জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে বাংলাদেশের বিশ্বকাপ স্বপ্ন শেষ হয়ে গেল। মেয়েদের মতো লাল-সবুজের ছেলেদের স্বপ্নভঙ্গের হোতাও জাপান। ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জাপানের কাছে ৬-২ গোলে হেরে আগামী যুব হকি বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হয়েছে বাংলাদেশ অনূর্ধ্ব-২০ যুব দল। শুক্রবার চীনের মকিতে অনুষ্ঠিত ম্যাচে শুরু থেকেই আধিপত্য ছিল জাপানের। দ্বিতীয় মিনিটেই সেয়া ইয়ামাদার ফিল্ড গোলে এগিয়ে যায় তারা। এরপর ২৯ মিনিটে ইউনোসুকে সোনের পেনাল্টি স্ট্রোক এবং ১ মিনিট পর শোতা হানায়ামার ফিল্ড গোলে ৩-০ ব্যবধানে এগিয়ে যায় জাপান।
৩৬ মিনিটে রিনতারো সাকাই পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করলে ব্যবধান আরও বাড়ে। ৪১ মিনিটে নিজের দ্বিতীয় গোল করে জাপানকে ৫-০ ব্যবধানে এগিয়ে দেন সাকাই। একই মিনিটে পেনাল্টি স্ট্রোক থেকে বাংলাদেশের হয়ে প্রথম গোলটি করেন মেহেদী। তবে ৪৫ মিনিটে কিয়োয়া তোয়ার গোলে আবারও ব্যবধান বাড়ায় জাপান। শেষ কোয়ার্টারে বাংলাদেশ আরও একটি গোল শোধ করে। ৫০ মিনিটে পেনাল্টি কর্নার থেকে গোল করেন মুন্না। শেষ পর্যন্ত ৬-২ গোলের হার নিয়েই মাঠ ছাড়ে বাংলাদেশ।
ম্যাচে জাপানের ১০টির বিপরীতে বাংলাদেশ পেয়েছিল ১২টি পেনাল্টি কর্নার। তবে সুযোগগুলো কাজে লাগাতে না পারায় বড় ব্যবধানে হার এড়াতে পারেনি লাল-সবুজের দল। এই হারের ফলে টুর্নামেন্টের সেরা পাঁচে থাকার সুযোগও হারাল বাংলাদেশ। একই সঙ্গে আগামী যুব হকি বিশ্বকাপের টিকিট পাওয়ার সম্ভাবনাও শেষ হয়ে গেল। টুর্নামেন্টে বাংলাদেশের আর একটি ম্যাচ বাকি। আগামীকাল সপ্তম ও অষ্টম স্থান নির্ধারণী ম্যাচে মাঠে নামবে অনূর্ধ্ব-২০ দল।
সুযোগ তৈরি করেও তা কাজে লাগাতে না পারা আর রক্ষণের ধারাবাহিক ভুল, জুনিয়র এশিয়া কাপ হকিতে জাপানের কাছে হারের পেছনে এই দুই কারণকেই দায়ী করছেন বাংলাদেশ দলের কোচ জাইলস বোনেট। তার কথা, ‘আমরা গোল করার অনেক সুযোগ তৈরি করেছিলাম, কিন্তু তা কাজে লাগাতে পারিনি। ৩-০ গোলে পিছিয়ে থাকা অবস্থাতেও আমাদের সামনে অন্তত চারটি সুযোগ এসেছিল। কিন্তু আমরা গোল করতে পারিনি, উল্টো প্রতিপক্ষ পরে আরও দুটি গোল করে বসে।’ এর আগে বৃহস্পতিবার নারীদের কোয়ার্টার ফাইনালেও জাপানের কাছে ২-০ গোলে হেরেছিল বাংলাদেশ। শেষ চারে উঠতে পারলে মেয়েদের বিশ্বকাপ নিশ্চিত হতো। এখন পঞ্চম ও ষষ্ঠ স্থান নির্ধারণী ম্যাচে জিততে পারলে নারী দলের সামনে বিশ্বকাপে খেলার সুযোগ রয়েছে।