অক্সিমিটার

আপডেট : ১৩ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০২:২০ এএম

শরীরে অক্সিজেনের মাত্রা স্বাভাবিক আছে কি না, দ্রুত জানার জন্য ব্যবহৃত হয় পালস অক্সিমিটার। ছোট আকারের এই যন্ত্রটি সাধারণত আঙুলের ডগায় লাগানো হয় এবং কয়েক সেকেন্ডের মধ্যেই রক্তে অক্সিজেনের স্যাচুরেশন বা ঝঢ়ঙ₂ ও হৃদ্স্পন্দনের হার দেখায়। বিশেষ করে শ্বাসকষ্ট, ফুসফুসের বিভিন্ন রোগ বা হৃদ্যন্ত্রের সমস্যায় আক্রান্ত ব্যক্তির অবস্থা পর্যবেক্ষণে এটি বেশ কার্যকর। অক্সিমেট্রির ধারণার বিকাশ শুরু হয় বিংশ শতাব্দীর প্রথমার্ধে। ১৯৩০-এর দশকে জার্মান চিকিৎসাবিজ্ঞানী কার্ল ম্যাথেস (কধৎষ গধঃঃযবং) রক্তে অক্সিজেনের মাত্রা পরিমাপের জন্য প্রাথমিকভাবে অক্সিমিটার তৈরি করেন। পরবর্তীতে জাপানি প্রকৌশলী তাকুও আওয়াগি ১৯৭৪ সালে আধুনিক পালস অক্সিমিটারের মূল প্রযুক্তি উদ্ভাবন করেন। তার উদ্ভাবনের ওপর ভিত্তি করেই পরবর্তী সময়ে ছোট ও সহজে ব্যবহারযোগ্য পালস অক্সিমিটার তৈরি হয়। যন্ত্রটি আঙুলে আলো পাঠিয়ে রক্তে অক্সিজেনযুক্ত ও অক্সিজেনবিহীন হিমোগ্লোবিনের পার্থক্য শনাক্ত করে। এতে শরীরে কোনো সুচ বা রক্ত নেওয়ার প্রয়োজন হয় না। বাড়িতে নিয়মিত স্বাস্থ্য পর্যবেক্ষণ, হাসপাতাল, জরুরি বিভাগ এবং অস্ত্রোপচারের সময় অক্সিজেনের মাত্রা নজরে রাখতে এটি ব্যবহৃত হয়। তবে অক্সিমিটারের দেখানো সংখ্যা সবসময় নিখুঁত নাও হতে পারে। ঠান্ডা আঙুল, নড়াচড়া, নখে গাঢ় রঙের  নেইলপলিশ, রক্তসঞ্চালন কমে যাওয়া কিংবা যন্ত্রের মানের কারণে ফলাফলে তারতম্য হতে পারে। তাই অস্বাভাবিক মাত্রা পাওয়া গেলে শুধু অক্সিমিটারের ওপর নির্ভর না করে উপসর্গসহ চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে।

 

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত