হরমুজ নিয়ে পূর্বনির্ধারিত বৈঠক স্থগিত

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:০৩ এএম

উপসাগরীয় অঞ্চলে চলমান উত্তেজনা প্রশমনে কূটনৈতিক উদ্যোগে নতুন করে ধাক্কা লেগেছে। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে ইরান ও উপসাগরীয় দেশগুলোর মধ্যে আলোচনার জন্য ওমানে অনুষ্ঠেয় একটি গুরুত্বপূর্ণ আঞ্চলিক বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। ওমানের সালালাহ শহরে গতকাল সোমবার এ বৈঠক হওয়ার কথা ছিল। এতে ইরান ও উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) সদস্য দেশগুলোর পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের অংশ নেওয়ার কথা ছিল। গত রবিবার রাতে ওমানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী সায়িদ বদর আলবুসাইদি জানান, ‘ঐকমত্যের স্বার্থে’ নির্ধারিত বৈঠকটি স্থগিত করা হয়েছে। তিনি বলেন, গঠনমূলক সংলাপের জন্য উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করতেই বৈঠকটি পরবর্তী সময়ের জন্য পিছিয়ে দেওয়া হয়েছে। তবে নতুন তারিখ এখনো ঘোষণা করা হয়নি। বৈঠকে হরমুজ প্রণালিতে নৌচলাচল কীভাবে পরিচালিত হবে, সে বিষয়ে ওমানের সঙ্গে করা একটি চুক্তি তুলে ধরার কথা ছিল।

ইরানের পক্ষ থেকেও বৈঠক স্থগিতের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে। তেহরান জানিয়েছে, কয়েকটি আঞ্চলিক দেশের অনুরোধের পর ইরান ও ওমান যৌথভাবে বৈঠকটি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত নেয়। ওমানের সঙ্গে সমন্বয় করে পরে নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হবে। তবে ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাইয়ের বরাত দিয়ে তুর্কি বার্তা সংস্থা আনাদোলু এজেন্সি গতকাল সোমবার জানিয়েছে, সৌদি আরবে অনুরোধে এই বৈঠক স্থগিত করা হয়েছে। এর আগে ইরানি কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, তারা বৈঠকে অংশ নেবেন এবং হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল ব্যবস্থাপনা নিয়ে ওমানের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে তৈরি একটি প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন। এই উদ্যোগের লক্ষ্য ছিল উত্তেজনাপূর্ণ পরিস্থিতির মধ্যেও বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য তুলনামূলক নিরাপদ একটি ব্যবস্থা তৈরি করা।

বৈঠক স্থগিত হওয়ার সময়টিও বিশেষভাবে গুরুত্বপূর্ণ। কারণ, একই সময়ে হরমুজ ও লোহিত সাগরের বাব আল মান্দেব প্রণালি দিয়ে তেল পরিবহনে নিরাপত্তা সংকট তৈরি হয়েছে। গত ১০ সেপ্টেম্বর সৌদি আরবের প্রায় ১ হাজার ২০০ কিলোমিটার দীর্ঘ ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইনের কয়েকটি স্থানে ড্রোন হামলা হয়। সৌদি কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরাক থেকে আসা কয়েকটি ড্রোনের মাধ্যমে হামলা চালানো হয়। এতে হতাহতের পাশাপাশি পাইপলাইনের অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়। এরপর নিরাপত্তার কারণে গুরুত্বপূর্ণ এই পাইপলাইনটি বন্ধ করে দেয় সৌদি আরব। দেশটির জ্বালানি ও খনিজসম্পদ মন্ত্রণালয়ের একটি সূত্র জানিয়েছে, হামলায় পাইপলাইনের বেশ ক্ষয়ক্ষতি হওয়ায় মেরামতের আগে সেটি ফের চালু করা সম্ভব নয়। বার্তা সংস্থা রয়টার্সের সঙ্গে যারা কথা বলেছেন তারা পাইপলাইনটির ক্ষয়ক্ষতি মেরামতের সময় নিয়ে ভিন্ন ভিন্ন ধারণা দিয়েছেন। কেউ বলেছেন, মেরামতে ৫-৬ সপ্তাহ পর্যন্ত সময় লাগতে পারে। আবার কেউ বলেছেন, এর চেয়ে কম সময়েই মেরামত সম্ভব এবং মেরামতের কাজ চলাকালে পাইপলাইনটি আংশিকভাবে চালু করা যেতে পারে।

এদিকে, সৌদি আরবে হুতিদের হামলা এবং হরমুজে ইরানি জাহাজে হামলার ঘটনায় বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বেড়েছে। সৌদির ইস্ট-ওয়েস্ট তেল পাইপলাইন বন্ধ থাকায় আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম ২ শতাংশ বেড়েছে। গতকাল সোমবার ব্রেন্ট ক্রুড বা অপরিশোধিত তেলের দাম ২.৯০ ডলার বা ২.৭৭ শতাংশ বেড়ে ব্যারেলপ্রতি ১০৭.৫১ ডলারে দাঁড়ায়। যুক্তরাষ্ট্রের ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ক্রুডের দাম ২.২৭ ডলার বা ২.২৭ শতাংশ বেড়ে হয়েছে ১০২.৩২ ডলার। দিনের শুরুতে এই দাম ৩ শতাংশেরও বেশি বেড়েছিল।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত