আজ ১৪ সেপ্টেম্বর মঞ্চ, বেতার, টেলিভিশন এবং চলচ্চিত্রের জাঁদরেল অভিনেতা সাদেক বাচ্চুর ৬ষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী আজ। ২০২০ সালের আজকের দিনে মহামারি করোনাভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে না ফেরার দেশে পাড়ি জমান তিনি।
সাদেক বাচ্চুর জন্ম ১৯৫৫ সালের ১ জানুয়ারি, ঢাকায়। তবে তার পৈতৃক নিবাস চাঁদপুরে। তার আসল নাম মাহবুব আহমেদ। মাত্র ১৫ বছর বয়সে চাকরিজীবন শুরু করেন, কাজ করতেন বাংলাদেশ ডাক বিভাগে। ২০১৩ সালে সেই চাকরি থেকে অবসর নিয়েছিলেন। তবে চাকরি কখনো তার অভিনয়জীবনে বড় বাধা তৈরি করেনি। তাই নিয়মিতই কাজ করে গেছেন তিনি।
সাদেক বাচ্চুর অভিনয়ের শুরুটা ষাটের দশকেই। ১৯৭২ সালের দিকে তিনি যুক্ত হন ‘গণনাট্য পরিষদ’ থিয়েটারে। সেখানেই তার অভিনয়ের মূল যাত্রা শুরু হয়। এ দলের হয়ে তিনি অভিনয়ের পাশাপাশি নাটক রচনা ও নির্দেশনাও দিয়েছিলেন। ১৯৭৪ সালে সাদেক বাচ্চু আসেন বিটিভিতে। প্রযোজক আব্দুল্লাহ ইউসুফ ইমামের নাটক ‘প্রথম অঙ্গীকার’ দিয়ে টিভি অভিনয়ে অভিষেক ঘটে তার।
এরপর বহু নাটক করেছেন। করেছেন বিজ্ঞাপনচিত্রও। সিনেমায় সাদেক বাচ্চুর অভিষেক হয় ১৯৮৫ সালে, ‘রামের সুমতি’ দিয়ে। প্রথম দিকে তিনি নায়কের ভূমিকায় অভিনয় করতেন। তবে পরে ক্রমশ খল চরিত্রে ঝুঁকে পড়েন। বিশেষ করে ‘চাঁদনী’ সিনেমায় খল চরিত্রে অভিনয় করে বিপুল পরিচিতি পান। এরপর থেকে তাকে নেতিবাচক চরিত্রেই দেখা গেছে।
সাদেক বাচ্চু অভিনীত উল্লেখযোগ্য কিছু সিনেমা হলো ‘জজ ব্যারিস্টার পুলিশ কমিশনার’, ‘জীবন নদীর তীরে’, ‘জোর করে ভালোবাসা হয় না’, ‘তোমার মাঝে আমি’, ‘ঢাকা টু বোম্বে’, ‘ভালোবাসা জিন্দাবাদ’, ‘এক জবান’, ‘আমার স্বপ্ন আমার সংসার’, ‘মন বসে না পড়ার টেবিলে’, ‘বধূবরণ’, ‘ময়দান’, ‘আমার প্রাণের স্বামী’, ‘আনন্দ অশ্রু’, ‘প্রিয়জন’, ‘সুজন সখী’ প্রভৃতি। অভিনয়ের জন্য ২০১৮ সালে শ্রেষ্ঠ খল অভিনেতা হিসেবে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেছিলেন সাদেক বাচ্চু।
শাকিব-বুবলির স্মৃতিতে সাদেক বাচ্চু
করোনায় মারা গেলেন সাদেক বাচ্চু
সাদেক বাচ্চু আমাকে বাবা ছাড়া ডাকতেন না: সাইমন সাদিক