলের চোখ জুড়ানো এক জয় তুলে নেয় সেস্ক ফ্যাব্রেগাসের দল। মাঠের চমৎকার ফুটবল শৈলীর পাশাপাশি কোমোর এই জয় ইতালিয়ান ফুটবল মানচিত্রে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করল।
ম্যাচের শুরু থেকেই আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলতে থাকা কোমো ১৫ মিনিটে মার্টিন বাতুরিনার গোলে এগিয়ে যায়। এরপর তসো দৌভিকাস ও আসেন দিয়াও ব্যবধান বাড়ালে চালকের আসনে বসে পড়ে স্বাগতিকরা। লাইপজিগের আন্দ্রিজা মাকসিমোভিচ এক গোল শোধ করলেও শেষ মুহূর্তে ম্যাক্সিমো পেরোনের গোলে বড় জয় নিশ্চিত হয়।