ফিলিপাইনের দক্ষিণাঞ্চলীয় আধা-স্বায়ত্তশাসিত মুসলিম অঞ্চল বাংসামোরোতে প্রথমবারের মতো ঐতিহাসিক পার্লামেন্ট নির্বাচন অনুষ্ঠিত হচ্ছে। তবে ভোটগ্রহণ শুরুর কয়েক ঘণ্টা আগেই এক রক্তক্ষয়ী সংঘাতের ঘটনা ঘটেছে। একটি ভোটকেন্দ্রের বাইরে দুই প্রতিদ্বন্দ্বী রাজনৈতিক গোষ্ঠীর মধ্যে গুলিবর্ষণে তিনজন নিহত এবং অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
সংবাদ সংস্থা এএফপি জানায়, সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মধ্যরাতের কিছু আগে কোটাবাতো এলাকার একটি স্কুলের সামনে এই সহিংসতার সূত্রপাত হয়, যা ভোটকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছিল। স্থানীয় পুলিশ প্রধান জিবিন বংকায়াও জানান, ভোট দেওয়ার জন্য লাইনে আগে দাঁড়ানোকে কেন্দ্র করে দুটি দলের সদস্যদের মধ্যে কথা-কাটাকাটি শুরু হয়। একপর্যায়ে তা ধাক্কাধাক্কি ও হাতাহাতিতে রূপ নেয় এবং ভিড়ের মধ্য থেকে এলোপাতাড়ি গুলিবর্ষণ করা হয়।
সহিংসতায় জড়িত দলগুলো মূলত মোরো ইসলামিক লিবারেশন ফ্রন্টের (এমআইএলএফ) বিভিন্ন প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠী। সংখ্যাগরিষ্ঠ ক্যাথলিক দেশ ফিলিপাইনে আঞ্চলিক স্বায়ত্তশাসনের দাবিতে দীর্ঘ কয়েক দশক ধরে সশস্ত্র সংগ্রাম চালিয়ে আসছিল এমআইএলএফ। ১৯৯০-এর দশকের শেষভাগে শুরু হওয়া দীর্ঘ শান্তি প্রক্রিয়ার এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হিসেবে বাংসামোরো স্বায়ত্তশাসিত অঞ্চল গঠন করা হয়। এই নির্বাচনের মাধ্যমেই প্রথমবারের মতো সেখানে গণতান্ত্রিক উপায়ে একটি পার্লামেন্ট গঠিত হতে যাচ্ছে।
বাংসামোরো অঞ্চলে দীর্ঘদিন ধরেই রাজনৈতিক সহিংসতা ও প্রভাবশালী পরিবারগুলোর বংশানুক্রমিক সংঘাত বিদ্যমান। এই কারণে নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে সম্পন্ন করাই ছিল প্রশাসনের সবচেয়ে বড় চ্যালেঞ্জ। ভোট উপলক্ষে পুরো অঞ্চলে ২০ হাজারের বেশি নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করা হয়েছে এবং যেকোনো অপ্রীতিকর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রস্তুত রাখা হয়েছে বিশেষ কুইক রেসপন্স টিম। তা সত্ত্বেও সহিংসতার ঘটনা এড়ানো সম্ভব হয়নি।
এমনকি গত মাসেও প্রেসিডেন্ট ফার্দিনান্দ মার্কোস কর্তৃক নিযুক্ত আঞ্চলিক অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রীর গাড়িবহরে সশস্ত্র হামলার ঘটনা ঘটেছিল। এছাড়া সোমবার ভোরের দিকে অন্য একটি ভোটকেন্দ্রের কাছে ঘটে যাওয়া পৃথক এক বিস্ফোরণে আরও এক ব্যক্তি আহত হন, যিনি পরে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় মারা যান। ওই বিস্ফোরণের প্রকৃত কারণ অনুসন্ধানে বর্তমানে তদন্ত চালাচ্ছে স্থানীয় পুলিশ। রক্তক্ষয়ী এই ঘটনা নির্বাচন ঘিরে গোটা অঞ্চলে চরম আতঙ্ক ও থমথমে পরিস্থিতি সৃষ্টি করেছে।