বর্তমান সরকার স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটা শুরু করেছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও সংসদের বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। গতকাল শনিবার এনসিপির সহযোগী সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় (ঢাবি) শাখার প্রথম কাউন্সিলে এ মন্তব্য করেন তিনি। দিনব্যাপী ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় প্রথমবারের মতো জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হয়। এতে সারা দেশ থেকে আগত তিন শতাধিক কাউন্সিলর গোপনে ভোট প্রদান করেন। সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২টা পর্যন্ত ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। কাউন্সিল উপলক্ষে শোভাযাত্রা বের হয়।
নাহিদ ইসলাম বলেন, ‘গণঅভ্যুত্থানের আকাক্সক্ষা বাস্তবায়ন হচ্ছে না। বিএনপি সরকার কথা দিয়ে কথা রাখছে না। এই সরকার স্বৈরতান্ত্রিক পথে হাঁটা শুরু করেছে। গণভোটের রায় বাস্তবায়নে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করতে হবে।’ এ সময় তিনি নতুন কমিটিকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা মেনে কার্যক্রম পরিচালনা করার নির্দেশনা ও নতুন নেতৃত্বকে শুভকামনা জানান।
এ সময় এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন বলেন, ‘গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করে সরকার সংস্কার থেকে সরে গেছে। পিএসসিতে ভাইভার নম্বর বাড়িয়ে দিয়ে দলীয় লোকদের নিয়োগ দেওয়ার সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।’ তিনি বলেন, “শেখ হাসিনার আমলে ছিল কোটা প্রথা, আর বর্তমান প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তৈরি করছেন ‘ভাইভা কোটা’।”
এদিন কাউন্সিলরদের ভোটে সংগঠনের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন সদ্য সাবেক সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার। সাধারণ সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সদ্য সাবেক সভাপতি তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী। সাংগঠনিক সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন আবু তৌহিদ মো. সিয়াম। অন্যদিকে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় শাখার সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন হাসিব আল ইসলাম। সাধারণ সম্পাদক পদে নির্বাচিত হয়েছেন ফেরদৌস আইয়াম (রাইয়ান) এবং সাংগঠনিক সম্পাদক নির্বাচিত হয়েছেন মো. জহির রায়হান রিপন।
জাতীয় ছাত্রশক্তির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি, সাধারণ সম্পাদক ও সাংগঠনিক সম্পাদক এই তিন পদে মোট আটজন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। সভাপতি পদে আবু বাকের মজুমদারের প্রতিদ্বন্দ্বী ছিলেন সদ্য বিদায়ী সিনিয়র সহসভাপতি মাহফুজ খান। সাধারণ সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন তাহমীদ আল মুদাসসীর চৌধুরী, কেন্দ্রীয় সহসভাপতি লিমন হাছান ও দপ্তর সম্পাদক মাহফুজুর রহমান।
সাংগঠনিক সম্পাদক পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন সাংগঠনিক সম্পাদক (উত্তরাঞ্চল) আবু তৌহিদ মো. সিয়াম, ঢাকা বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক শ্যামলী সুলতানা জেদনী এবং মো. জহিরুল ইসলাম। প্রার্থীদের মধ্যে শ্যামলী সুলতানা জেদনী ছিলেন একমাত্র নারী প্রার্থী। তিনি এনসিপির সিনিয়র যুগ্ম মুখ্য সমন্বয়ক ও নোয়াখালী-৬ (হাতিয়া) আসনের সংসদ সদস্য আব্দুল হান্নান মাসউদের স্ত্রী। নির্বাচনের ফল ঘোষণায় উপস্থিত ছিলেন নাহিদ ইসলাম, আখতার হোসেন ও এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম।