কুয়াকাটায় জেলের জালে বিরল ‘কিং চান্দা' 

আপডেট : ১৪ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৫:০৬ পিএম

পটুয়াখালীর কুয়াকাটা-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে জেলের জালে ধরা পড়েছে বিরল প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ‘কিং চান্দা’। সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) মাছটি মহিপুর মৎস্য মার্কেটে বিক্রির জন্য আনা হলে সেটি দেখতে জেলে, মাছ ব্যবসায়ী ও উৎসুক মানুষের ভিড় জমে।

৩ কেজি ওজনের মাছটি প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে মোট ২ হাজার ২৫০ টাকায় বিক্রি হয়েছে। মাছটি বিক্রির জন্য ‘রিপন ফিশে’ আনা হয়েছিল। পরে কুয়াকাটার ‘আল-আমিন ফিশ বারবিকিউ’ প্রতিষ্ঠানটি তাদের ফ্রাই দোকানের জন্য মাছটি কিনে নেয়।

স্থানীয়রা জানান, মাছটির শরীর চ্যাপ্টা ও প্রায় গোলাকার। পিঠ ও পেটের পাখনা তুলনামূলক প্রশস্ত হওয়ায় দেখতে অনেকটা বাদুড়ের মতো। আকৃতির ভিন্নতার কারণে বাজারে আনার পরপরই মাছটি ঘিরে মানুষের মধ্যে কৌতূহল তৈরি হয়।

স্থানীয় জেলে জামাল বলেন, সাগরে প্রতিদিন বিভিন্ন প্রজাতির মাছ ধরা পড়ে। তবে এ ধরনের চ্যাপ্টা ও বাদুড়ের মতো দেখতে মাছ সচরাচর দেখা যায় না। মাছটি বাজারে আনার পর অনেক মানুষ সেটি দেখতে ভিড় করেন। 

আরেক জেলে রহিম বলেন, গভীর সাগরে মাছ ধরার সময় বিভিন্ন ধরনের সামুদ্রিক মাছ জালে ওঠে। তবে এই মাছটির আকৃতি অন্য মাছের তুলনায় একেবারেই আলাদা। এর আগে এমন মাছ খুব কমই দেখেছেন তিনি।

মৎস্য ব্যবসায়ী কামাল ব্যাপারী জানান, মাছটির অস্বাভাবিক আকৃতি ও ব্যতিক্রমী গড়নের কারণে বাজারে আসার পর ক্রেতা ও স্থানীয়দের মধ্যে ব্যাপক আগ্রহ তৈরি হয়। পরে মাছটি প্রতি কেজি ৭৫০ টাকা দরে বিক্রি করা হয়।

ব্লু অ্যাকশন ফান্ডের অর্থায়নে পরিচালিত ডাব্লিউসিএস (WCS) ও ওয়ার্ল্ডফিশের সমন্বয়ে বাস্তবায়িত ‘সুস্থ সাগর’ প্রকল্পের গবেষণা সহকারী মো. বখতিয়ার রহমান বলেন, মাছটির বৈজ্ঞানিক নাম Platax teira। এটি সামুদ্রিক পরিবেশে বসবাসকারী ব্যাটফিশ বা বাদুর মাছের একটি প্রজাতি। আন্তর্জাতিকভাবে এটি লংফিন ব্যাটফিশ (Longfin batfish) বা টেইরা ব্যাটফিশ (Teira batfish) নামে পরিচিত।

তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশ মেরিন বায়োডাইভার্সিটি পোর্টালে এ প্রজাতির উপস্থিতি সেন্ট মার্টিন দ্বীপের প্রবালপ্রাচীর-সম্পর্কিত সামুদ্রিক পরিবেশে নথিভুক্ত রয়েছে।

পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, Platax গণের মাছ সামুদ্রিক পরিবেশের সঙ্গে সম্পর্কিত। বাংলাদেশে এ ধরনের মাছের উপস্থিতির তথ্য রয়েছে। তবে কুয়াকাটা উপকূলে ধরা পড়া মাছটি ঠিক কোন প্রজাতির, তা নিশ্চিত করতে ছবি ও নমুনা পরীক্ষা করে শনাক্ত করা প্রয়োজন। সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্যের দিক থেকে এ ধরনের মাছের উপস্থিতি গুরুত্বপূর্ণ।

এর আগেও কুয়াকাটা উপকূলে একই ধরনের মাছ ধরা পড়ার তথ্য পাওয়া গেছে।মৎস্য সংশ্লিষ্টরা বলছেন, বঙ্গোপসাগরে নিয়মিত নানা প্রজাতির সামুদ্রিক মাছ ধরা পড়লেও অপেক্ষাকৃত কম পরিচিত প্রজাতির মাছের সঠিক পরিচয় ও বৈজ্ঞানিক তথ্য সংরক্ষণ করা জরুরি। এতে বঙ্গোপসাগরের সামুদ্রিক জীববৈচিত্র্য সম্পর্কে আরও তথ্য সংগ্রহ ও গবেষণার সুযোগ তৈরি হবে।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত