অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইম সরাসরি এপিলেপসি তৈরির প্রমাণ নেই। তবে কিছু শিশুর ক্ষেত্রে স্ক্রিনের নির্দিষ্ট ভিজুয়াল স্টিমুলেশন এবং বিশেষ করে ঘুমের ঘাটতি খিঁচুনির একটি গুরুত্বপূর্ণ টিগার হিসেবে কাজ করতে পারে।
আলোর প্রতি অতিসংবেদনশীলতা মূলত একটি নির্দিষ্ট ধরনের খিঁচুনি হওয়ার প্রবণতা আছে, এমন মানুষের একটি ছোট অংশ এতে আক্রান্ত।
আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় হলো ঘুমের ঘাটতি। দীর্ঘ সময় স্ক্রিন ব্যবহারের কারণে যদি শিশু রাত জাগে বা পর্যাপ্ত ঘুম না হয়, তাদের খিঁচুনি হওয়ার সম্ভাবনা বাড়তে পারে। তাই খিঁচুনি আক্রান্ত শিশুর ক্ষেত্রে পর্যাপ্ত ও নিয়মিত ঘুম অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
স্ক্রিন টাইম ও শিশুর বিকাশ
অতিরিক্ত ও অনিয়ন্ত্রিত স্ক্রিনে থাকা ছোট শিশুদের ভাষা, মনোযোগ, সামাজিক যোগাযোগ, ইমোশন এবং অন্যান্য ডেভেলপমেন্ট স্কিলের ওপর নেতিবাচক প্রভাবের সঙ্গে সম্পর্কিত।
তাহলে শিশুর স্ক্রিন টাইম কেমন হওয়া উচিত?
ছোট শিশুদের ক্ষেত্রে স্ক্রিনের পরিবর্তে সরাসরি বাবা-মায়ের সঙ্গে কথা বলা, খেলাধুলা, গল্প শোনা, বই দেখা এবং বাস্তব পরিবেশে interactionএর সুযোগ দেওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
WHO-এর নির্দেশনা অনুযায়ী, ১ বছরের শিশুদের জন্য sedentary screen time recommended নয় এবং ২-৪ বছর বয়সে দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টা, কম হলে আরও ভালো।
American Academy of Pediatrics (AAP) ১৮ মাসের কম বয়সী শিশুদের ক্ষেত্রে screen media এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেয়, interactive video chatting ব্যতিক্রম হিসেবে বিবেচিত হতে পারে। ২-৫ বছর বয়সে হাই কোয়ালিটি কনটেন্ট দিনে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টার মধ্যে রাখা এবং সম্ভব হলে অভিভাবকের সঙ্গে একসঙ্গে দেখার পরামর্শ দেওয়া হয়।
শিশুর ঘুমের ক্ষেত্রে স্কিন হাইজিন গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ঘুমানোর আগে স্ক্রিন ব্যবহার কমানো এবং শিশুর শোবার ঘর স্ক্রিন ফ্রি রাখা ভালো অভ্যাস।
চিকিৎসকের পরামর্শ
শিশুর কোনো অস্বাভাবিক অবস্থা দেখলে সেটিকে শুধু স্কিন রিলেটেড বিহেবিয়ার মনে না করে প্রয়োজন হলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়াই সবচেয়ে নিরাপদ সিদ্ধান্ত।