সৌদি আরবের সঙ্গে হুতি বিদ্রোহীদের সংঘাতে ত্রি-পক্ষীয় লড়াইয়ের ময়দানে পরিণত হয়েছে ইয়েমেন। সৌদি আরবে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার জবাবে হুতিদের নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলে বিমান হামলা চালাচ্ছে রিয়াদ। পাশাপাশি সৌদি সমর্থিত ইয়েমেনে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে হুতিদের সংঘর্ষও তীব্র আকার নিয়েছে। এতে সাধারণ মানুষের বাস্তুচ্যুতি বাড়ছে। হুতিদের সামরিক মুখপাত্র ইয়াহিয়া সারি গতকাল রবিবার জানিয়েছেন, দক্ষিণ সৌদি আরবের একটি সামরিক ঘাঁটিতে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালানো হয়েছে। সামাজিক মাধ্যম এক্সে দেওয়া পোস্টে তিনি জানান, নাজরান প্রদেশের শারুরাহ সামরিক ঘাঁটির অস্ত্রের গুদাম ও নিয়ন্ত্রণকেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা হয়েছে। সারি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, সৌদি আরব যদি নতুন করে ইয়েমেনে কোনো হামলা চালায় তাহলে দেশটিতে আরও বিস্তৃত, তীব্র ও গভীরে হামলা চালানো হবে।
তবে সৌদি আরবের বেসামরিক সুরক্ষা বিভাগ জানিয়েছে, হুতি বিদ্রোহীদের ছোড়া একটি অজ্ঞাত বস্তু (ক্ষেপণাস্ত্র/ড্রোন) সৌদি আরবের দক্ষিণের জাজান অঞ্চলে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় দুজন আহত হয়েছেন। হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন ও গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিভাগটির মুখপাত্র বলেন, এ ঘটনার পরপর জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য নির্ধারিত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, বেসামরিক স্থাপনায় যেকোনো ধরনের হামলা আন্তর্জাতিক মানবিক আইনের ‘সুস্পষ্ট লঙ্ঘন’।
গত শনিবার ইয়েমেনের সরকারি বাহিনী লোহিত সাগরের বন্দরনগর মোখায় হুতি যোদ্ধাদের ওপর হামলা চালানোর কথা জানায়। পরে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের তাইজ এলাকায় হুতিদের অবস্থান লক্ষ্য করে বিমান হামলা চালানো হয়। হুতিদের দাবি, গত ৪৮ ঘণ্টায় তাদের নিয়ন্ত্রিত এলাকায় সৌদি বিমানবাহিনী ১২৯টি হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে, সৌদি কর্র্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সীমান্তের কাছে হুতিদের ছোড়া একটি ক্ষেপণাস্ত্র পড়েছে। এতে দুজন আহত হওয়ার পাশাপাশি একটি মসজিদ, কয়েকটি ভবন ও যানবাহন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইয়েমেনে সাম্প্রতিক সংঘাতে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে বলে উভয় পক্ষের সূত্র জানিয়েছে।
জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম) ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের তথ্য অনুযায়ী, এ লড়াইয়ে এরই মধ্যে পাঁচ শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন। গত জুলাই থেকে লড়াইয়ের কারণে প্রায় ৭৬ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়েছে। গত এক সপ্তাহে বাস্তুচ্যুত মানুষের সংখ্যা চার গুণ বেড়েছে। প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষ পাশের দেশ জিবুতিতে আশ্রয় নিয়েছে। ইয়েমেনের অর্থমন্ত্রী ইলিয়াস মুসা দাওয়ালেহ এই তথ্য নিশ্চিত করেন বলে জানিয়েছে আলজাজিরা। হুতিরা কৌশলগতভাবে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বাব আল-মান্দেব প্রণালিসহ ইয়েমেনের লোহিত সাগরীয় উপকূল পুরোপুরি নিজেদের দখলে নিয়েছে। এতে বিশ্বজুড়ে তেল, গ্যাসসহ জ্বালানি সরবরাহে আরও বিঘœ ঘটার ঝুঁকি তৈরি হয়েছে।
এদিকে, হুতি বিদ্রোহীদের কাছে লোহিত সাগর তীরবর্তী পূর্ব উপকূলের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চল হারানোর পর আবার সেগুলোর নিয়ন্ত্রণ নিতে প্রস্তুত হচ্ছে ইয়েমেনের সরকারি বাহিনীর সেনারা। দেশটির আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত সরকারের সদস্য এবং মারিব প্রদেশের গভর্নর সুলতান আল-আরাদা এ তথ্য জানিয়েছেন। তিনি বলেছেন, সেনাবাহিনীর সদস্যরা পুনর্গঠিত হচ্ছে এবং তারা শিগগিরই যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যাবে। সরকারি টিভি চ্যানেল সাবাকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে সুলতান আল-আরাদা বলেছেন, পূর্ব উপকূলে হুতিদের বিরুদ্ধে তাদের যে পরাজয় হয়েছে এটি ‘যন্ত্রণাদায়ক এবং দুর্ভাগ্যজনক’। তবে যুদ্ধে এ ধরনের ধাক্কা খুবই স্বাভাবিক বিষয়।