হাওরাঞ্চলের মানুষের সরলতা ও আন্তরিকতা মুগ্ধ করেছে

আপডেট : ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৬, ০৭:১৩ এএম

জনপ্রিয় অভিনেত্রী রুনা খান। বৈচিত্র্যময় চরিত্রে সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে দীর্ঘদিন ধরে তিনি দর্শকদের মুগ্ধ করে আসছেন। সম্প্রতি সুনামগঞ্জের হাওরাঞ্চলে শেষ করেছেন রাজন তালুকদারের পরিচালনায় পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘জলপবন’-এর শুটিং। নদী ও সাধারণ মানুষের জীবনবোধকে কেন্দ্র করে নির্মিত এই চলচ্চিত্রে তিনি অভিনয় করেছেন ‘নিরালা’ নামের এক বিশেষ চরিত্রে। শুটিংয়ের নানা অভিজ্ঞতা ও সাম্প্রতিক কাজ নিয়ে কথা বলেছেন তিনি। সাক্ষাৎকার নিয়েছেন তারেক আনন্দ

‘জলপবন’ চলচ্চিত্রে আপনার চরিত্রের নাম ‘নিরালা’। এই চরিত্রটি নিয়ে আপনার ম্গ্ধুতার কথা জানতে চাই।

নিরালা শান্ত ও স্থির প্রকৃতির একজন নারী, যে নিজের সাধ্যমতো চারপাশের মানুষকে সহযোগিতা করার চেষ্টা করে। সাধারণ এক শান্তিপূর্ণ জীবন এবং মাতৃত্বের প্রতীক্ষাই তার মূল ভাবনা। হাওরাঞ্চলের নারীদের দৈনন্দিন গৃহস্থালি কাজ ও সাধারণ জীবনযাপন চরিত্রটিতে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। চিত্রনাট্য পড়ার পর মনে হয়েছে, চরিত্রটি আমাদের দেশের সাধারণ মানুষের জীবন ও জীবনবোধের খুব কাছাকাছি। এ ধরনের নিজস্ব সংস্কৃতির গল্প ও চিত্রনাট্য আমাকে সবসময়ই টানে।

সিনেমায় আপনার সহশিল্পী ও অন্য চরিত্রগুলো কেমন ছিল?

নিরালা চরিত্রটি ছাড়া গল্পে আরও কয়েকটি দারুণ রূপায়ণ  রয়েছে। যেমন বয়াতি চরিত্রে অভিনয় করেছেন সামিউল হক, ফেরিওয়ালার ভূমিকায় রয়েছেন সুশান্ত এবং চার-পাঁচ বছরের শিশুশিল্পী বৃন্দা অভিনয় করেছে ‘কুহু’ চরিত্রে। এটি তার জীবনের প্রথম কাজ হলেও বেশ ভালো অভিনয় করেছে সে। সিনেমার নির্দেশক রাজন তালুকদার নিজেই সুনামগঞ্জের সন্তান। বিসিটিআই থেকে চলচ্চিত্র বিষয়ে পড়াশোনা করা এই তরুণ নির্মাতার সঙ্গে পুরো টিমের প্রত্যেকেই চলচ্চিত্র নিয়ে পড়াশোনা করা স্বপ্নবাজ তরুণ। সবার সম্মিলিত প্রয়াস কাজটিতে আলাদা মাত্রা যোগ করেছে।

শুটিং চলাকালে হাওরাঞ্চলের পরিবেশ ও স্থানটির অভিজ্ঞতা কেমন ছিল?

