দ্রুত বিচার নিশ্চিতে পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি সমন্বয়ের তাগিদ

ডিজিটাল আলামত ও ইলেকট্রনিক সাক্ষ্য জব্দ ও সংরক্ষণে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়।

আপডেট : ১২ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:৪২ পিএম

মামলা দ্রুত নিষ্পত্তিতে আদালত, পুলিশ, চিকিৎসক ও সংশ্লিষ্ট অন্যান্য পক্ষকে সমন্বিতভাবে কাজ করার তাগিদ দেয়া হয়েছে ঢাকার পুলিশ-ম্যাজিস্ট্রেসি কনফারেন্সে। দ্রুত তদন্ত শেষ করে নির্ধারিত সময়ে চার্জশিট দাখিল, মেডিকেল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন সংগ্রহ এবং আসামিদের সময়মতো আদালতে হাজির করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়েছে।

শনিবার (১২ সেপ্টেম্বর) ঢাকার জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেসির আয়োজনে এ কনফারেন্স অনুষ্ঠিত হয়। ঢাকার চীফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট (ভারপ্রাপ্ত) মো. মাহবুবুর রহমানের সভাপতিত্বে এতে প্রধান অতিথি ছিলেন ঢাকার সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম।

কনফারেন্সে ঢাকার পুলিশ সুপার শামীমা পারভীন, সিআইডির পুলিশ সুপার, জেল সুপার, সিভিল সার্জন, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও এনাম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রতিনিধিসহ বিভিন্ন থানার অফিসার ইনচার্জ, জেলা পিপি, ঢাকা আইনজীবী সমিতির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদক এবং ম্যাজিস্ট্রেটরা উপস্থিত ছিলেন।

সভায় মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে সময়মতো চার্জশিট দাখিল, মেডিকেল ও ফরেনসিক প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে পাঠানো এবং আলামত যথাযথভাবে সংরক্ষণের ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। হত্যা মামলায় সুরতহাল প্রতিবেদন, জব্দ তালিকা ও পোস্টমর্টেম প্রতিবেদন দ্রুত আদালতে পাঠানোর নির্দেশনাও দেয়া হয়।

বৈষম্যবিরোধী আন্দোলন-সংক্রান্ত মামলাগুলোর অগ্রগতিও পর্যালোচনা করা হয়। জানানো হয়, ঢাকা জেলা জজ আদালতে এ ধরনের চারটি মামলা বিচারের জন্য এসেছে। এসব মামলার তদন্ত দ্রুত শেষ করে আইনানুগভাবে চার্জশিট দাখিলের জন্য জেলার থানাগুলোর অফিসার ইনচার্জদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিতে পুলিশ সুপারের প্রতি অনুরোধ জানানো হয়। অভিযোগের পর্যাপ্ত ভিত্তি না পাওয়া গেলে আইনানুগ প্রক্রিয়া অনুসরণের ওপরও গুরুত্ব দেয়া হয়।

ডিজিটাল আলামত ও ইলেকট্রনিক সাক্ষ্য জব্দ ও সংরক্ষণে তদন্ত কর্মকর্তাদের সতর্ক থাকার নির্দেশ দেয়া হয়। সিসি ক্যামেরার ডিভিআর যথাযথভাবে জব্দ এবং মোবাইল ফোনের সিম ও আইএমইআই নম্বর সঠিকভাবে নথিভুক্ত করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়। একই সঙ্গে ফৌজদারি কার্যবিধির ১৬৪ ধারায় জবানবন্দি ও স্বীকারোক্তি গ্রহণের ক্ষেত্রে নির্ধারিত আইনগত প্রক্রিয়া অনুসরণের নির্দেশ দেয়া হয়।

দীর্ঘদিনের গ্রেপ্তারি পরোয়ানা দ্রুত তামিল এবং আসামিদের গ্রেপ্তারে কার্যকর পদক্ষেপ নেয়ার বিষয়েও গুরুত্ব দেয়া হয়। পুলিশ রিপোর্টে আসামির নাম বা ঠিকানায় ভুল থাকলে আইনানুগভাবে সম্পূরক অভিযোগপত্র দাখিলের বিষয়েও আলোচনা হয়। তবে এতে মূল অভিযোগপত্রের কোনো আসামি যেন বাদ না যায়, সে বিষয়ে সতর্ক থাকার নির্দেশ দেন জেলা ও দায়রা জজ মো. রফিকুল ইসলাম।

এছাড়া আদালত ভবনের লিফটের সমস্যা, ভ্রাম্যমাণ আদালতে প্রয়োজনীয় পুলিশি সহায়তা, নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনের মামলায় মেডিকেল পরীক্ষার প্রয়োজনীয়তা এবং আদালতে সহকারী পাবলিক প্রসিকিউটরদের (এপিপি) নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত করার বিষয়েও আলোচনা হয়।

কনফারেন্সে বিচারপ্রার্থীদের ভোগান্তি কমানো এবং দ্রুত বিচার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট সব পক্ষের মধ্যে কার্যকর সমন্বয় আরও জোরদার করার ওপর গুরুত্ব দেয়া হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত