সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর জাল, অতিরিক্ত পুলিশ সুপার শাহাবুদ্দীন কারাগারে

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০১:০৯ এএম

সাবেক স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার স্বাক্ষর নকল করে প্রতারণা ও জালিয়াতির অভিযোগে করা মামলায় অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বহিষ্কৃত) শাহাবুদ্দীন আহমদকে কারাগারে পাঠিয়েছে আদালত।

সোমবার (১৪ সেপ্টেম্বর) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইনের আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন। উভয় পক্ষের শুনানি শেষে আদালত জামিনের আবেদন  নাকচ করে দিয়ে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন। 

মামলার অভিযোগ থেকে জানাযায়, ২০১৯ সালের পর কক্সবাজারের শাহপরীর দ্বীপ করিডোর দিয়ে মায়ানমার থেকে গরু আমদানি বন্ধ করা হয়। যায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সময়ে পুনরায় আমদানি কার্যক্রম শুরু করার পরিকল্পনা থেকে কক্সবাজারের ব্যবসায়ী আলাউদ্দিন রবিন সরকারি অনুমোদন পাওয়ার চেষ্টা করেন। 

এজন্য তিনি স্থানীয় পরিচিত ব্যক্তি খোরশেদ আলমের সঙ্গে যোগাযোগ করেন। যিনি একটি বেসরকারি ব্যাংক কর্মকর্তা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অধীনে পাবলিক-প্রাইভেট পার্টনারশিপ (পিপিপি) কর্তৃপক্ষের মহাপরিচালক ও যুগ্ম সচিব মফিদুল আলমের ভাই। সরকারি উচ্চপর্যায়ের সংযোগ থাকার কথা বলে খোরশেদ আলম তাকে গরু আমদানির অনুমোদন নিয়ে দিতে পারবেন বলে আশ্বস্ত করেন।

এক পর্যায়ে তাকে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে আবেদন করতে বলা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে তৎকালীন স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশসহ ৫ লাখ গরু আমদানি করার মঞ্জুরিপত্র ইস্যু করা হয়। পরে আলাউদ্দিন রবিন ঢাকায় এসে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে খোঁজ নিতে গেলে জানতে পারেন এমন কোনো আবেদন মন্ত্রণালয়ে আসেনি। 

পরবর্তীতে এ ঘটনায় রাজধানীর পল্লবী থানায় এ মামলাটি  করে ডিবি পুলিশ। তদন্ত শেষে ৫ জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র (চার্জশিট) জমা হয়। সেখানে উঠে আসে সংঘবদ্ধ এক প্রতারক চক্রের কারবার। যুগ্ম সচিবের ভাই থেকে শুরু করে অতিরিক্ত পুলিশ সুপারসহ ৫ জনের এই চক্র প্রতারণার মাধ্যমে শতকোটি টাকা হাতিয়ে নেওয়ার প্রচেষ্টা চালায়। সিআইডির তদন্তে উঠে আসে অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাময়িক বহিষ্কৃত) শাহাবুদ্দীন আহমদের নাম। 

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা সিআইডির পরিদর্শক আবুল কালাম তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করেন, ২০২৫ সালের ২ মার্চ ‘কুড়িগ্রাম জেলার সদর উপজেলার সীমান্ত এলাকায় অবস্থিত ২২ নম্বর বর্ডার গার্ড ব্যাটালিয়ন নিয়ন্ত্রণাধীন যাত্রাপুর বিওপির বিট খাটালটি ১৪৩১ বঙ্গাব্দের জন্য নবায়ন/পরিচালনার অনুমতি প্রদান প্রসঙ্গে’ এমন আবেদন প্রথমে শাহাবুদ্দীন আহমদের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবাল ওরফে রাঙ্গাকে পাঠানো হয়। 

জাফর ইকবাল পরে জাবেদ ও খোরশেদ আলমকে আবেদনের কপি হোয়াটসঅ্যাপ করেন। যেটার আদলে আরেকটি আবেদন তৈরি করতে বলা ব্যবসায়ী আলাউদ্দিনকে। যার মাধ্যমে তিনি ৩ মার্চ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে পাঠানোর জন্য আবেদন প্রস্তুত করে স্ক্যান কপি হোয়াটসঅ্যাপের মাধ্যমে খোরশেদ আলমকে পাঠান। 

শাহাবুদ্দীন ও জাফর ইকবালের হোয়াটসঅ্যাপের কথোপকথনে সরকারি বিভিন্ন কর্মকর্তার বদলির সুপারিশও পাওয়া যায়। আলাউদ্দিন রবিনের করা ‘কক্সবাজার জেলায় টেকনাফ উপজেলার শাহপরীর দ্বীপ মৌজার শাহ পরীর দ্বীপ বিওপিও ক্যাম্পের অধীনে সীমান্ত এলাকায় বিট/খাটাল স্থাপনের ৫ লাখ গবাদি পশুর আমদানির অনুমতি প্রদানের আবেদন প্রসঙ্গে’ আবেদনের কপিতে স্বরাষ্ট্র উপদেষ্টার সুপারিশসহ স্বাক্ষর পুলিশ কর্মকর্তা শাহাবুদ্দীনের হোয়াটসঅ্যাপ নম্বর থেকে জাফর ইকবালের নম্বরে পাঠানো হয়।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত