গ্রামীণ কল্যাণকে পাঁচ করবর্ষের জন্য এনবিআর’র (জাতীয় রাজস্ব বোর্ড) দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি ৯১ লাখ ৫২ হাজার ৩৭০ টাকা কর দিতে হাইকোর্টের রায় স্থগিত করেনি সুপ্রিম কোর্টের আপিল বিভাগের চেম্বার আদালত।
সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) চেম্বার আদালতের বিচারপতি ফারাহ মাহবুব গ্রামীণ কল্যাণকে হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পর নিয়মিত দেওয়ানি আপিলের নির্দেশ দিয়েছেন বলে সংশ্লিষ্ট আইনজীবীরা জানান।
আইনজীবীরা আরও জানান, চেম্বার আদালত স্থগিতের আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।
আদালতে গ্রামীণ কল্যাণের পক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী সরদার জিন্নাত আলী ও আব্দুল্লাহ আল মামুন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল আবদুস সামাদ আজাদ।
অ্যাডভোকেট আব্দুল্লাহ আল মামুন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘যেহেতু হাইকোর্টের পূর্ণাঙ্গ রায় এখনো আসেনি তাই চেম্বার আদালত বিষয়টিতে কোনো হস্তক্ষেপ করবেন না। আদালত রাষ্ট্রপক্ষকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন যে, তারা কোনো কার্যক্রমে যাবেন কি না। রাষ্ট্রপক্ষ জানিয়েছে পূর্ণাঙ্গ রায় না পাওয়া পর্যন্ত তারা কোনো কার্যক্রমে যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘চেম্বার আদালত সব শুনে কোনো আদেশ না দিয়ে আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন। আমরা পূর্ণাঙ্গ রায় পেলে আপিল করবো।’
রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী আবদুস সামাদ আজাদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘চেম্বার আদালত বললেন যে, তারা এখন এটাতে হস্তক্ষেপ করবেন না। পূর্ণাঙ্গ রায় পাওয়ার পরে গ্রামীন কল্যাণের নিয়মিত দেওয়ানি আপিলের সুযোগ রয়েছে। তখন চেম্বার আদালত বিষয়টি দেখবেন বলেছেন। পাশাপাশি হাইকোর্টের আদেশ স্থগিত চেয়ে গ্রামীণ কল্যাণের আবেদনটি কার্যতালিকা থেকে বাদ দিয়েছেন।’
কর নিয়ে কর কমিশনারের সিদ্ধান্তের বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে গ্রামীণ কল্যাণের করা পৃথক দুটি রিট আবেদনের ওপর দেওয়া রুল গত বৃহস্পতিবার খারিজ (রুল ডিসচার্জ) করে রায় দেয় হাইকোর্ট। এ রায়ের ফলে গ্রামীণ কল্যাণকে এনবিআরের দাবিকৃত ৬৬৬ কোটি টাকার বেশি অর্থ গ্রামীণ কল্যাণকে দিতে হবে বলে জানান রাষ্ট্রক্ষের আইনজীবীরা।
প্রসঙ্গত, গ্রামীণ কল্যাণের চেয়ারম্যান ছিলেন অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। যিনি সাবেক অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা ছিলেন।
ড. ইউনূসের গ্রামীণ কল্যাণকে কর দিতে হবে ৬৬৬ কোটি টাকা