নাটোরের গুরুদাসপুর পৌরসভা কাগজে-কলমে প্রথম শ্রেণির পৌরসভা। ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত উন্মুক্ত বাজেটে আয় ধরা হয়েছে ৪৪ কোটি ২ লাখ ৯৫ হাজার টাকা, ব্যয়ও প্রায় একই পরিমাণ। উদ্বৃত্ত দেখানো হয়েছে ৯১ লাখ ৩০ হাজার ২০০ টাকা। কিন্তু এত বড় বাজেটের পরও শহরের প্রধান সড়ক থেকে অলিগলি-সবখানেই ভাঙাচোরা রাস্তা, গর্ত ও কাদাপানির চিত্র।
সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সামনে থেকে বাণিজ্যকেন্দ্র চাঁচকৈড় বাজার পর্যন্ত প্রায় এক কিলোমিটার সড়কের বিভিন্ন স্থানে কার্পেটিং উঠে বড় বড় গর্ত তৈরি হয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই এসব গর্ত কাদাপানিতে ভরে যায়। হাসপাতালের প্রধান ফটকের সামনেই ভাঙা রাস্তার ওপর দাঁড়িয়ে থাকে অ্যাম্বুলেন্স, অটোরিকশা ও অন্যান্য যানবাহন।
সবচেয়ে বেশি ভোগান্তিতে পড়েন রোগীরা। ভাঙা সড়কের ঝাঁকুনিতে অ্যাম্বুলেন্স কিংবা রিকশায় হাসপাতালে আসা রোগীদের কষ্ট আরও বেড়ে যায়। বিশেষ করে প্রসূতি ও গুরুতর অসুস্থ রোগীদের জন্য যাত্রাপথ হয়ে ওঠে দুর্বিষহ।
পৌরসভার বাসিন্দা জামিল আহম্মেদ, শরিফুল ইসলাম, শাহজাহান আলী ও আপেল সরকার বলেন, শহরের অনেক রাস্তা এখন চলাচলের অনুপযোগী। তাঁদের দাবি, ড্রেন নির্মাণের পাশাপাশি জরুরি ভিত্তিতে সড়ক সংস্কার করা প্রয়োজন।
চাঁচকৈড় হাটের বিভিন্ন রাস্তা ও অলিগলির অবস্থাও নাজুক। আমজাদ শেখ স্মৃতিগেট থেকে ধানহাট, পাটহাট, কাঠহাট, ডিমহাটা, গুড়হাটা, চৈতালী হাট ও বাঁশহাটের বিভিন্ন অংশে খানাখন্দ ও কাদাপানি জমে আছে বলে অভিযোগ ব্যবসায়ী ও স্থানীয়দের।
শুধু সড়ক নয়, পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থাও বড় সমস্যা। জিয়া খালের পাশের কিছু সড়কে হেরিংবন্ড থাকলেও বিভিন্ন অংশে ইট নেই। খালে পানি নিষ্কাশনের স্বাভাবিক ব্যবস্থা না থাকায় দুর্গন্ধযুক্ত পানি জমে মশার উপদ্রব বাড়ছে বলে অভিযোগ এলাকাবাসীর।
পৌর প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ফাহমিদা আফরোজ এবং পৌরসভার প্রধান প্রকৌশলী মো. আবু রায়হান বলেন, কিছু সড়কের টেন্ডার ইতোমধ্যে হয়েছে। পর্যায়ক্রমে সড়ক ও ড্রেন নির্মাণের কাজ শুরু করা হয়েছে। অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বাকি সড়কগুলোরও সংস্কার ও নির্মাণকাজ করা হবে।
একদিকে কোটি টাকার বাজেট, অন্যদিকে কাদায় ডোবা রাস্তা-এই বৈপরীত্যই এখন গুরুদাসপুর পৌরবাসীর সবচেয়ে বড় আক্ষেপ। শহরের কেন্দ্র থেকে অলিগলি পর্যন্ত মানুষের প্রশ্ন একটাই-কবে বাজেটের অঙ্ক নেমে আসবে বাস্তবের রাস্তায়?