শুটিংয়ের জায়গাটি একদমই বিলাসবহুল ছিল না, তবে পুরো টিম আমার জন্য সর্বোচ্চ আরামদায়ক পরিবেশ নিশ্চিত করেছে। যে গ্রামে কাজ করেছি, হাওরাঞ্চলের মানুষের সরলতা ও আন্তরিকতা আমাকে মুগ্ধ করেছে। তারা শিল্পের ভীষণ সমজদার; যাত্রাপালা ও কীর্তনের মতো লোকসংস্কৃতির সঙ্গে পরিচিত। কারেন্ট না থাকায় রাতে সাধারণত গ্রামবাসী জলদি ঘুমিয়ে পড়লেও শুটিংয়ের প্রয়োজনে আমাদের পাশে থেকে তারা সার্বিক সহযোগিতা করেছেন। সম্ভবত ওই গ্রামে এটিই ছিল প্রথম কোনো সিনেমার ধারণকাজ, যা নিয়ে স্থানীয়রাও বেশ আনন্দিত ছিলেন।

শুটিংয়ের ক্ষেত্রে হাওরের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য কেমন লেগেছে?

এর আগে শীতকালে শুকনো মৌসুমে সুনামগঞ্জে কাজ করতে গিয়েছি, তখন শুধু মাইলের পর মাইল ধানক্ষেত দেখেছি। তবে বর্ষাকালের হাওর যে কতটা চোখজুড়ানো হতে পারে, এবার নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতো না। আমাদের থাকার ঘরের জানালা খুললেই চারদিকে পানি, আর দূরে মেঘালয়ের পাহাড়। রাতে পাহাড়ে লাইটের আলো আর মেঘের খেলা সত্যিই অপূর্ব। বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় প্রকৃতির রূপ আমি আগেও দেখেছি, কিন্তু হাওরের বর্ষার সৌন্দর্য আমাকে এক আলাদা অনুভূতি দিয়েছে।

এই সিনেমাটির বিশেষত্ব বা ভাবনার দিক কোনটি?

গল্পটিতে চমৎকার শিল্পবোধের পাশাপাশি সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন যাপন খুব সুন্দরভাবে তুলে ধরা হয়েছে। বিশেষভাবে হাওরাঞ্চলের সামাজিক সম্প্রীতি ও মানুষের ভেতরের অসাম্প্রদায়িক চেতনা এখানে দারুণভাবে প্রতিফলিত হয়েছে। তরুণ নির্মাতার পরিচালনায় একটি পরিচ্ছন্ন ও নিখাদ জীবনবোধের গল্প নিয়ে কাজ করতে পেরে আমি দারুণ তৃপ্ত।

আপনার হাতে বর্তমানে আর কী কী নতুন চলচ্চিত্রের কাজ রয়েছে?

‘জলপবন’ শেষ করার মাধ্যমে আমার পাঁচটি চলচ্চিত্রের চিত্রনাট্য ও দৃশ্যায়ন সম্পন্ন হলো। প্রতিটি কাজই স্বাধীন ধারার চলচ্চিত্র। এর মধ্যে রয়েছে কৌশিক শংকর দাসের ‘দাফন’, নরসিংদীর মেঘনার চরে শুট করা মাসুদ পথিকের ‘বক’, জাহিদ হোসেনের ‘লীলা মন্থন’ এবং নড়াইলের চিত্রা নদীর পাড়ে তৈরি সন্দীপ বিশ্বাসের ‘অসীমের পানে’। অভিনয়ের পর ডাবিং ও আনুষঙ্গিক প্রক্রিয়া শেষ করে এগুলো মুক্তির বিষয়ে প্রযোজক ও পরিচালক সিদ্ধান্ত নেবেন। আশা করছি, ভিন্নধর্মী কাজগুলো দর্শকদের পছন্দ হবে।

চলচ্চিত্রের বাইরে অন্য আর কী কাজে ব্যস্ত আছেন?

চলচ্চিত্রের পাশাপাশি বছরের নির্দিষ্ট কিছু কাজই আমার করা হয়। বর্তমানে ডিজিটাল সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠান ‘নগদ’-এর ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হিসেবে দায়িত্ব পালন করছি এবং তাদের বিজ্ঞাপনী প্রচারে অংশ নিচ্ছি। এ ছাড়া মানসম্মত নাটক, ওটিটি ও বিজ্ঞাপন মিলিয়েই আমার যত ব্যস্ততা।

সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত